• আজ বৃহস্পতিবার, ৮ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

মদিনা থেকেই সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেন জাকির নাইক


❏ শনিবার, জুলাই ১৬, ২০১৬ আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –  অবশেষে মুখ খুললেন বিতর্কিত ধর্ম প্রচারক জাকির নাইক। ভারতে ফিরলেই গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কা। তাই ভারতে আসা স্থগিত রেখে আপাতত সৌদি আরবের মদিনা থেকেই স্কাইপ-এর মাধ্যমে সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেন ওই ধর্মপ্রচারক। জানালেন, জ্ঞানত কোনও জঙ্গির সঙ্গে কোনও দিন সম্পর্ক ছিল না তাঁর।

modina

বাংলাদেশের গুলশানের জঙ্গি থেকে কেরলের আইএস-এ যোগ দেওয়া যুবক— সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নাম জড়িয়ে গিয়েছে মুম্বই নিবাসী ওই বিতর্কিত ধর্মপ্রচারকের। ইতিমধ্যেই তাঁর পিস টিভি চ্যানেল বন্ধ করা হয়েছে বাংলাদেশে। ভারতেও ইতিমধ্যেই ওই চ্যানেল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গুলশন কাণ্ডের জঙ্গিরা জাকিরের বক্তব্য থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন, এই অভিযোগ ওঠার পরেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। ঘটনাচক্রে গুলশন কাণ্ডের সময় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন জাকির। ভারতে ফিরলেই গ্রেফতার হতে পারেন এই আশঙ্কায় মুম্বই ফেরা বাতিল করে দেন ওই ধর্মপ্রচারক। তার পর থেকেই স্কাইপ-এর মাধ্যমে সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজের বক্তব্য জানানোর চেষ্টা করছিলেন তিনি। আজ সেই প্রচেষ্টা সফল হয়।

জাকিরের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ যে তিনি মুসলিম যুবকদের জঙ্গি হওয়ার জন্য উৎসাহ দেন। তাঁর বক্তব্য উস্কে দেয় জঙ্গি কার্যকলাপকে। যদিও আজ সেই অভিযোগ খণ্ডন করে জাকির দাবি করেন, ‘‘আমি কখনওই কোনও জঙ্গিকে অনুপ্রাণিত করিনি। আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে নিরীহ মানুষকে হত্যার বিরোধী আমি। কারণ তা ইসলাম বিরোধী।’’ তিনি দাবি করেন, ‘‘বহু ক্ষেত্রেই আমার বক্তব্য বিকৃত করে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যারা এমন করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’’ জাকিরের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগও রয়েছে যে তিনি মুসলিম যুবকদের আত্মঘাতী হামলা চালানোর জন্য প্ররোচনা দেন। সেই অভিযোগও খারিজ করে জাকির বলেন, ‘‘নিজের দেশকে রক্ষা করতে কেউ যদি আত্মঘাতী হামলা চালায় তা হলে তা যুদ্ধের একটি কৌশল। কিন্তু আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে কেউ যদি সাধারণ মানুষকে হত্যা করে তা হলে আমি তার বিরোধী।’’

সম্প্রতি কেরল থেকে ১৭ জন যুবক সিরিয়ায় উড়ে গিয়ে আইএস-এ যোগদান করে। যাদের মধ্যে একটি পরিবারের দুই ভাই ও তাদের স্ত্রীরা রয়েছে। ওই দুই ভাইয়ের পিতার অভিযোগ, তার ছেলেরা জাকিরের সঙ্গে দেখা করার পরেই আইএস-এ যোগদানের জন্য সিরিয়ায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তাঁর দুই ছেলেকে জঙ্গি বানানোর জন্য জাকিরকেই অভিযুক্ত করেছেন ওই পিতা। এমনকী, জাকিরের সংগঠন ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের কাজকর্মও এখন গোয়েন্দাদের সন্দেহের ঘেরাটোপে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, ওই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেশবিরোধী কাজের অভিযোগ রয়েছে। এমনকী, ওই সংগঠনে কাজ করা একাধিক ব্যক্তি সিরিয়ায় গিয়ে আইএসে যোগদান করেছে এমন তথ্যও রয়েছে গোয়েন্দাদের কাছে। যদিও সব অভিযোগ উড়িয়ে জাকির দাবি করেছেন, ‘‘আমি জেনেশুনে কোনও জঙ্গির সঙ্গে দেখা করিনি। কিন্তু যদি কোনও ব্যক্তি আমার সঙ্গে ছবি তুলতে চায়, তখন আমি হেসে ছবি তুলি। তার মানে এই নয় যে আমি তাদের চিনি।’’

আপতত মদিনা থেকে আফ্রিকা উড়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে জাকিরের। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ধর্মপ্রচারের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। শুরু থেকেই সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করলেও, তদন্তের স্বার্থে কবে ভারতে আসবেন জানতে চাওয়া হলে জাকির বলেন, ‘‘আপাতত এ বছর ভারতে ফেরার কোনও পরিকল্পনা নেই তাঁর।’’

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন