সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ১৪ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ধর্মীয় মৌলবাদ ও রাষ্ট্রীয় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান


সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –   উগ্রবাদী সন্ত্রাসের প্রতিবাদে ১৩ জুলাই দেশব্যাপী ‘বিক্ষোভ দিবস’ ঘোষণা
গুলশান হত্যাকা-, শোলাকিয়ায় হামলাসহ সারাদেশে অব্যাহত গুপ্তহত্যা ও বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার আয়োজনে আজ ১০ জুলাই সকাল সাড়ে ১১টায় তোপখানা রোডস্থ কমরেড নির্মল সেন মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

bam-morcha
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়,
“গত ১ জুলাই গুলশানের ‘হলি আর্টিজান’ রেস্টুরেন্টে আইএস নামধারী ধর্মীয় মৌলবাদীদের হাতে বিদেশিসহ ২২জন মানুষের নৃশংস হত্যাকা-ের ঘটনায় দেশবাসীর সাথে আমরাও গভীরভাবে বেদনাহত, উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ। এর এক সপ্তাহের মাথায় ৭ জুলাই ঈদের দিন কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাতকে লক্ষ্য করে সংলগ্ন এলাকায় পরিচালিত সন্ত্রাসী আক্রমণে ৪ জনের মৃত্যু ঘটেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। এই হামলা প্রমাণ করছে – ধর্মান্ধ উগ্রবাদী শক্তির হাত থেকে এমনকি ধর্মপ্রাণ মানুষও নিরাপদ নয়, নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য এরা নির্বিচারে মানুষের জীবন কেড়ে নিতে দ্বিধা করে না। আমরা বলতে চাই, ধর্মীয় শাসন প্রতিষ্ঠার শ্লোগান তুলে যারা নিরপরাধ মানুষকে খুন করে তারা চূড়ান্ত মানবতাবিরোধী শক্তি। ইসলাম রক্ষার নামে অমুসলিম ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর হামলা চালিয়ে এরা জনগণকে বিভক্ত করতে চায়, অসহিষ্ণুতা-বিদ্বেষ-হানাহানি ছড়িয়ে দিতে চায়। সন্ত্রাস-নিষ্ঠুরতার মাধ্যমে আতংক সৃষ্টি করে নিজেদের প্রতিক্রিয়াশীল মতবাদ এরা মানুষের ঘাড়ে জোর করে চাপিয়ে দিতে চায়। পরমতসহিষ্ণুতা, সকল নাগরিকের সমান অধিকার, নারী স্বাধীনতা, যুক্তিবাদসহ সকল গণতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণার বিরোধী এই ধর্মান্ধ শক্তি। আমরা মনে করি, বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সাথে এদের কোন সম্পর্ক নেই এবং এদেশের অধিকাংশ মানুষ বরাবরই তাদের প্রত্যাখ্যান করে এসেছে।
পাশাপাশি আমরা বলতে চাই, দেশে বর্তমানে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তার দায় মহাজোট সরকার এড়াতে পারে না। গুলশানের মত সুরক্ষিত কূটনৈতিক এলাকায় বিপুল অস্ত্র-বোমাসহ সন্ত্রাসীদের অনুপ্রবেশ প্রমাণ করে সরকারের ব্যর্থতায় জনজীবনে কতটা নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে। সারাদেশে একের পর এক লেখক-প্রকাশক-শিক্ষক, ব্লগার, খ্রিস্টান-হিন্দু-বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের যাজক-পুরোহিত, শিয়া-আহমদিয়া-বাহাই-সুফী হত্যার পরও সরকার এসবকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলে লঘু করে দেখাতে চেয়েছে। সবই সরকারবিরোধী চক্রান্ত বলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর দায় চাপিয়ে দলীয় ফায়দা হাসিল করতে চেয়েছে। জঙ্গীবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানের নামে ১৩ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয় যার বড় অংশই গ্রেফতার বাণিজ্যের শিকার সাধারণ মানুষ ও বিরোধী দলের নেতা-কর্মী। পুলিশী হেফাজতে থাকা বেশ কয়েকজন জঙ্গী সন্দেহভাজন কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বা ‘ক্রসফায়ার’-এ নিহত হয়েছে, যা বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের আন্তরিকতা সম্পর্কে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সরকার মত প্রকাশের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে, বহুক্ষেত্রে সরকারী কর্তাব্যক্তিদের কথাবার্তায় মৌলবাদী ও উগ্রপন্থী হামলাকারীরা উৎসাহিত হয়েছে। কালো আইন ব্যবহার করে ও বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে সরকার নিজেই মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সীমিত করেছে। এই সবকিছুর সুযোগে জঙ্গীবাদী গোষ্ঠী বেপরোয়া ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
