নিখোঁজ জঙ্গিদের অনেকেই দেশে অবস্থান করছে

১:৩০ পূর্বাহ্ন | শনিবার, জুলাই ১৬, ২০১৬ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক – নিখোঁজ জঙ্গিদের অনেকেই দেশে অবস্থান করছে বলে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিত হয়েছে। নিখোঁজ হয়েই ভয়ঙ্কর জঙ্গি তত্পরতায় জড়িয়ে পড়ছে ওরা। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এরই মধ্যে নিখোঁজ অনেকের নাম, ছবি প্রকাশ করেছে। আরও অনেকের নাম প্রকাশের অপেক্ষায়। সমপ্রতি দশ নিখোঁজ তরুণের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে পুলিশ জানতে পারে, এরাও ঘর থেকে পালিয়েছে। এই দশ জনই জঙ্গি তত্পরতায় লিপ্ত বলে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে খবর রয়েছে।

nikhoj-jonggira

অনেক ঘর পালানো তরুণ মালয়েশিয়া, আফগানিস্তান, তুরস্ক, সিরিয়ায় গিয়ে জঙ্গি প্রশিক্ষণে অংশ নেয় । তাদের অনেকেই পাসপোর্ট হারিয়ে গেছে বলে দূতাবাস থেকে নতুন পাসপোর্ট সংগ্রহ করে। প্রথম পাসপোর্টের ছবিতে দাড়ি থাকলেও দ্বিতীয় পাসপোর্টের ছবিতে দাড়ি থাকে না। নাম ঠিক রেখে অন্যান্য তথ্য ভুল দেয়। এসব পাসপোর্ট নিয়ে অনেক জঙ্গি দেশে ফেরে। এই পাসপোর্ট পাওয়ার বিষয়ে দূতাবাসের একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা জড়িত। ইতোমধ্যে এই ধরনের পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে আসা এক জঙ্গি নেতার সন্ধানে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা মাঠে রয়েছে।

পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর অনেক নিখোঁজ তরুণ বিদেশে না গিয়ে ঝিনাইদহ, যশোর, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া অঞ্চলে গিয়ে জঙ্গি তত্পরতায় যুক্ত হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলের অনেক হামলার সঙ্গে তারা জড়িত। এক অঞ্চলের জঙ্গি অন্য অঞ্চলে গিয়ে হামলা চালায়। যাতে কেউ তাদের চিনতে না পারে। বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য পুলিশ সদর দফতর থেকে সংশ্লিষ্ট সকল থানাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর পুলিশ ও গোয়েন্দাদের একটি বিষয় ভাবিয়ে তুলছে। দেখা গেছে, হামলার আগে জঙ্গিরা টার্গেট এলাকার আশপাশে বাসা ভাড়া নিয়ে অবস্থান করে। তাই জঙ্গিদের আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দফতর।

ইতোমধ্যে বাড়িওয়ালাদের জন্য একটি নির্দেশনা জারি করেছে পুলিশ সদর দফতর। জননিরাপত্তা ও নাগরিকদের আইনগত সেবা প্রদানের জন্য বাড়িওয়ালা এবং ভাড়াটিয়াদের ছবিসহ তথ্য পুলিশের কাছে জমা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। যদি কেউ তথ্য না দেয় তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভাড়াটিয়াদের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে বাড়িওয়ালা এবং আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছে, অনেক নিখোঁজ তরুণ বিদেশে প্রশিক্ষণ শেষে দেশে অবস্থান করছেন। নতুন হামলার ছক কষছেন বলেও গোয়েন্দারা ধারণা করছেন। সর্বশেষ ফাঁস হওয়া মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট বা আইএসের এক হাজার ৭৫০ বিদেশি জঙ্গির তথ্যসংবলিত গোপন নথিতে দেখা যায় সাত বাংলাদেশি সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়ে নিহত হয়েছে। এরাও গোপনে দেশ ছেড়ে সিরিয়ায় আইএস-এ যোগ দিয়েছিল।

এদিকে তিন জঙ্গি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জানিয়েছে, আর্টিজানের মতো হামলা বাংলাদেশে আরও হবে। এ খবরের পর পুলিশ এদের খুঁজছে।

জঙ্গিদের আশ্রয়দাতা ঝিনাইদহের দারুস সালাম জামে মসজিদের ইমাম রোকনুজ্জামান রোকনকে নিজের এলাকাবাসী ‘ভালো ছেলে’ হিসেবেই জানত। তার জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার খবরে এলাকাবাসী হতবাক হয়েছেন। রোকন ঝিনাইদহে অবস্থানকালে একটি মেসে ৮ জঙ্গিকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। এর মধ্যে গুলশান হামলায় জড়িত জঙ্গি নিব্রাস ইসলামও রয়েছে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রোকন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের নাইড়া গ্রামের মৃত আইনুদ্দিনের দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার পাশাপাশি ঝিনাইদহ শহরের সোনালী পাড়ার দারুস সালাম মসজিদে তিনি ইমামতি করতেন। সেই সূত্র ধরেই তিনি ওই এলাকার মেসে জঙ্গিদের আশ্রয় দিয়েছিলেন।

ঝিনাইদহ শহরের সোনালী পাড়ার সাবেক সেনা সার্জেন্ট কাউসার আলীর স্ত্রী বিলকিস সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বাড়ির পাশের দারুস সালাম মসজিদের ইমাম ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রোকনুজ্জামান প্রায় চার মাস আগে তার বাড়িতে ভাড়াটিয়া নিয়ে আসেন। ইমাম তখন বলেছিলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা থাকবেন। প্রথমে দুইজন ওঠে। পরে আরও ছয়জন আসেন। এরপর তাদের কাছে বাসা ভাড়া দেয়া হয়।

এদিকে জঙ্গি প্রচারণা, উস্কানিমূলক কনটেন্ট বা এ ধরনের অ্যাপসহ ফোন সেট আমদানি ঠেকাতে নজরদারি বাড়াচ্ছে সরকার। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, জঙ্গি প্রচারণা, উস্কানিমূলক কনটেন্ট বা এ ধরনের অ্যাপসহ মোবাইল হ্যান্ডসেটের দেশে প্রবেশ ঠেকাতে আমদানি অনুমতিতে যাচাই প্রক্রিয়া আরো কঠোর করা হবে। সরকারের অগোচরে জঙ্গি প্রচারণার কনটেন্টসহ হ্যান্ডসেট বাজারে পাওয়া গেলে সেগুলো বাজেয়াপ্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও ওই কর্মকর্তা জানান।