জামালপুরে মুক্তিযোদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যা করলো পুলিশ


সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –   তর্কের জেরে রেলওয়ে পুলিশের পিটুনিতে গতকাল সোমবার সকালে মারাত্মক জখম হয়েছিলেন জামালপুরের মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুল বারী (৬৫)। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় বিক্ষোভের মুখে জামালপুর রেলওয়ে থানার ওসি গৌতম গৌড় চন্দ্র মজুমদার ও কনস্টেবল তপন বড়ুয়াকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। স্বজনরা জানায়, বিনা টিকিটে ট্রেনযাত্রার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত আটক করেছিলেন আবদুল বারীর ছেলে মাজহারুল হক বাবুকে। ছেলেকে মুক্ত করতে গিয়েই পুলিশের সঙ্গে বাগিবতণ্ডা হয় মুক্তিযোদ্ধাদের প্যারেড কমান্ডার আবদুল বারীর।

pitiye-hotta

জামালপুরের পুলিশ সুপার মো. নিজাম উদ্দিন জানান, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল বারীর মৃত্যুর ঘটনায় রেলওয়ে থানার ওসি গৌড় চন্দ্র মজুমদার ও কনস্টেবল তপন বড়ুয়াকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনা তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। রেলওয়ে পুলিশ পৃথকভাবে বিভাগীয় তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করেছে।

স্বজনরা জানায়, আবদুল বারী জামালপুর শহরের হাটচন্দ্রার বাসিন্দা। ছেলে মাজহারুল হক বাবু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। সোমবার সকালে বাবু বন্ধুসহ ভুয়াপুর যাচ্ছিলেন। ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে আসা মেইল ট্রেন জামালপুর স্টেশনে থাকাবস্থায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বাবুকে আটক করেন। ম্যাজিস্ট্রেট টিকিট দেখতে চাইলে বাবু জানান, টিকিট বন্ধুর কাছে আছে, যিনি ভিড়ের কারণে অন্য বগিতে উঠে গেছেন। ম্যাজিস্ট্রেট বাবুকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিলে রেলওয়ে পুলিশ তাঁকে থানা হাজতে রাখে। এ অবস্থায় বাবু মোবাইল ফোনে পরিবারকে বিষয়টি জানালে ছুটে আসেন বাবা আবদুল বারী। রেল পুলিশের কর্মীদের সঙ্গে তাঁর তর্ক হয়। একপর্যায়ে জিআরপি থানার ওসির নির্দেশে কনস্টেবল তপন বেদম মারধর করেন আবদুল বারীকে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে স্বজনরা জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে স্থানান্তর করা হয় ময়মনসিংহ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে। বিকেল ৩টায় সেখানে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন বলে জানান জামাতা আলমগীর হোসেন।

এদিকে মুক্তিযোদ্ধা আবদুল বারীর মর্মান্তিক মৃত্যুর সংবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এলাকাবাসী। তারা জামালপুর জিআরপি থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মুক্তিযোদ্ধারা সমবেত হলে বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশে রূপ নেয়। সেখানে বক্তব্য দেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শফিকুল ইসলাম, ডেপুটি কমান্ডার সুজায়েত আলী ফকির, নিহতের বড় ভাই শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

রেলওয়ে থানার ওসি গৌতম গৌড় চন্দ্র মজুমদারসহ দায়ীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে অনড় থাকে বিক্ষোভকারীরা। এ পরিস্থিতিতে পুলিশ সুপার নিজাম উদ্দিনসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের আশ্বাস দেন। ওসি গৌতম ও কনস্টেবল তপনকে থানা হেফাজতে নেওয়া হলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয় এবং বিক্ষোভকারীরা থানা ঘেরাও কর্মসূচি প্রত্যাহার করে।

জামালপুর জেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শফিকুল ইসলাম বলেন, তুচ্ছ ঘটনায় একজন মুক্তিযোদ্ধাকে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক। এতে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

আবদুল বারীর মৃত্যুর ঘটনায় গতকাল রাতে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল। মামলা হলে ওসিসহ দুই পুলিশকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

– See more at: http://www.kalerkantho.com/print-edition/first-page/2016/07/12/379818#sthash.00zHGaHc.dpuf

◷ ৪:৫৯ পূর্বাহ্ন ৷ মঙ্গলবার, জুলাই ১২, ২০১৬ ঢাকা