সংবাদ শিরোনাম

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পরিবর্তনের ইঙ্গিত আইনমন্ত্রীরপঞ্চম দফায় স্বেচ্ছায় ভাসানচর যাচ্ছেন আরও ৩ হাজার রোহিঙ্গাআল-জাজিরার বিরুদ্ধে ৫০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের মামলারাজশাহীতে বিএনপির সমাবেশ আজ, সব রুটের বাস বন্ধনিষেধাজ্ঞা পৌঁছানোর ৫২ মিনিট আগে বেনাপোল দিয়ে ভারতে পালান পি কে হালদার৮ম শ্রেণি পাস করে ‘ডাক্তার’, চেম্বার খুলে দেখছেন রোগী!বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পুনর্বিবেচনার আহ্বান জাতিসংঘেরফুলবাড়ীতে টিভি দেখার প্রলোভনে প্রতিবন্ধী শিশুকে বলাৎকারআল-জাজিরা একটা নাটক লিখেছে, যা বেমানান: পররাষ্ট্রমন্ত্রীসিএমপিতে ৮ পুলিশ কর্মকর্তার দফতর বদল

  • আজ ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

জঙ্গি নিবরাসের সঙ্গে থাকা কে এই সাত যুবক ? কি মিশন নিয়ে তারা ঝিনাইদহে ছিল ?

১২:২৭ পূর্বাহ্ন | শনিবার, জুলাই ১৬, ২০১৬ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –   গুলশান হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলার সন্দেহভাজন জঙ্গি নিবরাস ইসলাম ওরফে সাঈদের সঙ্গে ঝিনাইদহের একটি মেসে থাকা অপর ৭ যুবককে নিয়ে সন্দেহ দানা বেঁধে উঠেছে। এই সাত যুবক কারা, কি মিশন নিয়ে তারা ঝিনাইদহে ছিল, কি তাদের পরিচয় এবং এখন তারা কোথায় আছে এমন হাজারো প্রশ্ন মানুষের মনে উঁকি দিচ্ছে।

modod

নানা কৌতূহলী ও প্রশ্নের পাশাপাশি ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে ঝিনাইদহে অতিসম্প্রতি ঘটে যাওয়া চারটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড নিয়ে। সন্দেহের তীর এখন আইএস থেকে দায় স্বীকার করা চাঞ্চল্যকর ঝিনাইদহের এসব হত্যার সঙ্গে নিবরাস ইসলাম জড়িত কিনা। এসব বিষয়ে পুলিশ মুখ খুলতে চাচ্ছে না। ঝিনাইদহ শহরের হামদহ এলাকার সোনালীপাড়ার ভাড়া ছাত্রাবাসে থাকাকালে নিবরাস যে মোটরসাইকেলটি চালাতো তাতে প্রায় তিনজনকে চলাচল করতে দেখেছেন স্থানীয় জনগণ। আর পুরোহিত আনন্দ গোপাল ও সেবায়েত শ্যামানন্দ দাস হত্যাকাণ্ডে মোটরসাইকেল ব্যবহার করে খুনিরা।

খ্রিষ্টান হোমিও ডাক্তার সমির খাজা ও আব্দুর রাজ্জাক হত্যার সম্ভাব্য কোনো প্রত্যক্ষদর্শী আছে কিনা জানা যায় নি। ফলে নিবরাসের ঝিনাইদহে অবস্থানকালে ঘটে যাওয়া আলোচিত কয়েকটি হত্যা নিয়ে নতুন করে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। নিবরাস ইসলাম ঠিক কত দিন ঝিনাইদহের ওই বাড়িতে ছিলেন, সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বাড়ির মালিকের স্ত্রী বিলকিস নাহারের দাবি, আনুমানিক চার মাস আগে নিবরাস আসে। ২৮শে জুন চলে যায়। আর ফুটবল খেলার সঙ্গী স্থানীয় তরুণেরা বলেছে, মাস খানেক তাদের সঙ্গে নিবরাস খেলেছে। সেটা কোন মাস, সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঢাকার গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য আছে, নিবরাস ও তার সঙ্গীরা ঝিনাইদহে ছিল ৩ থেকে ৩০শে মে পর্যন্ত। এরপর সে ৫ই জুন থেকে বগুড়ায় ছিল। ২৫শে জুন ঢাকায় আসে। গুলশানে হামলার পর নিবরাসের পরিবার বলেছে, নিবরাস ৩ ফেব্রুয়ারি বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিরুদ্দেশ হয়। ৫ই ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। তাতে নিবরাসসহ তিন তরুণ নিখোঁজ হওয়ার কথা বলা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জঙ্গিদের মেসে রান্নার কাজের বুয়া জানায়, সে প্রতিদিন তিন বেলা এসে চারজনের রান্না করে দিতো। কিন্তু থাকতো আটজন। বাকি চারজন বলতো, তারা বাইরে থেকে খেয়ে আসে। বেশির ভাগ সময় ভাতের সঙ্গে আলুভর্তা, ডিম আর ডাল রান্না করতো। মেসে একটি মোটরসাইকেল থাকত। সাঈদ (নিবরাস) বেশির ভাগ সময় মোটরসাইকেলে বাইরে যেত বলে কাজের বুয়া জানায়।

