পালিয়ে থাকা ৩২১ জন জঙ্গির বড় ধরনের হামলা চালানোর ছক


সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –   র‌্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাবলু ও রাজিবসহ পালিয়ে থাকা ৩২১ জন জঙ্গি নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালানোর ছক কষছে। পুলিশ স্টেশন, র‌্যাব কার্যালয়, বিমানবন্দরসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা তাদের আঘাতের লক্ষ্য হতে পারে। একেকবার একেক নাম নিয়ে তারা চষে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন এলাকা। সেই সঙ্গে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সংগঠনে টানারও চেষ্টা চালাচ্ছে ওই জঙ্গিরা। গোয়েন্দা তথ্য পেয়ে তাদের ধরতে উঠেপড়ে লেগেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই মধ্যে ছবি ও পরিচিতিসহ তালিকা করা হয়েছে ওই জঙ্গিদের। সম্ভাব্য যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গত রবিবার থেকে কঠোর নিরাপত্তাবলয়ে রাখা হয়েছে পুলিশ স্টেশন, র‌্যাব অফিস, বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। একে গণ্য করা হচ্ছে অঘোষিত রেড অ্যালার্ট হিসেবে। এ ছাড়া মসজিদ-মাদ্রাসায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

red-alart

সূত্র মতে, জঙ্গিদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগের মধ্যে আছে র‌্যাব ও পুলিশ। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। গত রবিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও পুলিশ ও র‌্যাবের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠক হয়েছে। পলাতক জঙ্গিদের পাকড়াও করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ওই বৈঠকে।

র‌্যাব ও পুলিশের দাবি, আত্মগোপনে থাকা ৩২১ জঙ্গি জেএমবি ও হুজির সদস্য। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে তারা। সবাই বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘পলাতক জঙ্গিদের নিয়ে আমরা বেশি আতঙ্কিত। তাদের ছকের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে র‌্যাব-পুলিশকে ঘায়েল করা, আরো বিদেশিকে হত্যা করে দেশের বদনাম রটানো, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো। এ ছাড়া কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সংগঠনে ভিড়িয়ে তারা জঙ্গি তৎপরতা আরো বেগবান করার চেষ্টা করছে বলেও আমরা তথ্য পেয়েছি।’