এখনো সরকার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষিদের চিহ্নিত না করে দলীয় স্বার্থে ব্লেম গেইম ও রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের খেলা খেলছে। উগ্রপন্থা দমনের নামে এইসব তৎপরতা সরকারের আন্তরিকতা সম্পর্কে জনগণের সন্দেহ আরও ঘনীভূত করছে। জনপ্রতিনিধিত্বহীন আওয়ামী লীগ দেশে উগ্রপন্থা ও সাম্প্রদায়িকতার বিস্তারকে নিজেদের বৈধতা সৃষ্টির কাজেই ব্যবহার করছে কি না – এমন প্রশ্নও বিভিন্ন মহল থেকে উঠেছে। অন্যদিকে বিএনপি-র নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোটের ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতিও ধারাবাহিকভাবে জামাত-শিবিরসহ প্রতিক্রিয়াশীল সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মদদ দিয়ে চলেছে। ফলে, সমাজের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি-পরিবেশ ধ্বংস ও জনগণের নিরাপত্তা বিঘিœত হয়েছে।
সাংবাদিক বন্ধুগণ,
২০১৪ সলের ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচনের আগের সময়ে মহাজোট সরকার আইএস-আল কায়েদার দেশীয় সংগঠক-সমন্বয়কারী পরিচয়ে জঙ্গী গ্রেপ্তারের খবর ফলাও করে প্রচার করলেও পরবর্তীতে এদের আন্তর্জাতিক যোগসূত্র অস্বীকার করে। কিন্তু ধারাবাহিক গুপ্তহত্যার দায় স্বীকার, বিশেষ করে গুলশান হত্যাকা-ে আইএস-এর পক্ষ থেকে নিহত ও হামলাকারীদের তাৎক্ষণিক ছবি প্রকাশ এবং পরবর্তীতে হুমকিসংবলিত ভিডিও প্রচার ইত্যাদি সরকারের অস্বীকৃতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। প্রকৃতপক্ষে, বাংলাদেশের বর্তমান জঙ্গী উত্থান বিশ্ব পরিস্থিতি থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। আজ বিশ্বের দেশে দেশে এ সকল নৃশংস জঙ্গী হামলার ঘটনা ঘটছে। সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রের কর্ণধাররা সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াই ও দেশের নিরাপত্তার কথা বলে নিজেদের অস্ত্রভা-ার বাড়াচ্ছেন। কিন্তু সত্য হল এই যে, সাম্রাজ্যবাদীরাই বিভিন্ন সময় এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সৃষ্টি করেছে, মদত দিয়েছে, অস্ত্র-প্রশিক্ষণ-অর্থ দিয়েছে। আফগানিস্তানে আলকায়েদা ও মুজাহিদদের উত্থানে মার্কিন ভূমিকার কথা সবাই জানেন। পরবর্তীতে, ২০১১ সাল থেকে লিবিয়া ও সিরিয়ায় সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে সেখানকার বিভিন্ন মৌলবাদী গোষ্ঠী ও সশস্ত্র জিহাদি গ্রুপগুলোকে অস্ত্র-অর্থ-প্রশিক্ষণ দেয় মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো দেশগুলো ও সৌদি-তুরস্ক-কাতার-জর্ডানের প্রতিক্রিয়াশীল শাসকগোষ্ঠী। অন্যদিকে Ñ প্যালেস্টাইনে জাতিগত ও ধর্মীয় নিপীড়ন, ২০০১ সালে টুইন টাওয়ারে হামলার পর আমেরিকার নেতৃত্বে ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’র নামে মুসলিম দেশগুলোতে হামলা, তেলসমৃদ্ধ ইরাক দখল, আফগানিস্তান-লিবিয়া ও সিরিয়ায় আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট মুসলিম অবমাননাবোধকে কাজে লাগিয়ে আল কায়েদা-আইএস সারা বিশ্বে তাদের তৎপরতা বিস্তৃত করে। ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন উস্কানিতে সৃষ্ট শিয়া-সুন্নী-কুর্দী সংঘাতের সুযোগেই আইএস সুন্নী জনগোষ্ঠীর বঞ্চনাবোধকে কাজে লাগিয়ে সেখানে তথাকথিত খেলাফত কায়েম করেছে। সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও গণবিরোধী অত্যাচারী শাসকদের বিরুদ্ধে লড়ার সঠিক পথ না পেয়ে ওইসব দেশের দিশেহারা যুব সম্প্রদায় আজ উগ্র ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদী পথে পা বাড়িয়েছে। সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াই মনে করে বাস্তবে তারা জ্ঞাতে-অজ্ঞাতে সাম্রাজ্যবাদীদের পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করছে। সাম্রাজ্যবাদ-পুঁজিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক ও বামপন্থী শক্তির সম্মিলিত সংগ্রামকে শক্তিশালী করাই এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ।
