• আজ বুধবার, ৭ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়ানো হচ্ছে পিস টিভির বক্তা জঙ্গিবাদে উস্কানি দাতা বিলাল ফিলিপের বই


❏ বুধবার, জুলাই ১৩, ২০১৬ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –   বাংলাদেশে পিস টিভি বন্ধ করা হলেও এই টিভির অন্যতম বক্তা আবু আমিনাহ বিলাল ফিলিপের বিভিন্ন বই ইংরেজি মাধ্যমের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষাবিদরা। তারা জানান, জঙ্গিবাদে উস্কানির অভিযোগে এই ব্যক্তিকে দু’বছর আগে বাংলাদেশ ত্যাগে বাধ্য করা হলেও বই এবং টিভির মাধ্যমে তিনি তার মতবাদ চালিয়ে গেছেন। বর্তমানে টিভি বন্ধ হলেও তার বই রয়ে গেছে।

abu-filip

মূলত দু’হাজার সালের দিকে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটে। সে সময় মাদ্রাসা ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জেহাদ-হুজি, জেএমবি’র তৎপরতা ছিল সবচেয়ে বেশি। ২০০৫ সালের দিকে দৃশ্যপটে আসে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা ও উচ্চ শিক্ষিত তরুণদের মাধ্যমে পরিচালিত হিযবুত তাহরীর।

সর্বশেষ গুলশানে হামলাকারীদের মধ্যে তিনজনই ছিল ইংরেজি মাধ্যমের।  শিক্ষাবিদদের অভিযোগ, কানাডার নাগরিক বিলাল ফিলিপ’সসহ অনেক উগ্রবাদীর বই পাঠ্যতালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। জ্যামাইকার কিংস্টোনে জন্ম নেয়া এবং পরে কানাডার নাগরিকত্ব পাওয়া বিলাল ফিলিপ’স ২০১৪ সালের ১৭ই জুন সিয়ান পাবলিকেশন্স নামে একটি প্রকাশনা সংস্থার আমন্ত্রণে বাংলাদেশে আসেন। কিন্তু জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পরদিন তাকে বাংলাদেশ ত্যাগে বাধ্য করা হয়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, পিস টিভি বন্ধ হলেও  উগ্র মতবাদের বই নিষিদ্ধের বিষয়ে আগে থেকে সরকারের নজরদারি থাকলে জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠত না।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘তারা যে পাঠ্যবইগুলো দিচ্ছে এগুলো আমাদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক কতগুলো পাঠ্যবই। যেগুলো আমাদের দেশীয় নয়। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে মদদ দিচ্ছে। আর মদদের পাঠশালা হচ্ছে বিলাল ফিলিপস।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘শুধু টেলিভিশন বন্ধ করে দিলে পিস টিভি থেকে আমরা মুক্ত থাকতে পারবো এটা আমি মনে করি না। ঢাকা এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে পিস স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জাকির নায়েকের আদর্শ অনুসরণ করে। সেই স্কুলগুলো বন্ধ করতে হবে। বাজার থেকে বইগুলো তুলে নিতে হবে, নিষিদ্ধ করতে হবে।’

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, উগ্র মতবাদের বইগুলো নিষিদ্ধের ব্যাপারে সরকারের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া উচিত। ইসলামী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের গভর্নর অধ্যক্ষ মাওলানা জালাল উদ্দিন আল কাদেরী বলেন, ‘যারা অভিভাবক রয়েছেন তারা যদি নিজের ছেলে-মেয়েদের প্রতি নজর দেন। তাহলে আমার মনে হয় ছেলেরা বিপদগামী থেকে বাঁচতে পারবে।’

এক্ষেত্রে ইংলিশ মাধ্যমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সিলেবাস দেশের বাইরে প্রণয়ন হওয়ার পাশাপাশি সরকারের নজরদারির না থাকায় এধরণের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানালেন রেডিয়েন্ট গ্রামার স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর হাসিনা জাকারিয়া বেলা।

ইসলামী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জঙ্গিবাদে উস্কানি দিচ্ছে এমন লেখক এবং তাদের প্রকাশিত বইয়ের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তালিকার কাজ শেষ হলে তা সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে নিষিদ্ধ করার জন্য।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন