• আজ ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্সে জনতার ওপর ট্রাক হামলা, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৪

৩:৪২ অপরাহ্ন | শুক্রবার, জুলাই ১৫, ২০১৬ Breaking News, আন্তর্জাতিক, ফিচার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় নিস শহরে জাতীয় দিবস উদযাপনের সময় জনতার ওপর ট্রাক হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতে তিউনিশিয়ান বংশোদ্ভূত ফ্রান্সের এক নাগরিক ওই হামলা চালায়।

এ ঘটনায় আহত হয়েছে কমপক্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ। এদের মধ্যে ১৮ জনের অবস্থা আশংকাজনক। পরে পুলিশ চালককে গুলি করে হত্যা করে ট্রাক থামিয়েছে।

সন্দেহভাজন হামলাকারীর বয়স ৩১ বছর। দুই দেশের নাগরিকত্ব ছিল বলে স্থানীয় পুলিশ নিশ্চিত করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার না করলেও হামলার পেছনে আইএস জড়িত থাকার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্যের জন্য সমর্থকদের অপেক্ষা করতে বলছে আইএস নিয়ন্ত্রিত সংবাদসংস্থা আমাক নিউজ অ্যাজেন্সি। france-inner_21083_2ফরাসি কর্মকর্তারা বলছেন, তারা ওই হামলার পর তদন্ত শুরু করেছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, হামলায় ব্যবহৃত ট্রাক থেকে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে। সেই সূত্র ধরেই পুলিশ বলছে, হামলাকারী নিস শহরেই বসবাস করতেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বাস্তিল দিবসের আতশবাজি উদযাপনে ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলের নিস শহরের বিখ্যাত প্রমেনেদ দে আঁগলাইসে বহু মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। সেই ভিড়ের মধ্যে চালক ২৫ টনি লরি ১শ’ মিটারের বেশি রাস্তা চালিয়ে নিয়ে যান।

স্থানীয় সরকারের প্রধান ক্রিস্তিয়ান এস্তরোসি বলেছেন, লরি নিয়ে যাওয়ার সময় চালক জনতার ওপর গুলিও চালাচ্ছিল। ওই ট্রাকে অস্ত্র এবং গ্রেনেড পাওয়া গেছে।

টুইটারের কয়েকটি ছবিতে দেখা যায়, অনেক মানুষ রাস্তার ওপর পড়ে রয়েছে। দিশেহারা হয়ে ছোটাছুটি করছে আতংকিত মানুষ। এ ঘটনাকে একটি সন্ত্রাসী হামলা বলে বর্ণনা করছে শহরটির কর্তৃপক্ষ। তারা বাসিন্দাদের ঘরের ভেতর থাকার জন্য অনুরোধ করেছে।

নিস মাতাঁ নামের একটি স্থানীয় পত্রিকার এক সাংবাদিক বিবিসিকে জানান, পুরো এলাকা রক্তে একাকার হয়ে গেছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি গুলির শব্দ শুনেছেন। প্রথমে আতশবাজির শব্দ মনে করলেও পরে তীব্র আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর অন্যদের মতো তিনিও নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দৌড়াতে থাকেন।

সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনার বেশ কয়েকটি ছবি প্রকাশ হয়েছে। তাতে দেখা যায়, অসংখ্য মানুষ আতকিংত মুখে শহরের রাস্তা ধরে ছুটে পালাচ্ছেন। এ ঘটনার পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁন্দ জরুরি বৈঠক ডেকেছেন।

জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি এটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ফ্রাঁসোয়া ওলাঁন্দ বলেন, এটা যে সন্ত্রাসী হামলা, তা অস্বীকার করা যায় না। এ ঘটনার পর তিনি জরুরি অবস্থার মেয়াদ আরও তিন মাস বৃদ্ধির কথা বলেছেন। চলতি মাসের ২৬ তারিখে জরুরি অবস্থার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।hamlaএকইসঙ্গে ইরাক ও সিরিয়ায় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ফরাসি সরকারের পদক্ষেপ জোরদার করার কথা বলেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘ইসলামিক সন্ত্রাসের হুমকিতে গোটা ফ্রান্স। সন্ত্রাসীদের মোকাবেলায় যা করা প্রয়োজন, আমরা সবই করব।’

গতবছরের নভেম্বরে প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলায় ১৩০ জন নিহত হয়। এরপর থেকে দেশটিতে জরুরি অবস্থা রয়েছে। তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটল। বাস্তিল দুর্গ পতনের দিবস হিসেবে ফ্রান্সে জাতীয়ভাবে দিনটি পালন করা হয়। এ উপলক্ষেই শহরটিতে নানা অনুষ্ঠান চলছিল।