‘জঙ্গিদের কাছে মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী বাংলাদেশ পরাস্ত হতে পারে না’

১০:৪০ অপরাহ্ন | সোমবার, জুলাই ১১, ২০১৬ ফিচার

buddhijibi-soudho


সময়ের কণ্ঠস্বর-

বিপথগামী জঙ্গিদের যে অপশক্তি মাথাচাড়া দিচ্ছে তাদের রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন দেশের ৩২ বুদ্ধিজীবী। বিবৃতিতে তারা বলেন, সমবেতভাবে এ অপশক্তিকে রুখতে হবে। কতিপয় বিপথগামীর কাছে মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী বাংলাদেশ পরাস্ত হতে পারে না। এ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন- প্রফেসর এমিরেটাস আনিসুজ্জামান, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম, ড. কাজী খলীকুজজ্জমান, আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, অজয় রায়, কামাল লোহানী, ড. অজয় রায়, ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী, সুলতানা কামাল, ড. ফরাসউদ্দিন, ড. অনুপম সেন, ডা. সারওয়ার আলী, রাণা দাশগুপ্ত, রামেন্দু মজুমদার, আলী যাকের, রাশেদা কে চৌধুরী, মামুনুর রশীদ, গোলাম সারওয়ার, আবেদ খান, জিয়াউদ্দিন তারিক আলী, সেলিনা হোসেন, আয়েশা খানম, মমতাজ বেগম, এম এম আকাশ, শিল্পী হাশেম খান, শিল্পী রফিকুন্নবী, আবুল মোমেন, মনজুরুল আহসান বুলবুল, ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী, হারুনুর রশীদ ও কাজী সালাহউদ্দিন।

সম্প্রতি, গুলশান ও শোলাকিয়ায় নৃশংস হত্যাযজ্ঞে উদ্বেগ জানিয়ে সোমবার ৩২ জন বুদ্ধিজীবী স্বাক্ষরিত এ বিবৃতি প্রেরণ করে। বিবৃতিদাতাদের পক্ষে স্বাক্ষর করেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী। তারা বলেন, ধর্মীয় জঙ্গিবাদ বৈশ্বিক সমস্যা এবং নানা নামে তাদের চিন্তাধারার অনুসারীরা বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদের সাথে সংযোগ স্থাপন করে ধারাবাহিক অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে। সাম্প্রতিক হামলায় হত্যাকারীদের অধিকাংশ আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত সদ্য কৈশোর উত্তীর্ণ স্বচ্ছল পরিবারের সন্তান। হত্যাকা-ের পরিকল্পনাকারীরা তাদের ধর্মের উগ্রবাদী ব্যাখ্যায় দীক্ষিত ও আচ্ছন্ন করেছে, অত্যাধুনিক ও আত্মহননের পথে প্ররোচিত করেছে। এদের পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে মমত্ব ও মানবিকতাবোধ সৃষ্টি করা একান্ত প্রয়োজন।

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের অগণিত মানুষ ধর্মের অবমাননা ও ধর্মের নামে নিষ্ঠুরতা মেনে নেবে না। শান্তিপূর্ণ নিরাপদ বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় সবাই বদ্ধপরিকর। মুক্তিযুদ্ধের অপশক্তি নতুন আন্তর্জাতিক পটভূমিতে ধর্মের নামে রক্তের হোলি খেলায় লিপ্ত হয়েছে। এরা দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে জাতীয় অগ্রগতির পথ রুদ্ধ করতে চায়। অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের বিপরীতে মধ্যযুগীয় তালেবানী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। অথচ সকল ধর্ম শান্তি, মানবতা ও সৌহার্দ্যেও জয়গান করে এবং কোন ধর্ম এভাবে নিরীহ মানুষ হত্যা অনুমোদন করে না।