বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও একটি প্রিন্ট পত্রিকার উপর চটেছেন প্রধানমন্ত্রী

◷ ৩:০২ পূর্বাহ্ন ৷ মঙ্গলবার, জুলাই ১২, ২০১৬ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –   বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর ও একটি প্রিন্ট পত্রিকার উপর চটেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় তিনি বেসরকারি টেলিভিশনগুলোর সরাসরি সম্প্রচার নিয়ে আবারও তার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সিনিয়র মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ট্যাবলয়েড দৈনিক মানজমিনের ওপরও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

khepechen

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার বিষয়টি উঠে আসে। বিশেষ করে গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্তোরায় হামলা এবং তৎপরবর্তী আইনশৃংখলা বাহিনীর তৎপরতার খবর প্রতিমুহূর্তে কয়েকটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সরাসরি সম্প্রচার করে। এ বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘটনার পরদিন শনিবার একটি অনুষ্ঠানে তার ক্ষোভের কথা প্রকাশ করেন। সোমবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকেও বিষয়টি উঠে আসে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সিনিয়র মন্ত্রী জানান, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর বিষযে প্রধানমন্ত্রী খুবই সিরিয়াস। তিনি বলেছেন, আমরা যাদেরকে টিভি দিয়েছি তারাই নিরাপত্তা বাহিনীর সব প্ল্যান ফাঁস করে দিচ্ছিল প্রতিমুহূর্তে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, গুলশান ঘটনার পর আমরা প্ল্যান করি আর টিভি চ্যানেলগুলো সেই প্ল্যান ফাঁস করে দেয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন,টিভি চ্যানেলগুলো দায়িত্বশীল আচরণ করেনি। এ সময় একাধিক সিনিয়র মন্ত্রীও টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সমালোচনা করেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী গত রোববার দৈনিক মানবজমিনে প্রকাশিত একটি সংবাদের সূত্র ধরে ওই পত্রিকাটিরও কঠোর সমালোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মানবজমিন লিখেছে র‌্যাব-পুলিশ ১৫৩ রাউন্ড গুলি ব্যয় করেও সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করে বলেন, তারা এ খবর পেল কোথায়?

এদিকে বৈঠকে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে মন্ত্রী ও দলীয় এমপিদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

একাধিক সিনিয়র মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার ঘটনা তুলে ধরে বলেছেন, প্রতিটি স্থানে দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি এলাকা যেন আমাদের নজরদারিতে থাকে সে বিষয়েও খেয়াল রাখতে হবে।

তিনি বলেছেন, সব ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ নিখোঁজ হলে তা গোপন না করে সংশ্লিষ্টদের জানাতে হবে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেউ অনুপস্থিত থাকলে তাও যেন সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, গুলশানে হামলার ঘটনা সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে মোকাবেলা করেছে। দেশের বাইরে অনেকে মনে করতে পারে যে আমরা পশ্চাৎপদ। কিন্তু আমরা তা নই। আমরা ভালোভাবেই গুলশানের ঘটনা সামাল দিতে পেরেছি।

মন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রত্যেকে যেন তাদের নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে বৈঠক করে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করেন। নিজেরা সচেতন হওয়ার পাশাপাশি সতর্ক থাকেন। একইভাবে অন্যদেরকে সচেতন ও সতর্ক করেন।

বৈঠক সূত্রে আরো জানা গেছে, দেশের প্রতিটি নিজ নিজ এলাকায় জেলা-উপজেলা, পাড়া-মহল্লা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে সন্ত্রাস বিরোধী কমিটি জোরদার করার জন্যও নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে বৈঠকে কৃষি খাতে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় গবেষণা কার্যক্রমের সুযোগ সৃষ্টি করতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট আইন ২০১৬ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠায় ১৯৭৬ সালে অধ্যাদেশ জারির পর ১৯৮৪ ও ১৯৯৬ সালে দুই দফা তা সংশোধন করা হয়।

উচ্চ আদালত সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী বাতিল করায় সামরিক আমলের জারি করা অধ্যাদেশগুলোও বাতিল হয়ে যায়। ওই আইনগুলোর কার্যকারিতা রক্ষা করতে পরে নতুন আইন করার উদ্যোগ নেয় সরকার। এরই অংশ হিসেবে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় আসে।

তিনি জানান, আগে এই আইনে ১৮টি ধারা থাকলেও নতুন খসড়ায় আরও চারটি ধারা সংযোজন করা হয়েছে। এটিকে আরও আধুনিক এবং যুগোপযোগী করা হয়েছে।

এছাড়াও মন্ত্রিসভা কুয়েত ও বাহরাইনের সাথে বিনিয়োগ চুক্তির অনুসমর্থন অনুমোদন দিয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।