মোটরসাইকেলে অচেনা ঝিনাইদহ শহরে আধুনিক শিক্ষায় গড়ে ওঠা নিবরাস ওরফে সাঈদ কোথায় যেতেন, কি করতেন এমন তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে নেই। বাড়ির মালিক কওছার আলীর ভাই তাহের আলী জানান, তারা পাঁচ ভাই। তিনিসহ তিন ভাই আওয়ামী লীগের সক্রিয় সমর্থক। কওছারসহ দুই ভাই সেনাবাহিনীতে চাকরি করতেন। তারা কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নন। এদিকে ঝিনাইদহের পুলিশ বিভিন্ন সময় জানিয়ে আসছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কালুহাটী গ্রামের বেলেখাল বাজারে খ্রিষ্টান হোমিও চিকিৎসক সমির বিশ্বাস ওরফে সমির খাজা, কালীগঞ্জ শহরের নিমতলা এলাকার শিয়া মতবাদের হোমিও চিকিৎসক আব্দুর রাজ্জাক, সদর উপজেলার করোতিপাড়া গ্রামের পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলী ও সদরের উত্তর কাস্টসাগরা গ্রামের রাধামদন মঠের সেবায়েত শ্যামানন্দ দাস হত্যার মোটিভ ও ক্লু উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। যেসব হত্যার ব্যাপারে আইএস দায় স্বীকার করে বিবৃতি প্রচার করে। কিন্তু নিহতদের স্বজনদের ভাষ্যমতে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে জনসম্মুখে আনা ও আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি না দেয়ায় তারাও রয়েছেন অন্ধকারে।

অন্যদিকে পরিচয় গোপন করে সাঈদ নামে ঝিনাইদহ শহরে নিবরাসসহ ৮ জঙ্গির বাসা ভাড়া নেয়ার খবর শুক্রবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হওয়ার ব্যাপারে ঝিনাইদহ পুলিশের কোনো কর্মকর্তা মুখ খুলতে চান নি। তারা বিষয়টি জানেন না বলে আগে থেকেই জানিয়ে আসছেন। আবার বাড়ির মালিক সেনাবাহিনীর সাবেক সার্জেন্ট কওছার আলী মোল্লার স্ত্রী বিলকিস নাহার শুক্রবার জনসম্মুখে আসেন নি। শুক্রবার বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা বিলকিস নাহারের বক্তব্য নিতে তার বাড়ি গেলে তিনি তাতে সাড়া দেন নি। অথচ আগের দিন বিলকিস নাহার অনেক কথাই মিডিয়া কর্মীদের কাছে বলেছিলেন। ঝিনাইদহের সাধারণ মানুষ মনে করেন জেলার আর কোথাও এমন জঙ্গি আস্তানা আছে কিনা তা তদন্ত করে বের করা হোক। এদিকে দুই হিন্দু পুরোহিত হত্যার পর ঝিনাইদহ জেলায় চারশ পুলিশ নিয়ে জঙ্গি বিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। এসব অভিযানে জেএমবি, জঙ্গি, জামায়াত-শিবিরসহ প্রায় সাড়ে পাঁচ শ’ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযানে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শিবিরের কয়েকজন নেতাকর্মী নিহত হন। এই পুলিশ অভিযানের মাঝেও সোনালীপাড়ার জঙ্গি আস্তানা অক্ষত ছিল।