সংবাদ শিরোনাম

হাসপাতালের ওষুধ পাচারের ছবি তোলায় ১০ সংবাদকর্মী তালাবদ্ধবঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ স্বাধীনতার প্রকৃত ঘোষণা: প্রধানমন্ত্রীনির্মাণকাজ শেষের আগেই ‘মডেল মসজিদের’ বিভিন্ন স্থানে ফাটলআহসানউল্লাহ মাস্টারসহ ১০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান পাচ্ছেন স্বাধীনতা পুরস্কারঐতিহাসিক ৭ মার্চের সুবর্ণ জয়ন্তী: টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে মানুষের ঢলচট্টগ্রাম কারাগারে হাজতি নিখোঁজ, জেলার-ডেপুটি জেলার প্রত্যাহারদেবীগঞ্জে ট্রাক্টরের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যুকরোনার এক বছর: মৃত্যু ৮৪৬২, শনাক্ত সাড়ে ৫ লাখটাঙ্গাইলে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উদযাপনমোবাইল ইন্টারনেট গতিতে উগান্ডারও পেছনে বাংলাদেশ

  • আজ ২২শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ব্লগার রাজীব হত্যা মামলার আসামী নর্থ সাউথের ছাত্র জুনুন  নিখোঁজ ১০ যুবকের একজন 

৩:১২ পূর্বাহ্ন | শনিবার, জুলাই ৯, ২০১৬ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –   রাজধানীর গুলশান হামলার পর অন্তত ১০ যুবকের সন্ধান চেয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আবেদন করেছে তাদের পরিবার। এই ১০ যুবকের একজন হলেন জুনুন শিকদার, যিনি ব্লগার রাজীব হায়দার শোভন হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন ছিলেন বলে সূত্র জানায়।

junun

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ব্লগার রাজীব হায়দার হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রেদওয়ানুল আজাদ রানার সঙ্গে জুনুনের ঘনিষ্ঠতা ছিল। রাজীবকে হত্যার দিনও তার সঙ্গে জুনুনের যোগাযোগ হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় একযুগ আগে জুনুন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের হাত ধরে জঙ্গি দল জেএমবিতে যোগ দেয়। এরপর তার পরিচয় হয় জসিম উদ্দিন রাহমানীর সঙ্গে। ২০০০ সালে জুনুন ভর্তি হন নর্থ-সাউথ ইউনির্ভাসিটির কম্পিউটার সায়েন্স ডিপার্টমেন্টে।

সেখানেই তার সঙ্গে পরিচয় হয়, রেজোয়ান শরীফের। তার মাধ্যমে জুনুনের পরিচয় হয় জামায়াতুল মুসিলিমিন সংগঠনের বাংলাদেশের আমির ইজাজ হোসেনের।

জামায়াতুল মুসিলিমিন সংগঠনের আন্তর্জাতিক আমির জর্ডান বংশোদ্ভুত ব্রিটিশ নাগরিক শেখ আবু ইসরা আলী আররিফাই আল হাশেমী আল কোরাইশি ওরফে আবু মুসা বাংলাদেশে এসেছিলেন ২০০২ সালে।

সূত্র জানায়, তখন তিনি নর্থ-সাউথ ইউনির্ভাসিটির কাছাকাছি এলাকায় বাসা ভাড়া নেন এবং কার্যক্রম শুরু করেন। বাংলাদেশি এক মেয়েকে বিয়ে করে কয়েক বছর ছিলেন বাংলাদেশে। পরে লন্ডন পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন ইংল্যান্ডে ফেরার পথে। আর তখন বাংলাদেশে জামায়াতুল মুসলিমিনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। আর জুনুন নর্থ-সাউথ বাদ দিয়ে ভর্তি হন দারুল ইহছান বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগে।

ব্লগার রাজীব হায়দার হত্যা মামলাতেও তিনি জড়িত ছিলেন বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে। এদিকে, র‌্যাবের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, নিখোঁজ এই ১০ যুবক কোথায় আছে, সেটার অনুসন্ধান শুরু করেছেন তারা।

জুনুন শিকদারের পাসপোর্ট নম্বর-বি ই ০৯৪৯১৭২। তার পরিচিতজনরা জানান,ত্রিশের কোঠায় অত্যন্ত আকর্ষণীয় চেহারার এই জুনুন প্রচুর পড়াশোনা করতেন এবং ব্যবহারে ছিলেন অত্যন্ত মার্জিত। তার নিজের গড়া লাইব্রেরিতেই বই ছিল প্রায় পাঁচ হাজারের মতো। দুই ভাইবোনের মধ্যে তিনি বড়। বাবা ব্যবসায়ী।

২০১৩ সালে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ডিবি পুলিশ এক অভিযানে জুনুনসহ নয়জনকে গ্রেফতার করে। জানা যায়, সেখানে জুনুন বলেন, সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তিনি শরিয়াভত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আল-কায়েদার অনুরূপ নীতি ও আদর্শে বিশ্বাস করেন এবং সশস্ত্র জিহাদেও তিনি অংশ নিতে চান। তবে সেটি দেশে নয়, বিদেশে। বিদেশে জিহাদ করার কারণ হিসেবে তিনি দেশে জিহাদ করার মতো অবস্থান তৈরি হয়নি বলেও জানিয়েছিলেন।

আমি দাওয়াত নিয়ে কাজ করি এবং দাওয়াতি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইসলাম সর্ম্পকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে আকৃষ্ট করি বলেছিলেন, জুনুন। আর এ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়া এবং তা নিয়ে অনুশোচনা না করার কথাও বলেন তিনি।

জুনুন বলেছিলেন, এসব নিয়ে অনুশোচনা করিনা। কারণ, অনেক কিছু ভাবার সময় এসেছে। কারণ, মিয়ানমারে মুসলমানদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে। আর এ জন্য তিনি কয়েকজনকে নিয়ে মিয়ানমারে যাওয়ার চেষ্টাও করেন। ইচ্ছা ছিল পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও সিরিয়া যাবার। জেল থেকে মুক্তি পেলে তার ইচ্ছা তিনি পূরণ করবেন বলেও জানিয়েছিলেন।

জুনুন ছাড়াও নিখোঁজ নয় যুবকের সন্ধান চেয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তারা হচ্ছেন, ঢাকার তেজগাঁওয়ের মোহাম্মদ বাসারুজ্জামান, বাড্ডার জুনায়েদ খান (পাসপোর্ট নম্বর- এ এফ ৭৪৯৩৩৭৮), চাপাইনবাবগঞ্জের নজিবুল্লাহ আনসারী, ঢাকার আশরাফ মোহাম্মদ ইসলাম (পাসপোর্ট নম্বর-৫২৫৮৪১৬২৫), সিলেটের তামিম আহমেদ চৌধুরী (পাসপোর্ট নম্বর-এল ০৬৩৩৪৭৮), ঢাকার ইব্রাহীম হাসান খান (পাসপোর্ট নম্বর-এ এফ ৭৪৯৩৩৭৮),লক্ষ্মীপুরের এটিএম তাজউদ্দিন (পাসপোর্ট নম্বর- এফ ০৫৮৫৫৬৮), ঢাকার ধানমণ্ডির জুবায়েদুর রহিম (পাসপোর্ট নম্বর-ই ১০৪৭৭১৯), সিলেটের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ওজাকি (পাসপোর্ট নম্বর-টি কে ৮০৯৯৮৬০)।