• আজ ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

গ্রানাডায় মার্কিন আগ্রাসনের পটভূমি ও গতি-প্রকৃতি

৫:৫৮ অপরাহ্ণ | বুধবার, জুলাই ১৩, ২০১৬ আন্তর্জাতিক

4bk7db114de1efa5um_800C450


আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

‘বিজয়ীরাই ইতিহাস লেখেন’- এই প্রবাদ বাক্যটি ল্যাটিন আমেরিকার দেশ গ্রানাডার সংক্ষিপ্ত সময়ের বিপ্লব, গৃহযুদ্ধ ও সেখানে মার্কিন আগ্রাসনের জন্য অত্যন্ত মানানসই। গ্রানাডার স্বৈরশাসক এরিক গ্যাইরি ছিলেন মার্কিন সরকারের মিত্র। ১৯৭৯ সালের মার্চ মাসে এক বিপ্লবের মাধ্যমে পদচ্যুত হন গ্যাইরি।

‘নিউজুয়েল মুভম্যান্ট’ নামের একটি আন্দোলনের সদস্যরা এই বিপ্লব ঘটান। গ্যাইরি এ সময় জাতিসংঘে ছিলেন। মার্কিন সরকার কখনও রক্তপাতহীন এই অভ্যুত্থানকে ভুলতে পারেনি। বিপ্লবীদের প্রভাবশালী নেতা ও বিপ্লবী সরকারের প্রধান মরিস বিশপ কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিডেল ক্যাস্ট্রোর দিকে ঐক্যের হাত বাড়িয়ে দেন। তিনি গ্রানাডার পুনর্গঠন ও উন্নয়নের কাজও শুরু করেন। ‘নিউজুয়েল মুভম্যান্ট’ বা নবরত্ন আন্দোলন ব্রিটিশ সংসদীয় পদ্ধতি বাতিল করেন। এই পদ্ধতি ছিল ক্যারিবিয় অঞ্চলে ব্রিটেনের সাবেক উপনিবেশগুলোতে প্রতিষ্ঠিত শাসন-পন্থা। বিপ্লবীরা স্থানীয় নতুন সংস্থাগুলোকে সংসদের স্থলাভিষিক্ত করেন। এইসব সংস্থার নেতারা জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হতেন। বিপ্লবীরা কৃষি খাতে ছোট ছোট সমবায় পদ্ধতি চালু করেন এবং বেশির ভাগ পরিবারের কাছেই কৃষি জমি ন্যস্ত করেন। এ ছাড়াও তাদেরকে দেয়া হতো বীজ, কাজে যন্ত্রপাতি ও আশপাশের দ্বীপ দেশগুলোতে ফল বিক্রির ক্ষেত্রে সহায়তা।

গ্রানাডার বিপ্লবী সরকার নানা ধরনের শাক-সবজি ও ফলের রস উৎপাদন এবং সেগুলোর টিনজাতকরণের জন্য একটি কারখানা চালু করে। এইসব উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের ফলে গ্রানাডায় বেকারত্ব ৪৯ শতাংশ থেকে কমে ১৪ শতাংশে নেমে আসে। এ ছাড়াও বিপ্লবী সরকার শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতের উন্নয়নকে জোরদার করে। কিউবার বিশেষজ্ঞরা চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য-কেন্দ্রগুলোর পুনর্গঠন বা আধুনিকায়নে সহায়তা করে এবং চিকিৎসা ও প্রশিক্ষণ সেবার খাতও গ্রানাডার বিপ্লবী সরকারের হাতে ন্যস্ত করে। শিক্ষা কেবল প্রাথমিক শিক্ষাতেই সীমিত থাকেনি, বরং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গ্রানাডার প্রকৃত ইতিহাস শেখানো হতে থাকে। দাস প্রথার বিরুদ্ধে গ্রানাডার জনগণের সংগ্রামসহ ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য তাদের প্রচেষ্টা ও উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলনের বিষয়ে জনগণকে সচেতন করে এইসব বিষয়ে গর্বের অনুভূতি জাগিয়ে তোলাই ছিল এই উদ্যোগের লক্ষ্য। গ্রানাডার বিশাল অভিবাসী বা মুহাজির সমাজও ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে বিপ্লবের সহায়তায় এগিয়ে আসেন। তারা গ্রানাডায় নতুন বিমান-বন্দর নির্মাণের জন্য অর্থ সংগ্রহ করে ও সরকারি বন্ড বা ঋণপত্র কিনে এই প্রকল্পে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

সেই যুগে ল্যাটিন আমেরিকা ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের পর্যটকরা গ্রানাডার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের জন্য প্রথমে হয় ত্রিনিদাদ অথবা বার্বাডোজে আসতো বিমানে চড়ে। এরপর অন্য ফ্লাইটে চড়ে আসতো গ্রানাডায়। আর এ জন্যই গ্রানাডার বিপ্লবী সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয়। এই প্রকল্পের জন্য গ্রানাডা ব্রিটেনের মার্গারেট থেচার সরকারের কাছ থেকে অর্থ সাহায্য পেয়েছিল। কিন্তু থ্যাচারের মিত্র ও তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগান সে সময় এ ঘোষণা দিয়ে বসেন যে, আমেরিকা তার ‘খোলা উঠানে’ আরেকটি কিউবা বা দ্বিতীয় কিউবার অস্তিত্ব সহ্য করবে না। এভাবে বিশ্ব-মোড়ল হওয়ার দাবিদার মার্কিন সরকার গ্রানাডার বিপ্লবী সরকারকে উৎখাতের সিদ্ধান্তের কথা মোটামুটি সবার কাছে স্পষ্ট করে দেয়।