কুড়িগ্রামে ‘জমদুত’ ডারায় বাঁশের সাঁকোটি এখন মরণ ফাঁদ!

৭:৫৫ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৪, ২০১৬ দেশের খবর, রংপুর

b4dc0224-8bc0-4895-a720-8fc518d3b673


ফয়সাল শামীম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভার সিএন্ডবি পাকা রাস্তা হতে ভগীরভিটা-কালীগঞ্জ গামী রাস্তার জমদুত ডারার বাঁশের সাঁকোটি এখন মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে। প্রতিদিন খোনে ২/৪টা ছোটবড় দুঘটনা ঘটেই চলেছে। (স্থানীয় ভাবে চালু আছে অনেক যুগ আগে এক দাদী স্বাপ্নাদিষ্ট হয়ে তার নাতিকে ওই স্থানে পানিতে ফেরে দিয়ে জমদুতের মনতুষ্টু করেছেন। সেই থেকে ওই ডারার নাম করণ হয় মানুষ খেকো বা জমদুত ডারা । স্থানীয় হিন্দুরা এখন সেখানে ছোট মঠ তৈরী করে পুজা করেন।)।

গত বছর বন্যার পানির তোরে ১৯৬৮সালে পাকিস্থান আমলের নির্মিত ৪০ফিট লম্বা ব্রিজটির মাঝের একটি পিলার ছাড়া উপরের স্লাব ও দুই মাথার পিলার ধসে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন স্ব-উদ্যোগে জমদুতের ডারায় একটি বাঁশের জাকলা বিছায়ে সাঁকো নির্মান করে কোন রকমে চলাচল করছেন। ভগিরভিটা গ্রামের বাসিন্ধা তারাপদ সরকার(৮৫),কালীচরন(৯২), বাচ্চুমিয়া(৭৫) ও জালাল উদ্দিন(৭০) জানান, পাকিস্থান আমলে আরাজিকুমরপুরের তৎকালীন পঞ্চায়েত খৈরত উল্লাহ স্থানীয় গাদা ভাটার ইট দিয়ে ১৯৬৮সালে তিনটি ইটের পিলারের উপর স্লাব ঢালাই দিয়ে ব্রিজটি নির্মান করেন।

দীর্ঘ ৫৪বছর পর গত বছর শুটকিয়া ব্রীজের মুখসহ পর পর দুটি বাঁধ দিয়ে পানির গতিপথ বন্ধ করে মাছ চাষ করায় বন্যার পানির তোড়ে ব্রিজটির দুই মোকার পিলার ও উপরের স্লাব ধসে যায়। ফলে পার্শ্ববর্তি ডায়নারপাড়, দীঘিরপাড়, জামতলা, চৌবাড়ী, বাবুরহাট, ডাকনিরপাট, ভগিরভিটা, আরাজীকুমরপুর,নন্দনপুর, সাতকুড়া এই ১০ গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ এখন সাঁকোটি দিয়ে চলাচল করেন। এলাকাবাসী জানায় পয়রাডাঙ্গা, মসলিয়া, গোদ্ধার ও দুবাছড়ি বিলের পানি শুটকিয়া ও জমদুত ব্রীজের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয় । ভাটিতে বাঁধ নির্মান করে মৎস চাষ প্রকল্প গড়ে তোলায় স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়।

ফলে টানা বৃষ্টিপাত ও উজানে পানির তীবতায় গত ২২ আগস্ট ব্রীজটি ধসে যায়। ভগিরভিটা গ্রামের বিকাশ, মুকুল, বকুল, সঞ্জিব, আরাজীকুমরপুর গ্রামের তৈয়ব আলী, লুৎফর রহমান, আজিজার রহমান বলেন শুটকিয়া ব্রীজের দক্ষিনে পর পর দুটি বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করায় একটু বৃষ্টি হলেই উত্তরে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। নষ্ট হয়ে যায় শতশত একর জমির ফসল। আগে দুটি ব্রীজের নিচ দিয়ে পানি বের হলেও এখন শুটকিয়া ব্রীজের নিচ দিয়ে পানি যেতে না পারায় জমদুতের ডারার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পানির তীব্র স্রোতে তা ভেঙ্গে গেছে। ব্রীজটি ভেঙ্গে যাওয়ার দু‘দিন পর ২৪আগষ্ট স্থানীয় সংসদ সদস্য এ.কে.এম মোস্তাফিজুর রহমান, পৌর মেয়র আব্দুর রহমান মিয়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হায়াত মো. রহমতুল্লাহ ও হাসনাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান সরকার জমদুতের ডারার ভেঙ্গে যাওয়া ব্রীজ পরিদর্শন করে শুষ্ক মৌসুমে ব্রীজটি পুন:নির্মানের আশ্বাস দেন। বছর ঘুরে গেলেও জমদুতের ডারায় ব্রীজ নির্মিত না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে জরুরী ভিত্তিতে ব্রীজ নির্মানের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

নাগেশ্বরী উপজেলা প্রকৌশলী বাদশা আলমগীর জানান, জমদুতের ডারায় একটি গার্ডার ব্রীজ নির্মানের জন্য প্রাক্কলন করে ঢাকা অফিসে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হয়ে এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।