পলাতক যেসব জঙ্গি সক্রিয় : র‌্যাব ও পুলিশ সূত্রে পলাতক যে ৩২১ জঙ্গির পরিচয় মিলেছে তাদের মধ্যে আছে ঢাকার উত্তরখানের মোহাম্মদ রাসেল, সগীর হোসেন, ছগির হোসাইন, খিলগাঁওয়ের সোহাগ তালুকদার, তুরাগের হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদপুরের মাওলানা ইদ্রিস আলী (হুজি), উত্তরার ছাগির হোসেন, সাভারের রবিউল ইসলাম, আশুলিয়ার হাফেজ বিল্লাল, ধামরাইয়ের ইয়াকুব আলী, নুরুল ইসলাম, আবদুল আলিম, নজরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, আবদুল ওয়াব, আশুলিয়ার ফারুক হোসেন; গাজীপুরের আদম আলী, কাউসার আলী, জয়দেবপুরের এম এ সিদ্দিকী, শহিদুল্লাহ, আল আমিন ওরফে আবদুল্লাহ; ময়মনসিংহের সাইফুল ইসলাম; নারায়ণগঞ্জের রায়হান ওরফে ওবায়েদ, পল্টু ওরফে আশিক, মাওলানা আকবর হোসেন, মাওলানা শফিকুর রহমান, মাওলানা ইদ্রিস আহম্মদ, মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা মুজাহিদুল ইসলাম, হাফেজ জাহাঙ্গীর বদর, মাওলানা আবদুর রহমান; জামালপুরের রাবেয়া বেওয়া; নরসিংদীর মোস্তফা কামাল; গোপালগঞ্জের এনায়েত উল্লাহ, বোরহান উদ্দিন মাসুম; রাজবাড়ীর হাফেজ আলী ইয়াস আহম্মদ; ফরিদপুরের আবদুল গাফফার, তোফাজ্জল হোসেন, খলিলুর রহমান, মতুর্জা, তরিকুল ইসলাম মোল্লা; টাঈাইলের মাসুম ওরফে আবদুর রউফ, মির্জাপুরের রাফি ওরফে কাফি; রাজশাহীর মুসা ওরফে মোস্তাফিজুর রহমান, এনামুল হক মনি, আবু সাঈদ, বাগমারার জাকির হোসেন, আমানউল্লাহ আমান ওরফে সাইদুজ্জামান; দিনাজপুরের মীর মোশারফ হোসেন, আজিমত, আরিফ ওরফে আলাল, রাশিদুল ইসলাম; গাইবান্ধার শিল্পী বেগম, আবদুল আজিজ; সিরাজগঞ্জের আবদুল আজিজ; নওগাঁর মশিউর রহমান ও আকরাম হোসেন; চাঁপাইনবাবগঞ্জের কোরবান আলী, সাদিকুল ইসলাম, আবদুর রহিম, একরামুল হক; কুড়িগ্রামের একরামুল হক, বগুড়ার শফিকুর ওরফে নাজিম ও সাগর হোসেন; কুষ্টিয়ার আবু সাঈদ শেখ, সোহেল মাহফুজ, সাতক্ষীরার ফকরউদ্দিন রাজি, যশোরের সাইফ ওরফে আসাদুজ্জামান, ঝিনাইদহের আজিম উদ্দিন ও মাওলানা আবদুল লতিফ; সিলেটের হাফিজ কামরুল ইসলাম; মৌলভীবাজারের আবু রায়হান, লুৎফর রহমান হারুন; কুমিল্লার শামীম আহম্মেদ; চাঁদপুরের আবু জিহাদ; খাগড়াছড়ির বেলাল আহম্মেদ; চট্টগ্রামের কামরুল ইসলাম চৌধুরী; কক্সবাজারের রেজাউল করিম, হাফেজ রফিকুল ইসলাম, হাফেজ সিরাজুল করিম, আনোয়ার উদ্দিন জাবেদ; ফেনীর গিয়াস উদ্দিন, আবদুল আজিজ, জসিম উদ্দিন; বরগুনার বেলাল হোসেন, শহিদুল ইসলাম, আবদুল হক আব্বাসী, হাফেজ আবদুর রহমান; বরিশালের সারোয়ার হোসেন, জিয়াউর রহমান জিয়া, এ বি জাহিদ হোসেন বাবু; ভোলার মাওলানা মহিউদ্দিন; পটুয়াখালীর ইব্রাহিম ওয়ালিউল্লাহ; খুলনার হাফেজ মোহাম্মদ আবু তাহের, আবুল হোসেন ওরফে আবুল হাসেম; জঙ্গি সংগঠন শহীদ হামজা ব্রিগেডের মাওলানা মোবারক আলী, মাওলানা নোমান প্রমুখ। তাদের মধ্যে কেউ কেউ জামিন নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায়।

কালো তালিকাভুক্ত দেশি-বিদেশি ২৪ সংগঠন : ২৪টি জঙ্গি সংগঠনকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকটি সংগঠন আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ। কয়েকটি বিদেশি জঙ্গি সংগঠনের বাংলাদেশ প্রধানের নাম জানা গেছে। আবার কয়েকটি সংগঠনের শীর্ষ ব্যক্তি দু-একবার বাংলাদেশ সফর করেছেন বলে তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। সংগঠনগুলো হলো আল হারাত আল ইসলামিয়া, জামায়তুল ফালাইয়া, তাওহিদি জনতা, বিশ্ব ইসলামী ফ্রন্ট, জুমাতুল আল সাদাত, শাহদাত ই নবুওয়াত, জামাত ই ইয়াহিয়া আল তুরাত, জইশে মোস্তফা বাংলাদেশ, আল জিহাদ বাংলাদেশ, ওয়ারত ইসলামিক ফ্রন্ট, জামায়াত আস সাদত, আল খিদমত, হরকত এ ইসলাম আল জিহাদ, মুসলিম মিল্লাত শরিয়া কাউন্সিল, ওয়ার্ল্ড ইসলামিক ফ্রন্ট ফর জিহাদ, জইশ-ই-মোহাম্মদ, কালেমার দাওয়াত, ইসলামী দাওয়াতি কাফেলা, আল ইসলাম মার্টায়ারস ব্রিগেড, লস্কর-ই- তৈয়বা, হিজবুল্লাহ ইসলামী সমাজ, হরকত উল মুজাহিদীন, মামায়াতুল মুজাহেদুল বাংলাদেশ, নুসরাতুল মুসলেমিন।

 

◷ ৩:৫৩ পূর্বাহ্ন ৷ মঙ্গলবার, জুলাই ১২, ২০১৬ জাতীয়