• আজ মঙ্গলবার, ৬ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

সেই ভয়াবহ রাতের দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন জাপানী নাগরিক তামাওকি


❏ শুক্রবার, জুলাই ১৫, ২০১৬ Breaking News, আলোচিত, আলোচিত বাংলাদেশ, স্পট লাইট

শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। শনিবার সকালে রেস্টুরেন্টটিতে কমান্ডো অভিযান চালানো হয়। অভিযানের পর কয়েকজন বাংলাদেশি জিম্মির পাশাপাশি ১৭ জন বিদেশি নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ৭ জন জাপানি। নিহতরা বাংলাদেশে জাপান সরকারের একটির উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করছিলেন। নিহতদের বয়স ২৭ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে।

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক-

গুলশানের আর্টিশান হোটেলে ভয়াবহ জঙ্গী হামলা থেকে বেঁচে ফেরা একমাত্র জাপানি নাগরিক (চিকিৎসাধীন) তামাওকি ওয়াতানাবে জানিয়েছেন সেই ভয়াবহ রাতের দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা।

সে রাতে কীভাবে প্রাণে বেঁচে ফিরলেন সম্প্রতি নিজ দেশের পুলিশকে তা জানিয়েছেন তিনি। তামাওকি বলেছেন, বেকারিতে গোলাগুলি শুরু হওয়ার পর পরই তিনি হামলাকারীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে হলি আর্টিজানের বাগানের এক ঝোপে লুকিয়ে নিজেকে রক্ষা করেন।

জাপানি পুলিশের বরাত দিয়ে জাপানি সংবাদমাধ্যম জাপান টাইমস জানিয়েছেন, হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টের বাগানের এক ঝোপে লুকিয়ে হামলাকারীদের হাত থেকে রেহায় পেয়েছিলেন তিনি। খবরে বলা হয়েছে, ৪৬ বছর বয়সী তামাওকি ওয়াতানাবে গুলশান হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। এখন টোকিওর এক হাসপাতালে আছেন তিনি। আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে উঠছেন তামাওকি। তিনি জানিয়েছেন, হলি অর্টিজানে গোলাগুলি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ওই ক্যাফে থেকে বের হয়ে বাগানের ঝোঁপে এসে আশ্রয় নেন।

জাপানি পুলিশের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎকারে তামাওকি জানান , তার সঙ্গে আরও ৭ জাপানি নাগরিক ছিলেন। এবং জঙ্গিবিরোধী অপারেশন শেষে তাদের কেউ ভবন থেকে বের হয়ে আসেননি।

gulsan-trajedi-sk

তামাওকি বলেন, সেদিন রাতের খাবার খেতে ১ জুলাই সন্ধ্যায় গুলশানের ওই ক্যাফেতে গিয়েছিলেন তিনি। খেতে বসার পরপরই হঠাৎ গুলির শব্দে তিনি উঠে দৌড় দেন। সঙ্গে থাকা বন্ধুরাও ততক্ষণে ছোটাছুটি শুরু করেন। হামলাকারীরা তখন এলোপাতাড়ি গুলি করছিল। ওই অবস্থার মধ্যে তিনি ভবনের বাইরে বেরিয়ে কম্পাউন্ডের ভেতরে বাগানের একটি ঝোপে গিয়ে আশ্রয় নেন। ভেতরে তখন গোলাগুলি চলছিল। তামাওকি বলেন, বেঁচে ফেরার কথা সে সময় তিনি ভাবতে পারেননি। চারদিকে গুলির শব্দ আর চিৎকারে তার কেবলই মনে হচ্ছিল, এই বুঝি সন্ত্রাসীরা ধরে ফেলবে। লুকানোর পর সঙ্গে থাকা জাপানি বন্ধুদের আর কাউকে দেখতে পাননি  তিনি।  ক্যাফেতে তার সঙ্গে আরও ৭ জাপানি নাগরিক ছিলেন এবং জঙ্গিবিরোধী অপারেশন শেষে তাদের কেউ ওই ভবন থেকে বের হয়ে আসেননি।

শনিবার সকালে আইনশৃংখলা বাহিনীর অভিযানের পর সেখান থেকে জিম্মিদের মধ্যে জীবিত ১৩ জন উদ্ধার হয়। তামাওকি সেই ১৩ জনের একজন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় যারা গুলশানের অভিযান শেষে বের হয়ে এসেছিলেন। পরে সাংবাদিকদের তামাওকি ওয়াতানাবে বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের জঘন্য কর্মকাণ্ড মূল্যবান জীবন কেড়ে নিয়েছে। আমি আবারও এ ঘটনায় গভীরভাবে বেদনাবোধ করছি এবং ধিক্কার জানাচ্ছি।’

এরআগে ৭ জুলাই মঙ্গলবার গুলশানের আর্টিজান রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত জাপানিদের মরদেহ নিজ দেশে পৌঁছায়। আহত জাপানি নাগরিক তামাওকিও অন্য একটি বিমানে করে দেশে পৌঁছান। জাপানের বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাকে স্ট্রেচারে করে টোকিওর একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

মঙ্গলবার মরদেহবাহী বিমানটি অবতরণের পর সাদা কাপড়ে ঢাকা কফিনগুলো নামিয়ে আনা হয়। এর পর চার চাকাবিশিষ্ট কার্গো ট্রলিতে কফিনগুলো সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়। জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা, বাংলাদেশের রাষ্ট্রদুত রাবাব ফাতিমা এবং অন্য কর্মকর্তারা সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

সূত্র: জাপান টাইমস

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন