কামারপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস আগুনে জ্বালিয়ে দেয়ার চেষ্টা

৭:৪৭ অপরাহ্ন | রবিবার, জুলাই ১০, ২০১৬ দেশের খবর, মফস্বল সংবাদ

মোঃ মহিবুল্লাহ্ আকাশ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরের একটি বিদ্যালয়ে আগুন দিয়ে অফিস ঘর জ্বালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষে আগুন দেয়ার ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় সৈয়দপুর থানায় জিডি করেছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

13647198_630796217085408_1809522962_o

অগ্নিকান্ডের স্থান দেখতে অফিসে ছাত্ররা

জানা যায়, গত ৭ জুলাই দিবাগত রাতে প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষের পেছনের জানালার একটি কাঁচ ভেঙ্গে কেরোসিন তেল মিশিয়ে খড়ের মধ্যে আগুন দিয়ে তা ভেতরে ছুঁড়ে মারে দুর্বৃত্তরা। অফিস কক্ষে পরীক্ষার অনেক খাতা-পত্র ছাড়াও বিদ্যালয়ের কাগজ-পত্রাদি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছিল। এ বিষয়ে কামারপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীন জানান, এই বিদ্যালয়টিকে ধ্বংসের অপচেষ্টায় দীর্ঘ তিনমাস থেকে একটি চিহ্নিত চক্র উঠেপড়ে লেগেছে। ওই চক্রটি কামারপুকুর বাজারে মাইক লাগিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশের নামে বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে নানা কুৎসা রটাচ্ছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন ভাবে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়ে প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংশের লক্ষ্যে অফিস ঘর জ্বালিয়ে দেয়ার মত জঘন্য অপচেষ্টা করেছে তারা। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নপত্র, নথিপত্র জ্বালিয়ে দিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ধ্বংস করার জন্যই তারা এ আগুন দিয়েছে। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় সেই আগুন দেয়া খড়ের স্তুপ চেয়ারে লেগে মেঝেতে পড়ে, ফলে দুর্বৃত্তদের অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়। এ ব্যাপারে থানায় জিডি করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসনের কাছে আমরা বিদ্যালয় ধ্বংসে এমন হীন অপচেষ্টাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এ ব্যাপারে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমীরুল ইসলাম জানান, কামারপুকুর বাজারের মুদি দোকানদার আতাউর রহমান বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে আগুন দিয়েছে মর্মে একটি জিডি পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে আতাউর রহমান বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, আমার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ মিথ্যা। সৈয়দপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাকেরিনা বেগম জানান, প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।