শোলাকিয়ায় আটক জঙ্গীই এর আগে হত্যা করেছিলো পঞ্চগড়ের পুরোহিতকে

১০:৫৩ পূর্বাহ্ন | সোমবার, জুলাই ১১, ২০১৬ Breaking News, জাতীয়, স্পট লাইট

সময়ের কণ্ঠস্বর-

এবারই প্রথম নয়, কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে হামলার ঘটনায় আটক জঙ্গি শফিউল ইসলাম (২০ ) এর আগেও জড়িত ছিলেন গুপ্তহত্যার সঙ্গে । সন্দেহভাজন জঙ্গি শফিউল আলম (২০) পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের গৌড়ীয় মঠের অধ্যক্ষ যজ্ঞেশ্বর রায় হত্যায় সরাসরি জড়িত ছিলেন  বলে জানিয়েছে পুলিশ । পঞ্চগড়ের পুরোহিত হত্যার ঐ মামলায় আদালতে দেওয়া অভিযোগপত্রে শফিউল আলমের নাম উল্লেখ আছে।

এবারের হামলার পরিকল্পনা করে হামলাকারীরা  শহরের নীলগঞ্জ মোড়ের পাশে, ঘটনাস্থলের এক কিলোমিটারের মধ্যে এক সপ্তাহ আগেই মাঠের পাশে বাসা ভাড়া নিয়েছিল জঙ্গীর দলটি ।
পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন , ”আহত শফিউল নীলগঞ্জ মোড়ের ওই বাসায় থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ হামলায় অন্তত আটজন জড়িত থাকার কথা বলেছেন শফিউল।”

গতকাল রোববার ওই বাসা থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তদন্ত দল ঐ বাড়ি থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। এ ঘটনায় সদর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা হয়েছে।

দেবীগঞ্জে গৌড়ীয় মঠের অধ্যক্ষ যজ্ঞেশ্বর রায় হত্যায় শফিউলের জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার বলেছেন, ” পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে খুঁজছিল। এর আগে গত ২১ ফেব্রুয়ারি শ্রীশ্রী সন্ত গৌড়ীয় মঠে গিয়ে যজ্ঞেশ্বর চন্দ্র রায়কে (৫০) গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ মামলায় অভিযুক্ত ১০ জনের মধ্যে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। শোলাকিয়ায় হামলার ঘটনার পর পুলিশ জানতে পারে আটক শফিউল আলম পলাতক ৬ জনের একজন। ”

যজ্ঞেশ্বর হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, মোটরসাইকেলে করে যে তিনজন মঠে আসে, তাদের মধ্যে শফিউলও ছিলেন। শফিউল আগের দিন রাতে এসে স্থানীয় জঙ্গি ও ওই মামলার পলাতক আসামি দেবীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব দেবীডুবা গ্রামের সাইদুল ইসলামের ছেলে মো. রানার বাড়িতে রাত যাপন করেন। এই বাড়ি থেকেই মোটরবাইকে করে মঠে যান।

এদিকে, শোলাকিয়া হামলায় জঙ্গীদের ভাড়া নেয়া বাসার মালিক বলেন, বাসা ভাড়ার বিজ্ঞপ্তি দেখে ১ জুলাই ১৮-১৯ বছরের এক যুবক বাসা ভাড়া নিতে আসেন। তিনি নিজেকে জয়নাল আবেদিন, কিশোরগঞ্জের সরকারি গুরুদয়াল কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র বলে পরিচয় দেন। ৪ জন থাকবেন বলে নিচতলায় বাসা ভাড়া চান। গ্রামের বাড়ির ঠিকানা বলেন ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায়। ওই ছেলের কাছে পরিচয়পত্র চাইলে কলেজ বন্ধের কথা বলেন। জাতীয় পরিচয়পত্র ঈদের পর বাড়ি থেকে নিয়ে আসবেন বলে কথা দেন। ১ জুলাই বাসা খালি হলে ২ জুলাই ওই ছেলে ওঠেন। তবে তাঁর সঙ্গে আর কেউ বাসায় উঠেছিল কি না, তাঁরা জানেন না।

তদন্ত দলের কর্মকর্তারা জানান,  তাঁরা বাসায় অন্তত ৪ জনের থাকার ব্যাপারে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন। তবে ঘটনাস্থলে পুলিশের গুলিতে নিহত আবির রহমান ও আহত অবস্থায় আটক শফিউল ইসলাম ওই বাসায়ই ছিলেন কি না, তা তাঁরা নিশ্চিত নন। আশপাশের বাড়ি ও দোকানদারেরাও অবশ্য ওই বাসায় কে বা কারা ছিলেন, সে সম্পর্কে কিছু বলতে পারেন না।

solakiya-hamla

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুর্শেদ জামান বলেন, ‘জয়নাল আবেদিন নামে একজনের জড়িত থাকার বিষয়টি শুনেছি। মামলার প্রাথমিক তদন্ত করছি। আরও কয়েকটি সংস্থা তদন্ত করছে। হয়তো বৃহত্তর তদন্তে কিছু বের হতে পারে।’

উল্লেখ্য, ঈদের দিন (গত বৃহস্পতিবার) সকালে শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতের আধা কিলোমিটারের মধ্যে ওই এলাকায় একদল পুলিশের ওপর জঙ্গিরা হামলা চালায়। তারা বোমা হামলা করে ও কুপিয়ে দুই পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে। এরপর প্রায় চার ঘণ্টা পুলিশ, র্যা ব ও বিজিবির সঙ্গে জঙ্গিদের থেমে থেমে গোলাগুলি হয়। এতে এক জঙ্গি নিহত হয়। দুই পক্ষের গোলাগুলির সময় ঝর্ণা রানী ভৌমিক নামে স্থানীয় এক নারী নিজের ঘরে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান। গুলি ও বোমায় আহত হন ১০ পুলিশ সদস্যসহ ১৩ জন।
পুলিশের করা মামলায় ঘটনাস্থলে পুলিশের গুলিতে আহত অবস্থায় আটক শফিউল ইসলাম ও সন্দেহভাজন হিসেবে আটক জাহিদুল হককে আসামি করা হয়েছে। তবে জাহিদুল হককে তাঁর পরিবার মানসিক ভারসাম্যহীন বলে দাবি করছে। পরিবারের দাবি, প্রায় দুই বছর আগে জাহিদুলের মা মারা যাওয়ার পর জাহিদুল মানসিক ভারসাম্য হারান।
এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশাররফ হোসেন বলেন, জাহিদুল মাঝেমধ্যে বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতেন বলে পরিবার জানিয়েছে। তাঁর সঙ্গে হামলাকারীদের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়েছে।