সংবাদ শিরোনাম

রোহিঙ্গা শিশু অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় নারীসহ দু’জন গ্রেপ্তারবেলকুচিতে দূর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ে গেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান !জামালপুরে মাদ্রাসা ছাত্রীকে রাতভর ধর্ষণ, গ্রেফতার মাদ্রাসার শিক্ষক‘করোনাকালের নারী নেতৃত্ব: গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব’বগুড়ায় শিক্ষা প্রনোদনা পেতে প্রত্যয়নের নামে টাকা নেয়ার অভিযোগজামালপুরে ধর্ষণ মামলায় ধর্ষকের যাবজ্জীবনপাবনায় অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানায় অভিযান, চারটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার-২উপজেলা আ.লীগের সভাপতিকে ‘পেটালেন’ কাদের মির্জা!কে কত বড় নেতা, সবাইকে আমি চিনি: কাদের মির্জাঅনুদান দেওয়া হবে, তবে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নয়: শিক্ষা মন্ত্রণালয়

  • আজ ২৪শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে তোলপাড় মহানগর আ’লীগ সভাপতি লিটনের ভাইয়ের জঙ্গি কানেকশন

৪:৪০ পূর্বাহ্ন | মঙ্গলবার, জুলাই ১২, ২০১৬ আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –   রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের চাচাতো ভাই মুনতাসিরুল আলম অনিন্দ্য। বাবা শফিউল আলম লাটকু বিএনপির রাজনীতি করেন। তবে অনিন্দ্যের আপন ছোট চাচা মাহফুজুল আলম লোটন মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। অনিন্দ্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। তিনি সম্পর্কে জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের ভাতিজা। এই অনিন্দ্যের বিরুদ্ধে জঙ্গি কানেকশনের প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত মিলেছে। এ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালনকারী এই পরিবারের সন্তানের জঙ্গি কানেকশনে চরম ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগের নেতারা। তবে দলের সভাপতি লিটনের ভয়ে এ নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে পারছেন না।

onindo

সহপাঠীরা গণমাধ্যমকে  জানায়, এসএসসি ও এইচএসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন অনিন্দ্য। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তির পর প্রথমে ছাত্রদল করতেন। এরপর ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়ান। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আহমদ-বিপু কমিটিতে হঠাৎ করেই অনিন্দ্য আপ্যায়নবিষয়ক পদ পেয়ে যান। অনিন্দ্যের এই পদ দখলের জন্য সংগঠনটির ত্যাগী নেতাকর্মীরা মহানগর আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক খায়রুজ্জামান লিটনকে দায়ী করেছিলেন। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও লিটনের ভয়ে কেউই মুখ খুলতে সাহস পাননি। এভাবেই কিছুদিন চলে। তারপর অনিন্দ্য রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। ধীরে ধীরে তার চলাফেরা ও আচরণ বদলাতে থাকে। মাথায় বাবরি দোলানো চুল আর মুখমণ্ডলে লম্বা দাড়ি। তবে সব সময়ই পরনে জিন্স ও শার্ট বা টি-শার্ট ঠিকই থাকত। কিন্তু সহপাঠীদের সঙ্গে খুব একটা মিশতেন না। ক্লাসে গরহাজির। মাঝে মাঝে লাপাত্তা।

