সাঈদ পরিচয়ে ঝিনাইদহে ছিল নিবরাস..!

৯:১৩ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৪, ২০১৬ আলোচিত বাংলাদেশ, স্পট লাইট

news_picture_34701_nibrash1


সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ

নিজেকে সাঈদ পরিচয় দিয়ে ঝিনাইদহ শহরের হামদহ সোনালী পাড়ার একটি ছাত্রাবাসে চার মাস অবস্থান করেছিল গুলশানের হলি আর্টিসানে জঙ্গি হামলায় অংশ নেয়া নিহত নিবরাস ইসলাম।

কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা বলে সোনালীপাড়ার সাবেক সেনাকর্মকর্তা কাওসারের বাড়িতে মেস ভাড়া নেয় নিবরাস ও তার সঙ্গীরা।

ছাত্রাবাসের চারটি কক্ষে তারা আটজন মিলে থাকতো। বিকেল হলে ওই ছাত্রাবাসের পাশের একটি খেলার মাঠে অন্যদের সঙ্গে খেলাধুলায় অংশ নিতো নিবরাস।

ছাত্রাবাসটির আশপাশ এলাকা ও প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। জঙ্গি হামলায় অংশ নেয়া নিবরাস ইসলামের ছবি প্রকাশ হওয়ার পর স্থানীয় কয়েকজন ছাত্র তাকে চিনতে পারে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাস চারেক আগে ঝিনাইদহ শহরের হামদহ সোনালী পাড়া অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য কাওসার আলীর বাড়িতে ভাড়া নিতে আসে নিবরাস ও তার এক সঙ্গী। এসময় ওই ছাত্রাবাসের পাশের মসজিদের ইমাম তাদের সঙ্গে ছিলেন। ইমাম এলাকায় পরিচিত হওয়ায় তার জন্য নিবরাস বাসা ভাড়া পায়।

সোনালী পাড়ায় বসবাসকারী ও সরকারি কেসি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র নওরজামিন বর্ষণ জানান, প্রায় প্রতিদিনই ছাত্রাবাসের পাশের খেলার মাঠে তারা ফুটবল খেলতো। চারমাস আগে ওই নিবরাস নিজেকে সাঈদ নামে পরিচয় দিয়ে ওই মাঠে যেত এবং তাদের সঙ্গে খেলা করতো। সে ইবির ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার জন্য ছাত্রাবাসে থাকতো বলে সবাইকে বলতো। সে ভালো ইংরেজি বলতে পারতো। গুলশান ঘটনার পর ছবি দেখে আমরা জানতে পারি সেই সাঈদই আসলে নিবরাস।

ছাত্রাবাসের মালিক কাওসার আলীর স্ত্রী বিলকিস নাহার জানান, ঈদের আগের দিন রাত একটার দিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয়ে একদল লোক তাদের বাসায় আসে। তারা রাত তিনটা পর্যন্ত বাড়ি ও ছাত্রাবাস তল্লাশি করে। যাওয়ার সময় বাসার মালিক ও তার দুই ছেলে বেনসার আলী, বেনজির আলী, স্থানীয় সাব্বির নামের এক হাফেজ ও মসজিদের ইমাম রোকনুজ্জামানকে ধরে নিয়ে যায়।

বিলকিস নাহার আরো জানান, মসজিদের ইমাম রোকনুজ্জামান নিবরাস ইসলামসহ দুজনকে ছাত্রাবাসে তোলেন। তবে তারা কী করতো বা কোথা থেকে এসেছিল কিছু বলতে পারেন নি।

এদিকে ওই মসজিদের সভাপতি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঝিনাইদহ জেলা শাখার সভাপতি শরাফত হোসেন জোয়ারদার জানান, এক বছর আগে মসজিদের ইমাম নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। চারজন আবেদন করলে আমরা তাদের পরীক্ষা নেই। পরীক্ষায় রোকনুজ্জামান পাস করলে তাকে ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তারপর থেকে তিনি ইমামতি করে আসছেন।
ইমাম রোকনুজ্জামান যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নাইড়া গ্রামের আইনুদ্দিনের ছেলে।

উল্লেখ্য, গত ১ জুলাই রাতে রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকা গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলায় ৯ জন ইতালি, ৭ জন জাপানি, তিনজন বাংলাদেশি আর একজন ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়। জিম্মিদের উদ্ধারে সেনাবাহিনীর চালানো থান্ডারবোল্ড অপারেশনে প্রাণ হারায় ৬ জঙ্গি। এর আগে প্রতিরোধ করতে গিয়ে প্রাণ হারান দুই পুলিশ কর্মকর্তা। নিহত জঙ্গিদের মধ্যে নিবরাস ইসলাম অন্যতম।