সাংবাদিক বন্ধুগণ,
বাংলাদেশে সশস্ত্র ইসলামী জঙ্গীবাদের বিস্তার নতুন কোন ঘটনা নয়। ৮০’র দশকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ-সোৗদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের রাজতন্ত্র ও পাকিস্তানের যোগসাজশে মুসলিম দেশগুলো থেকে কথিত ‘জিহাদি’ যুবকদের রিক্রুট করে অস্ত্র-প্রশিক্ষণ-অর্থ দিয়ে আফগনিস্তানে পাঠানো হয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য। বাংলাদেশ থেকে আফগান যুদ্ধে যাওয়া এইসব ‘মুজাহিদ’রা দেশে ফিরে ১৯৯২ সালে হরকত-উল-জিহাদ গঠন করে বলে জানা যায়। ১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন স্থানে জঙ্গী হামলা শুরু হয়। পরবর্তী কয়েকবছর রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে, সিপিবি-র জনসভায়, যশোরে উদীচী কার্যালয়ে, মাজার-সিনেমা হল-যাত্রা অনুষ্ঠানসহ বিভিন্নস্থানে বোমা হামলায় অসংখ্য মানুষ হতাহত হয়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এসব হামলার সুষ্ঠু তদন্ত-বিচার-হামলাকারীদের পরিচয় উদঘাটন করেনি, বরং এসব ঘটনা থেকে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল ও প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্টায় ব্যস্ত ছিল। জঙ্গীদের প্রশ্রয় দেয়া বা তাদের সাথে সরকারের কোন মহলের যোগসাজশের অভিযোগ তখনো উঠেছিল। পরবর্তীতে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজশাহীর বাগমারায় সর্বহারা দমনের নামে বাংলাভাইয়ের নেতৃত্বে জেএমবিকে সরকারী মদদ দিয়ে একধরণের মুক্তাঞ্চল প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দেয়া হয়। এমনকি সরকারের উচ্চ মহলের যোগসাজশে ২০০৪ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড হামলার চালাতে মুফতি হান্নানের নেতৃত্বে হরকত-উল-জিহাদের একটি গ্রুপকে সহযোগিতা করে প্রশাসন। ২০০৫ সালে জেএমবি ৬৩ জেলায় একযোগে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কথিত জিহাদের ডাক দেয় এবং সারাদেশে বিভিন্ন স্থানে হামলা চালাতে শুরু করে। জঙ্গীরা সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণে নামায় বাধ্য হয়ে সরকার তাদের দমনে তৎপর হয়। জেএমবি নেতাদের ফাঁসি, বহু জঙ্গী সদস্য গ্রেপ্তার, প্রশিক্ষণকেন্দ্রে অভিযান ও প্রচুর গোলাবারুদ উদ্ধারের মাধ্যমে স্ন্ত্রাসী কর্মকা- আপাততঃ অনেকটা স্তিমিত হয়।
কিন্তু, প্রকাশ্য তৎপরতা বন্ধ হলেও গোপনে সদস্য সংগ্রহ ও খেলাফত রাষ্ট্র কায়েমের লক্ষ্যে কাজ করতে থাকে বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন। এই সরকারের আমলে নতুন করে আলোচনায় আসে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ও হিজবুত তাহরীর। ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে জামাত নেতাদের ফাঁসি ও শাহবাগে গণজাগরণকে মোকাবলা করতে ‘নাস্তিক’ ইস্যুকে সামনে আনা হয়। হেফাজতে ইসলামী নামক যে সংগঠনটি ‘নাস্তিক’ ব্লগারদের তালিকা প্রকাশ করে ফাঁসিসহ নারীবিদ্বেষী প্রতিক্রিয়াশীল ১৩ দফা দাবি নিয়ে হাজির হয় তাদের সাথে মহাজোট সরকারের আপোষ ও দহরম-মহরম আমরা দেখেছি। এরপর থেকে নাস্তিক কতলের নামে ঘোষণা দিয়ে তালিকা ধরে ধারাবাহিক হত্যা শুরু হয় এবং পরবর্তীতে তা ধর্মীয় ভিন্নমতাবলম্বী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, লেখক-প্রকাশক-শিক্ষক-সংস্কৃতিকর্মীসহ উদারমনা ব্যক্তিবর্গকে হত্যার অভিযানে বিস্তৃত হয়েছে। ওপরে