শুধু সমাবেশ নয়, জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে : ইমরান

৯:১৩ অপরাহ্ন | শুক্রবার, জুলাই ১৫, ২০১৬ Breaking News, জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর – গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেছেন, জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। আমাদেরকেও তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে। এর জন্য সকলকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশের পরিস্থিতি যেখানে দাঁড়িয়েছে, সেখানে মিছিল সমাবেশের মাধ্যমে কিছু হবে না। ঐকবদ্ধভাবে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

শুক্রবার বিকেলে শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে ‘সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদমুক্ত নিরাপদ বাংলাদেশ চাই’ শীর্ষক নাগরিক সমাবেশে এ ঘোষণা দেন তিনি।

ইমরান এইচ সরকার বলেন, আজকে কোনো হত্যার বিচার নেই। বিচার চাইলে তাদের গলা টিপে ধরা হচ্ছে। আজকে বিচার চাইতে গেলে সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতির দায় কাউকে না কাউকে নিতেই হবে।

তিনি বলেন, একাত্তরের উত্তরসূরিরা এ সব হামলা চালাচ্ছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। রাষ্ট্রযন্ত্র এর আগের হামলাগুলোর বিচার না করায় এ সব বড় হামলা হচ্ছে।

imran-h

অধ্যাপক ড. অজয় রায় বলেন, ইসলামকে ব্যবহার করে পুরোহিত, পূজারিদের মতো শান্তিপ্রিয় মানুষদের হত্যা করছে। কী উদ্দেশ্যে করছে তা জানি না। ইসলাম শান্তির ধর্ম এবং এ সব হত্যাকাণ্ড ইসলামের বিপরীতে যায়।

তিনি বলেন, ‘ইসলামের নাম ব্যবহার করে পুরোহিত হত্যা করে ইসলাম কতটুকু অগ্রসর হচ্ছে, তা আমি হত্যাকারীদের কাছে জানতে চাই।’

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, সকলে মিলে জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জোর আওয়াজ তুলতে হবে। যার যার অবস্থান থেকে প্রতিবাদ না করলে ইতিহাস ক্ষমা করবে না। সকল ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ না করলে এ সব বন্ধ হবে না।

মানবাধিকার কর্মী খুশি কবির বলেন, ‘প্রত্যেক নাগরিকেরই সমান অধিকার থাকতে হবে। সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ করা থেকে আমরা অজ্ঞাত কারণে বিরত। আমাদের আতঙ্কগ্রস্থ হওয়া যাবে না। সবাইকে জোর আওয়াজ তুলতে হবে সরকার যেন এটাকে একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে নেয়।’

ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লাকি আক্তার বলেন, যারাই ক্ষমতায় আসে তারাই জঙ্গিবাদকে পৃষ্টপোষকতা করছে। প্রথম যারা হামলা করেছে, তাদের বিচারে অবহেলা করছে সরকার। এখন এদের প্রতিহত করতে না পারলে ভবিষ্যত আরো অন্ধকারের দিকে যাবে। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে গ্রাম মহল্লায় আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে।

ভাস্কর রাসা বলেন, দেশের এমন পরিস্থিতি কেউ কখনো আশা করেনি। এর মূল কারণ হচ্ছে দেশে রাজনীতি নিয়ে ব্যবসা চলছে। এর দায় সরকারের, জনগণের নয়। সরকার অজ্ঞাত কারণেই জামায়াতকে নিষিদ্ধ করছে না। যার কারণে জঙ্গিবাদ চারদিকে ছড়িয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামিক জোটের সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা জিয়াউল হাসান বলেন, মানবজাতির শত্রু আইএস। জামায়াতিরা ৭১-এ হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল, আইএসও একই কাজ করছে। এটা ইহুদিদের অস্ত্র বিক্রির পাঁয়তারা। আইএস ও যুদ্ধাপরাধী দুটি একই সূত্রে গাথা। এরা ইসলামের শত্রু, নবীর শত্রু। এদের দমন করতে হবে। ৭১-এ যেভাবে দমন করা হয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে দমন করতে হবে।

সমাবেশে ডা. ইমরান এইচ সরকার আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ১৮ জুলাই সারাদেশে একযোগে গণসংযোগ কর্মসূচি ‘প্রতিরোধ ঘরে ঘরে’। ২০ জুলাই সারা দেশের জেলা-উপজেলায় বিকেল ৪টায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ। ২২ জুলাই শাহবাগে গণমিছিল ও পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা।

সমাবেশ শেষে একটি পতাকা মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শাহবাগ থেকে শুরু হয়ে টিএসসি হয়ে আবার শাহবাগে এসে শেষ হয়।