গুলশানে হামলা : চাঞ্চল্যকর তথ্য জঙ্গিদের রুমালে এটা কোন সংগঠনের নাম

২:৫০ পূর্বাহ্ন | মঙ্গলবার, জুলাই ১২, ২০১৬ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –   গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে রোমহর্ষক জঙ্গি হামলা ও পরে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে কমান্ডো অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে অন্যান্য আলামতের সঙ্গে একটি রুমাল উদ্ধার করা হয়েছে। সাদা কাপড়ের এই রুমালে বাংলায় কালো অক্ষরে লেখা রয়েছে, ‘দৌলাতুল ইসলাম বাংলাদেশ টিকে থাকবে’।
জঙ্গিদের নারকীয় হত্যাযজ্ঞে সেদিন (১ জুলাই) রক্তাক্ত হয় হলি আর্টিজানের নীচতলার প্রায় পুরো মেঝে। তবে মেঝে থেকে উদ্ধার করা রুমালে কোনো রক্তের দাগ ছিল না। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, জঙ্গিরা তাদের সংগঠনের পরিচয় জানান দিতেই রুমালে তাদের পরিচয় উল্লেখ করে সেটি মেঝেতে ফেলে রাখে।
rumale-ata-ki-

অন্যদিকে, এই ঘটনার পর আইএসের নামে বাংলাদেশের তিন যুবক গুলশান হামলাকে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য দিয়ে যে ভিডিও আপলোড করেছিল, সেখানেও একজনের বিবৃতিতে দৌলাতুল ইসলামের কথা উল্লেখ রয়েছে। ভিডিও ফুটেজে তৃতীয় যুবক তুষার তার বিবৃতিতে বলেন, ‘——তাই আপনারা দলে দলে যোগদান করুন যারা বাংলাদেশে শরীয়া প্রতিষ্ঠা করছে দৌলাতুল ইসলামের আন্ডারে।’

আর্টিজান বেকারিতে হামলার ঘটনায় গুলশান থানায় এসআই রিপন কুমার দাস বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় ঘটনাস্থল থেকে জব্দকৃত মালামালের তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে এই রুমাল। তবে রুমালে কি লেখা রয়েছে সে সম্পর্কে মামলায় কিছু বলা হয়নি। রুমাল ছাড়া জব্দ তালিকায় আরো রয়েছে ৫টি নাইন এমএম পিস্তল, তিনটি একে ২২ মেশিনগান, ১৩টি ম্যাগাজিন, নাইন এমএম ক্যালিবারের ৬টি তাজা গুলি, সেভেন পয়েন্ট সিক্সফাইভ ক্যালিবারের ২৮টি গুলি, একে-২২ এর ৩৫টি গুলি, পয়েন্ট টুটু বোরের ৪৪টি গুলি, ৬ পয়েন্ট ১৬ ক্যালিবারের ১২টি গুলি, সেভেন পয়েন্ট সিক্সটু ক্যালিবারের দুইটি গুলি, একই ক্যালিবারের ১৯৫টি গুলির খোসা, নাইন এমএম ক্যালিবারের গুলির ১০৫টি খোসা, নয়টি গ্রেনেড সেফটি পিন, দুটি ছোরা, একটি চাপাতি ও একটি চাকু। অস্ত্রশস্ত্রের পাশাপাশি জব্দ তালিকায় শুধু রুমালটিই গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে স্থান পেয়েছে।

গুলশানের এই হামলার ঘটনাটি মনিটরিং করছে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট। এই ইউনিটের একজন কর্মকর্তা বলেন, হামলাকারী ৫ জঙ্গির মধ্যে ২ জন জেএমবির সদস্য। বাকি ৩ জন উচ্চবিত্ত ঘরের সন্তান হলেও এদের সঙ্গে হিযবুত তাহরীরের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তবে একাধিক জঙ্গি সংগঠনের সমন্বয়ে আরো একটি জঙ্গি সংগঠন গঠন হতে পারে যেখানে জেএমবি, হিযবুত তাহরীর ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সদস্যরা জড়িত থাকতে পারে।

ঘটনাস্থল থেকে রুমাল উদ্ধার প্রসঙ্গে ওই কর্মকর্তা বলেন, রুমালে লেখা রয়েছে— দৌলাতুল ইসলাম বাংলাদেশ টিকে থাকবে। এই লেখার সঙ্গে নিশ্চয়ই তাদের কোন ম্যাসেজ রয়েছে। তারা নিজেদেরকে  দৌলাতুল ইসলাম বাংলাদেশ নামের সংগঠনের সদস্য বলে জানান দিতে চেয়েছে।

ইন্টারনেটে ঘেঁটে দেখা গেছে ফেসবুকে দৌলাতুল ইসলাম বাংলাদেশ নামে অসংখ্য পেজ খোলা আছে। সিরিয়া ও ইরাক ভিত্তিক অসংখ্য ভিডিও ফুটেজ সেখানে আপলোড করা হয়েছে। এছাড়া পাকিস্তান ভিত্তিক বিশেষ করে পেশাওয়ার ও কোয়েটা ভিত্তিক  দৌলাতুল ইসলামের অনেক কার্যক্রমের তথ্যচিত্র প্রচার করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিকভাবে দৌলাতুল ইসলাম সংগঠনটি ইরাক, তুরস্ক, সিরিয়া, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও মিশরে সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। বাংলাদেশে দৌলাতুল ইসলাম বাংলাদেশ কারা চালায় এ ব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।