• আজ ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

রংপুরে মাজারের খাদেম হত্যা মামলায় গ্রেফতার ৭ ও পলাতক ৭ জেএমবি’র বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল


রংপুর ব্যুরো –

রংপুরে মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) সন্দেহভাজন নেতা মাসুদ রানাসহ ১৪ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।

আট দিন আগে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হলেও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউনিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মামুন অর রশীদ মামুন আজ সোমবার সকালে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “গত ৩ জুলাই জেএমবির ১৪ সদস্যের বিরুদ্ধে রংপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এদের মধ্যে সাত জনকে গ্রেফতার ও অন্যদের পলাতক দেখানো হয়েছে।”

কারাগারে যে সাত জন রয়েছেন, তাদের মধ্যে জেএমবির রংপুরের আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানা (৩৩), সদস্য ইছাহাক আলী (৩৪), লিটন মিয়া (৩২) ও আবু সাঈদ (২৮) পীরগাছা উপজেলার বাসিন্দা।

বাকিদের মধ্যে সরোয়ার হোসেন সাবু ওরফে মিজান (৩৩) দিনাজপুরের বিরামপুর এবং সাদাত ওরফে রতন মিয়া (২৩) ও তৌফিকুল ইসলাম সবুজ (৩৫) গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের বাসিন্দা।

অভিযোপত্রে পলাতক দেখানো জেএমবি সদস্যদের মধ্যে জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজিব ওরফে আন্ধি (২৬) ও সাখাওয়াত হোসেনের (৩০) বাড়ি গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায়, বাবুল আখতার ওরফে বাবুল মাস্টার (৩৫) ও রাজিবুল ইসলাম মোল্লা ওরফে বাদল ওরফে বাঁধন (২৫) বগুড়ার শাহজাহানপুরের বাসিন্দা।
এছাড়া সাদ্দাম হোসেন ওরফে রাহুল (২১) কুড়িগ্রামের রাজারহাট, নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক নজরুল ওরফে হাসান (২৬) পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ ও চাঁন্দু মিয়া (২০) পীরগাছার বাসিন্দা।

এই ১৪ জনের মধ্যে মাসুদ, ইছাহাক, লিটন, আবু সাঈদ, সাদ্দাম, নজরুল ও সাখাওয়াতকে জাপানি কুনিও হোশি হত্যা মামলার আসামি করে একই দিন আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মামুন অভিযোগপত্রের বরাত দিয়ে জানান, রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের চৈতার মোড়ে মাজার শরীফের খাদেম রহমত আলী (৬০) গত বছরের ১০ নভেম্বর রাতে বাড়ি ফেরার সময় মাসুদ রানার নেতৃত্বে কয়েকজন জেএমবি সদস্য তার ওপর হামলা চালায়।

“তারা এলোপাতাড়ি কোপানোর পর গলা কেটে রহমতকে হত্যা করে। মাসুদ রানা আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকারও করেন।”
ওই ঘটনার পর স্থানীয় রাজাকার কমান্ডার আব্দুস ছাত্তার মাওলানার ছেলে মোর্শেদ আলী (৩৬) ও তার ভাতিজা শহিদুল ইসলামকে (৩৫) গ্রেফতারের পর হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। এরা দুজনই কাউনিয়ার মধুপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সদস্য।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, মোর্শেদ ও শহিদুলকে গ্রেফতার করা হলেও তদন্তে তাদের জড়িত থাকার কোনো তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি।

◷ ৩:৪৭ অপরাহ্ন ৷ সোমবার, জুলাই ১১, ২০১৬ আলোচিত বাংলাদেশ, স্পট লাইট