এদিকে ২৩ এপ্রিল সকালে বাড়ির পাশেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পুলিশের দাবি, এ হত্যায় জঙ্গিরা জড়িত। এ হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ একই বিভাগের বেশ কয়েকজন ছাত্রকে সন্দেহের তালিকায় রাখে। এর মধ্যে সন্দেহভাজন এক ছাত্রের নাম শরিফুল ইসলাম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইংরেজি বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, শরিফুল ইসলাম অন্তত দেড় বছর রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবারের সঙ্গেও শরিফুলের কোনো যোগাযোগ নেই। শরিফুলও বন্ধুদের সঙ্গে খোলামেলাভাবে মিশত না। তারা ‘লর্ডস গ্যাং’ নামে একটি ফেসবুক পেজের (বর্তমানে পেজটি আর দেখা যায় না) সন্ধান দিয়ে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই পেজে মুনতাসিরুল আলম অনিন্দ্য ও শরিফুল ইসলামের গ্রুপ ছবি পাওয়া যায়। তাদের দু’জনেরই নিবিড় সম্পর্ক ছিল। ওই পেজের অ্যাবাউটে লেখা রয়েছে, ‘লায়ন অব রাজশাহী ডিভিশন’। এটি ঘেঁটে দেখা গেছে, তাতে ইসলাম সম্পর্কিত নানা কথা লেখা রয়েছে। রয়েছে কোরআনের আয়াতও। ওই পেজে ২০১৩ সালের ১০ ডিসেম্বর পোস্ট করা হয়েছে এই লেখাটি ‘ডেটলাইন রাজশাহী…ভাইয়াদের কড়া অনুরোধ করা হচ্ছে ‘যারা বাইরে আছেন, নিরাপদে সরে যান (বাসায়/মেসে)’…কেও রাতে বাইরে অবস্থান করবেন না…সিগারেট কেনার থাকলে/কোনো প্রয়োজন থাকলে এখনই সেরে নেন প্লিজ, পরে বের হবেন না… অবস্থা বেগতিক হলে রাতে আর্মি নামতে পারে… নবম পদাতিক ডিভিশন রেডি আছে নামার জন্য… সাবধানে থাকুন ভাইয়া-আপুরা, ইনশাআল্লাহ্ নিরীহ কারও কিছু হবে না…। একই বছরের ২৯ নভেম্বর ওই পেজে পোস্ট করা হয়েছে, ‘এখনকার সময়ের অনেক ব্যয়বহুল ইংলিশ মিডিয়াম ও কিছু বাংলা মিডিয়াম স্কুলে ছেলেমেয়েরা একসঙ্গে পড়াশোনা করে। পরিবার থেকেও এরা নৈতিকতা সম্পর্কে তেমন কোনো শিক্ষা পায় না।… ইসলামে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।’ একই বছরের ৩ ডিসেম্বরের স্ট্যাস্টাস হল- ‘দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশের ইতিহাস আবার নতুন করে লেখা হবে। এই পঞ্চাশ বছরের ধর্মনিরপেক্ষ পচা গণতন্ত্র আগামীতে ধ্বংস হবে। এটি কেউ ঠেকাতে পারবে না। শুধু আল্লাহ ছাড়া। আমাদের বিশ্বাস করো।’

এদিকে মহানগর পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী অনিন্দ্য ও শরিফুল জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিক তথ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে। শরিফুল জঙ্গি কানেকশনে বিদেশ পাড়ি জমিয়েছে বলে অনুমান করছে পুলিশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, অধ্যাপক রেজাউল করিম হত্যার কয়েকদিন পরই অনিন্দ্য ও শরিফুলের বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হয়। কিন্তু শরিফুল নিখোঁজ। আর অনিন্দ্য মহানগর আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতার নিকটাত্মীয় হওয়ায় তৎকালীন মহানগর পুলিশ কমিশনার এ বিষয়ে আর এগোননি। তবে নতুন কমিশনার যোগদানের পরই এ মামলাটি গতি পায়। ফলে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগ ও কিছু তথ্য থাকায় অনিন্দ্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (পশ্চিম) একেএম নাহিদুল ইসলাম সোমবার বিকালে গণমাধ্যমকে বলেন, অধ্যাপক রেজাউল হত্যায় জঙ্গিরা জড়িত এটি এখন নিশ্চিত হয়ে গেছে। আর অনিন্দ্য ও শরিফুলের নেতৃত্বে সাতজনের একটি জঙ্গি গ্রুপ সক্রিয় থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। তারাই মূলত এ হত্যায় জড়িত বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। এই তথ্যের ভিত্তিতেই শীর্ষ জঙ্গি অনিন্দ্যকে ২ জুলাই নগরীর কাদিরগঞ্জের একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছে জঙ্গি ও জিহাদি বইসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পাওয়া গেছে।

এদিকে আওয়ামী পরিবারে জঙ্গি কানেশনে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন দলটির মহানগর শাখার একাধিক নেতা। এ বিষয়ে সোমবার বিকালে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কয়েক দফা যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে অনিন্দ্যের ছোট চাচা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মাহফুজুল আলম লোটন যুগান্তরকে বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করি। অথচ আমাদের পরিবার থেকেই জঙ্গি হয়ে যাওয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া আর কিছু বলার নেই।

সুত্র – যুগান্তর