মুহূর্তেই শেষ ঈদ আনন্দ, তারাগঞ্জে একই পরিবারের ৪ জনসহ নিহত ৬ !

১১:৩৯ অপরাহ্ন | শুক্রবার, জুলাই ৮, ২০১৬ ফিচার

2016_07_08_21_47

ফাইল ফটো


স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সময়ের কণ্ঠস্বর-

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় বাস চাপায় ৬ ভ্যান যাত্রী নিহত হয়েছে। এর মধ্যে চারজন একই পরিবারের। এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে অন্তত ২ জন।

ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে মা রওশন আরা তার চার বছরের শিশু মোস্তাকিমকে কোলে নিয়ে বসেছেন। সঙ্গে পরিবারের অন্যরাও রয়েছে। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে যাচ্ছিলেন তারা। দ্রুত গতিতেই এগিয়ে যাচ্ছিলো ভ্যানটি। তখনও মুখভরা হাসি আর গল্পে মাতোয়ারা সবাই। হঠাৎ বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী একটি বাসের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেল ভ্যানটি। মুহূর্তেই থেমে গেল ওদের সব আনন্দ গল্প, হাসিমাখা মুখগুলো লাল রক্তে নিথর হয়ে রাস্তায় ছিটকে পড়ে। ঘাতক বাসের আঘাতে নিভে গেল মা ও শিশুসহ একই পরিবারের ৬ জনের প্রাণ প্রদীপ। পথেই শেষ হলো ওদের ঈদ আনন্দ যাত্রা।

ঈদের দ্বিতীয়দিন শুক্রবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার জিগাতলা এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে তিন নারী, একশিশু এবং দুইজন পুরুষ নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন আরো ৩ ভ্যান আরোহী।

নিহতরা হলেন- রওশন আরা (৫০), দুলালি (৩০), মোস্তকিম (৪), শহিদুল ইসলাম (৪০) ও শাহনাজ পারভীন (২১)। তবে ভ্যানচালকের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তাদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যা ছয়টার দিকে দিনাজপুর থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী একটি মিনিবাস তারাগঞ্জ উপজেলার জিগাতলা নামক এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ব্যাটারিচালিত ভ্যানটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ভ্যানচালকসহ ৫ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। হাসপাতালে যাওয়ার পথে ডিগ্রিপড়ুয়া ছাত্রী শাহনাজ পারভিন মারা যান।

এদিকে ঘটনার পর পরই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

নিহতরা নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার চেংমারি মাঝাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। বিকেলে তারা রংপুর থেকে অটোরিক্সায় চড়ে সৈয়দপুরে এক বিয়ে বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিল।

তারাগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে বাসচালক পালিয়ে যায়। এব্যাপারে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।