বর্ণিত ঘটনাপ্রবাহ থেকে আমরা দেখতে পাই, শাসকগোষ্ঠী সবসময় জঙ্গীবাদের সমস্যা নিজেদের রাজনৈতিক হীন স্বার্থে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে এবং সঠিক সময়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পরিবর্তে একে প্রশ্রয় দিয়েছে। সর্বোপরি, এদেশের শাসকগোষ্ঠী সবসময় নিজেদের গণবিরোধী শাসন আড়াল করতে ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহার করেছে, মোৗলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাকে মদত দিয়েছে, কূপমণ্ডুক মাদ্রাসা শিক্ষার বিস্তার ঘটিয়েছে। অথচ, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার ছিল ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র – যেখানে ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’। জঙ্গীবাদের সমস্যা কার্যকরভাবে মোকাবেলা করতে আজ তাই প্রয়োজন মৌলবাদ-সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আদর্শগত ও সাংস্কৃতিক সংগ্রাম, সর্বোপরি গণতান্ত্রিক সমাজ-সংস্কৃতি এবং বিজ্ঞানভিত্তিক যুক্তিবাদী শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বেগবান করা।
বন্ধুগণ,
‘পশ্চিমা দেশগুলো ও তাদের মিত্ররা মুসলমান দেশে আগ্রাসন চালিয়েছে’ – এই অভিযোগে ওইসব দেশের সাধারণ মানুষকে হত্যা করা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। মার্কিন নেতৃত্বাধীন সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর শাসকশ্রেণী তেলসহ সম্পদ লুন্ঠন ও ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের স্বার্থে ইরাক-লিবিয়া-আফগানিস্তান-সিরিয়ায় আগ্রাসন ও হস্তক্ষেপ করেছে। কিন্তু এজন্য পশ্চিমা দেশগুলোর সাধারণ মানুষ দায়ী নয়, বরং ওইসব দেশের অনেক মানুষ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধচক্রান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার। পশ্চিমা নাগরিকদের লক্ষ্য করে আক্রমণ সাম্রাজ্যবাদকে দুর্বল করবে না, বরং তাদের শক্তি যোগাবে। কারণ একে অজুহাত করে তারা আরো হস্তক্ষেপ ও আগ্রাসন চালানোর সুযোগ পাবে। এ ধরণের বর্বরতা ধর্মীয় ও জাতিগত বিদ্বেষ উস্কে দেবে, সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নিরাপত্তা রক্ষার ধুয়া তুলে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালানোর ক্ষেত্র তৈরি করবে সাম্রাজ্যবাদ ও দেশীয় পুঁজিবাদী শাসকগোষ্ঠী। সচেতন মানুষকে উভয় বিপদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।
সাংবাদিক বন্ধুগণ,
অনির্বাচিত মহাজোট সরকার তাদের লুটপাট অব্যাহত রাখতে গণতান্ত্রিক নীতি আদর্শ, মূল্যবোধ-সংস্কৃতিসহ নূ্যূনতম গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ধ্বংস করে ফ্যাসিবাদী শাসন পাকাপোক্ত করার চক্রান্তে লিপ্ত। গণতান্ত্রিক অধিকারহীন দমনমূলক শ্বাসরুদ্ধকর এই পরিস্থিতিতে চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রের শক্তি যেমন লাভবান হয়, তেমনি অগণতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদি মৌলবাদী শক্তির তৎপরতার জমিনও প্রশস্ত হয়। এ পরিস্থিতিতে ধর্মীয় মৌলবাদ ও রাষ্ট্রীয় ফ্যাসিবাদ উভয়ের বিরুদ্ধে শাসকগোষ্ঠী ও কায়েমী স্বার্থের প্রভাবমুক্ত সকল বাম-গণতান্ত্রিক-ধর্মনিরপেক্ষ-অসাম্প্রদায়িক শক্তি ও জনগণের প্রতি আমরা ঐক্যবদ্ধ গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাই।
কর্মসূচি : গুলশান হত্যাকা-, শোলাকিয়ায় হামলা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণসহ সারাদেশে ধারাবাহিক উগ্রবাদী গুপ্তহত্যার প্রতিবাদে আগামী ১৩ জুলাই দেশব্যাপী ‘বিক্ষোভ দিবস’ পালন। আগস্ট মাস জুড়ে জেলায় জেলায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সমাবেশ-জনসভা। আগামীতে মৌলবাদ-সাম্প্রদায়িকতা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী কনভেনশন আয়োজন করা হবে।

◷ ২:০৭ পূর্বাহ্ন ৷ সোমবার, জুলাই ১১, ২০১৬ জাতীয়