ইসকন ভক্ত পিকলু ধর্মান্তরিত হওয়ার পর দুর্ধর্ষ জঙ্গি !


❏ শুক্রবার, জুলাই ১৫, ২০১৬ স্পট লাইট

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক – জঙ্গি কার্যক্রমে লিপ্ত ধর্মান্তরিত হওয়া পিকলু দাশ ওরফে মুসয়াব ইবনে উমায়েরকে ১১ জুলাই রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ গ্রেফতার করে। পিকলু চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ছনহরা ইউনিয়নের মহাজনবাড়ির অরুণ কান্তি দাশের ছেলে। তার মায়ের নাম ঝর্ণা রানী দাশ। গ্রেফতারের পর জানা গেছে ধর্মান্তরিত পিকলু এখন জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের একজন সক্রিয় সদস্য। চট্টগ্রামের বিভিন্ন মিল-কারখানায় কর্মরত বিদেশী নাগরিক, আইনশৃংখলা বাহিনীসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালানোর জন্য পিকলু দাশসহ ১০-১২ জনের একটি টিম পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছিল। এ মাসের মধ্যে এ টিমের সদস্যরা জঙ্গি হামলা চালানোর ছক কষছিল বলে পুলিশের তদন্তে বের হয়ে আসে।

piklu

হিন্দু কট্টরপন্থী সংগঠন হিসেবে পরিচিত ‘ইসকন’ (ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনসাসনেস) ভক্ত পিকলু কীভাবে ধর্মান্তরিত হলেন, ধর্মান্তরিত হওয়ার পর জঙ্গি কার্যক্রমে যোগ দিলেন তা নিয়েও নানা প্রশ্ন। তার গ্রামের বাড়িতে জমি কিনে দুই বছরে প্রায় ৩০ লাখ টাকা খরচ করে নির্মাণ করা হয়েছে সুসজ্জিত ইমারত। জঙ্গি অর্থায়নেই কি ধর্মান্তরিত পিকলুদের ইমারত নির্মাণ করা হল এমন প্রশ্নও দেখা দিয়েছে। যদিও পিকলুর পরিবার বলছে আলুর আড়তের ব্যবসার টাকাতেই তারা জমি কিনে বাড়ি বানিয়েছেন। চার বছর ধরে পিকলুর সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই বলেও দাবি পিকলুর মায়ের।

চার বছর আগে ঘরছাড়া বুধবার গ্রেফতার জঙ্গি মুসয়াব ইবনে উমায়ের ওরফে পিকলু দাশের উপজেলার ছনহরা ইউনিয়নের মহাজনবাড়িতে সরেজমিন গিয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে পিকলু দাশ সম্পর্কে। গ্রামে তাদের রাজকীয় সুদৃশ্য বাড়িটি দেখে গ্রামের অনেকেরই মনে প্রশ্ন জঙ্গি অর্থায়নেই কি সুদৃশ্য এ বাড়িটি নির্মাণ করা হয়। তারা এও বলছেন, দুই বছর আগেও তাদের বাড়িটি ছিল কাঁচা। নগরীতে তার বাবার ক্ষুদ্র ব্যবসার টাকায় জমি কিনে বিপুল টাকায় এ ধরনের বাড়ি নির্মাণ কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলেও মনে করেন গ্রামের লোকজন।

পিকলু দাশের মা ঝর্ণা রানী দাশ যুগান্তরকে বলেন, পিকলু দাশ ২০০৭ সালে নগরীর ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজে এইচএসসিতে পড়াশোনা করে। এ সময় ২-৩ জন ছেলে প্রায় সময় বাসায় আসা-যাওয়া করত। তারা কেন আসা-যাওয়া করত সে বিষয়ে পিকলু কখনোই পরিবারকে জানায়নি। তবে সে চার বছর আগে একদিন দুপুরে কৈ মাছ দিয়ে ভাত খেয়ে মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছিল। সে সময় এক মুসলিম মেয়ের সঙ্গে বিয়ের কথা বলে মুসলিম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয় বলেও জানিয়েছিল। কিন্তু এর পর থেকে তাদের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ রাখেনি পিকলু। পিকলুর খোঁজে থানায় কোনো ডায়েরিও করা হয়নি। পিকলুর মা জানান, তার ২ ছেলে, ২ মেয়ের মধ্যে পিকলু দ্বিতীয়। দুই ছেলের মধ্যে পিকলু দাশ সবার বড়। তার অপর ভাই ষোড়শী বালা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীতে পড়ছে। পিকলুর দুই বোন উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে। লেখাপড়া শেষে তাদের বিয়ে হয়। বাবা অরুণ কান্তি দাশ চট্টগ্রাম শহরে রিয়াজউদ্দিন বাজারে আলুর আড়তের ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।

পিকলুর বাবা অরুণ দাশ যুগান্তরকে জানান, তিনি এর আগে একটি আড়তে দিনে দেড়শ’ টাকা মজুরিতে চাকরি করতেন। সর্বশেষ দু’বছর আগে নিজেই একটি ক্ষুদ্র আড়ত খোলেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে তিনি শহরে থাকতেন।

চাকরি ছেড়ে মাত্র দুই বছর আগে আলুর আড়ত দিলেও একই সময়ে ছনহরার পিকলুর বাবা অরুণ দাশ ছনহরার মহাজনবাড়িতে জমি কিনে কীভাবে প্রায় ৩০ টাকা ব্যয়ে একটি সুসজ্জিত বাড়ি নির্মাণ করলেন এ প্রশ্ন এলাকাবাসীর মনে। পিকলু জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনাকালে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর এ সন্দেহ আরও দানা বেঁধেছে। জঙ্গি অর্থায়নেই কি এই বাড়ি সেটিও উড়িয়ে দিচ্ছেন না এলাকাবাসী।

পিকলুর মা ঝর্ণা রানী জানান, ‘তিনি অনুকূল ঠাকুরের অনুসারী। কিন্তু পাশের ‘ইসকন’ মন্দিরের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ও বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকেন। পিকলু দাশ নিজেও ইসকন ভক্ত ছিল।

পটিয়া থানার ওসি রেফায়েত উল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘গ্রেফতার পিকলু দাশ আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সক্রিয় সদস্য। তার পরিবার সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পরও কেন থানায় জিডি করা হল না সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন তারা।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন