ভালোবাসার মুল্য দিতে গিয়ে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার এক তরুনীর বাঁধভাঙ্গা কান্না

৯:০৩ অপরাহ্ন | শুক্রবার, জুলাই ১৫, ২০১৬ Breaking News, আলোচিত, আলোচিত বাংলাদেশ, স্পট লাইট

রাজশাহী প্রতিনিধি, সময়ের কণ্ঠস্বর-

স্কুলজীবন থেকেই ভালোবাসার শুরু কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ চুকিয়েই সেই ভালোবাসার মুল্য দিতে গিয়ে তাসফিয়া নামের এক তরুনী পরিবারের অমতে বাড়ি থেকে পালিয়ে প্রেমিক পুরুষটিকে বিয়ে করেছিলেন দুই বছর আগে । কিন্তু সেই ভালোবাসা স্থায়ী হয়নি বেশিকাল । দুচোখ ভরা স্বপ্ন দেখিয়েছিলো যে প্রেমিক পুরুষটি সেই কিনা যৌতুকের জন্য প্রিয় মানুষটির উপরে চালিয়েছে অমানুষিক নির্যাতন ।  স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় চুর হয়ে সাথে পুরো শরীরে অসংখ্য ক্ষত নিয়ে নির্যাতনের শিকার এই তরুণী এখন লড়ছেন মৃত্যুর সঙ্গে !

২১ বছরের তাসফিয়া এখন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিসি সেন্টারে (ওসিসি) কাতরাচ্ছেন আর লড়াই করছেন মৃত্যুর সাথে । স্বামীর ভয়ানক নির্যাতনে ভেঙে গেছে বাম পা ও হাতের দুই জায়গার হাড় সহ ভেঙেছে ডান হাতও।  অক্ষত নেই বুকের পাঁজরও। মাথাও বাদ যায়নি নির্যাতন থেকে; ফেটে যাওয়া মাথায় সেলাই পড়েছে ১৭টি।

নিত্যদিন রোগী দেখা হাসপাতালের চিকিৎসকেরাও অবাক হয়ে দেখছেন আর বলছেন, এমন ভয়ানক নির্যাতন কি কোন সুস্থ্য মানুষের পক্ষে করা সম্ভব ?

নগরীর ডিঙ্গাডোবা এলাকার ফজলুল হকের ছেলে শামিউল হক সোহাগের স্ত্রী তাসফিয়ার  ছয় মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে । তাসফিয়ার উপরে ভয়াবহ এমন নির্যাতনের অভিযোগে গত  মঙ্গলবার বিকেলে তার স্বামী সোহাগকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

tasfia

তাসফিয়ার স্বজনদের অভিযোগ,  ” ‘বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তাসফিয়াকে নির্যাতন করে আসছিল সোহাগ ও তার পরিবারের সদস্যরা। তার দাবিতে দেড় লাখ টাকাও দেওয়া হয়। প্রায় ছয় মাস আগে তাসফিয়া একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। এরপরও নির্যাতন থামেনি। সোমবার বিকেলে যৌতুকের দাবিতে তাকে আবারও মারপিট করতে শুরু করে সোহাগ।যৌতুকের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে নির্যাতনের মাত্রাও।”

অন্যদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাসফিয়া সাংবাদিকদের জানিয়েছেন,’সোমবার বিকেলে ছয় মাসের মেয়েকে নিয়ে ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ সে (স্বামী সোহাগ ) বাড়িতে এসে টাকা চায়। টাকা নেই বলাতে খাটের নিচ থেকে একটি পাইপ বের করে আমাকে পেটাতে শুরু করে। এসময় আমি খাট থেকে মেঝেতে পড়ে যাই। তবুও পেটানো বন্ধ হয়নি; বাড়ির কেউই আমাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। একপর্যায়ে আমি জ্ঞান হারাই।’

এ ঘটনায় নগরীর রাজপাড়া থানায় সোহাগ, তার মা জাহানারা বেগম সুজি (৫০), বাবা ফজলুল হক (৫৬), ভাই ফয়সাল (৩০) ও সজিবের (২৮) বিরুদ্ধে মঙ্গলবার একটি মামলা করেন তাসফিয়ার মা।

রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমান উল্লাহ বলেন, ‘এভাবে কেউ বউকে মারতে পারে তা দেখে অবাক হয়েছি। সোহাগকে মঙ্গলবার বিকেলে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।