‘জুম্মার খুৎবা নিয়ন্ত্রন’ সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ, শুক্রবার মানববন্ধনের ডাক

১১:৩৮ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৪, ২০১৬ আলোচিত বাংলাদেশ, ইসলাম, স্পট লাইট

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা – দীর্ঘদিন ধরেই আলেমদের আলোচনার কেন্দ্র ছিল ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জুমার ‘খুতবা নিয়ন্ত্রণের’ উদ্যোগ। সব ধরনের সমালোচনা উপেক্ষা করে শুক্রবার দেশের সব মসজিদে জুমার নামাজে ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা) প্রদত্ত খুতবা পাঠের আহ্বান জানানো হয়েছে। এজন্য জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমসহ সারাদেশের সব মসজিদে দুই পৃষ্ঠার একই খুতবা পাঠিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

এদিকে, দেশের ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের নেতা ও আলেমরা সমালোচনা করছেন এই উদ্যোগের। এমনকি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পাঠানো খুতবায় আরবি লেখায় ব্যাকরণগত ভুল রযেছে বলেও জানিয়েছেন একাধিক আলেম।

জানা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে জঙ্গিবাদ রোধে সরকারের নির্দেশনার অংশ হিসেবেই শুক্রবারের জুমার নামাজের আগে খুতবা নিয়ে কী পাঠ করা হবে, তা নিয়ে পরিকল্পনা করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। ইতোমধ্যে সারাদেশে সব বিভাগীয় সম্মেলনের মাধ্যমে খতিবদের কাছে এ ধরনের নির্দেশনা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল বলেন, বায়তুল মুকাররম মসজিদে যে খুতবা পাঠ করা হবে, সেটাই সারাদেশের সব মসজিদে পাঠানো হয়েছে। মসজিদের ইমামরা এই খুতবা হুবহু পাঠ করতে পারেন অথবা এটার অনুকরণে খুতবা পাঠ করতে পারেন। ইতোমধ্যে সারাদেশের মসজিদগুলোয় খুতবার কপি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সারাদেশের মসজিদে জুম্মার খুৎবা নিয়ন্ত্রনের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে খেলাফত মজলিস। বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীসভার বৈঠকে মসজিদে জুম্মার খুৎবা নিয়ন্ত্রনের সিদ্ধান্ত ও ইসলামিক ফাউন্ডেশান কতৃক  আগামিকাল শুক্রবার বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদসহ সারাদেশের ত্রিশ লাখ মসজিদে জুমা’য় একই খুৎবা দেওয়ার সিদ্ধান্তর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে খেলাফত মজলিস।

খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে বলা হয়, সন্ত্রাবাদ দমনে ব্যর্থ সরকারের মতিভ্রম হয়েছে। সরকারের ব্যর্থতার কারণে একের পর এক উগ্রবাদী হামলার ঘটনায় জাতি চরমভাবে উদ্বিগ্ন। মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছে। এ অবস্থায় প্রয়োজন দল-মত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্য। কিন্তু সরকার সেদিকে না গিয়ে সন্ত্রাসী হামলা থেকে রাজনৈতিক সুবিধা গ্রহনের চেষ্টা করছে।

গনমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে জানানো হয়, এ অবস্থায় প্রয়োজন দল-মত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্য। কিন্তু সরকার সেদিকে না গিয়ে সন্ত্রাসী হামলা থেকে রাজনৈতিক সুবিধা গ্রহনের চেষ্টা করছে। বিরোধী দলসমূহের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করছে। মুসলমানদের ইবাদতখানা মসজিদ নজরদারী ও জুম্মাহর খুৎবা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার মাধ্যমে মূলত: ইসলাম নিয়ন্ত্রণেরই চেষ্টা করছে।

ইসলাম বিদ্বেষী চক্রকে খুশী করতেই সরকার এ ধরণের অমূলক পদক্ষেপের চিন্তা করছে। এহেন পদক্ষেপ এদেশের শান্তিপ্রিয় ধর্মপ্রাণ জনগণ মেনে নেবে না। মনে রাখতে হবে, মসজিদের মিম্বর থেকে ইমাম- খতীবগণ শান্তি ও সম্প্রতির কথা বলেন। দুনিয়ার শান্তি ও পরকালীন মুক্তির জন্যে ইসলামের সুমহান ও শ্বাসত: আদর্শের কথা বলেন। ইসলাম সবসময় উগ্রতা, সন্ত্রাস, হত্যার বিরুদ্ধে।

ইসলাম কখনোই কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করাতো দূরের কথা গালি দেয়াও সমর্থন করে না। সুতরাং মসজিদ, মাদ্রাসা, ইসলামী প্রতিষ্ঠানের দিকে সন্দেহের তীর ছুড়ে লাভ নেই। সন্ত্রাসবাদেও প্রকৃত উৎস ও দেশের অস্তিত্ববিনাশী দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নায়েবে আমীর মাওলাা সৈয়দ মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে মহাসচিব ড. আহমত আবদুল কাদেরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুগ্মমহাসচিব মাওলানা মোহাম্মদ শফিক উদ্দিন, অধ্যাপক শেখ গোলাম আসগর, প্রশিক্ষণ সম্পাদক- অধ্যাপক আবদুল হালিম, অর্থ ও আইন বিষয়ক সম্পাদক- এডভোকেট মো: মিজানুর রহমান, অধ্যাপক কে এম আলম, অধ্যাপক মো: আবদুল জলিল, হাফেজ মাওলানা জিন্নত আলী, মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, মাওলানা আজিজুল হক প্রমুখ

বৈঠকে হত্যা, সন্ত্রাস, উগ্রতার বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যেও আহ্বান জানান হয় এবং এ লক্ষ্যে আগামী ১৫ জুলাই শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সমানে মানববন্ধন কর্মসূচী সফলের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ ছাড়া পরবর্তীতে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে কর্মসূচী ঘোষনা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

শুক্রবার সারাদেশের সব মসজিদে একযোগে পড়া হবে যে খুৎবা