• আজ রবিবার, ৪ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

রাজধানীর মিরপুরের শাহ্ আলীতে দূর্ধর্ষ ধর্ষক গ্রেফতার


❏ শনিবার, জুলাই ১৬, ২০১৬ Breaking News, ঢাকা, দেশের খবর

মিরপুর থেকে রাজু আহমেদ : রাজধানীর মিরপুরের শাহ্ আলী থানায় সোহাগ (২২) নামের আলোচিত দূর্ধর্ষ এক ধর্ষণ মামলার আসামীকে গ্রেফতার করেছে শাহ্ আলী থানা পুলিশ। বিষয়টি গোটা মিরপুরে ব্যপক আলোচনার ঝড় তুলেছে।

শাহ্ আলী থানায় বাদী ধর্ষিতা ময়না বেগমের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে- ঠাকুরগাও জেলার কালুখত্তর বটতলা গ্রামের বাবুল হোসেনের স্ত্রী ময়না বেগম (২২) দারিদ্রতার কষাঘাতে কর্ম সংস্থানের উদ্দেশ্যে ঢাকায় এসে মিরপুর-১ এর নিউ/সি ব্লকের এ/পি ২৩ নং রোডের কাদের সিকদারের ১৫/১৬ বাড়িতে স্বামী সহ ভাড়া থাকেন। গত ২রা জুলাই স্বামী বাবুলের সাথে সাংসারিক অনটন নিয়ে কথা কাটাকাটি হলে বাবুল ওই রাতে বাসায় না ফেরায় সে খুবই চিন্তিত হয়ে পড়ে। পরদিন রাত সাড়ে আটটার সময় হঠাৎ সোহাগ (২২), জয় (২২) ও রুবেল (২১) সহ তিনজন তার ভাড়া বাসায় আসে।

ময়না তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা তাদের নাম সোহাগ ও জয় বলে পরিচয় দিয়ে বলে-তোমার স্বামী বাবুল আমাদের পাঠিয়েছে। গত কাল তোমাদের দুজনের যে গন্ডগোল হয়েছে আমরা সেটা মীমাংসা করে দিতেই এসেছি। ময়নার স্বামী কোথায় আছে জানতে চাইলে তারা বলে-বাবুল পাশের বাড়িতে মেসে আছে। তুমি আমাদের সাথে চলো। তারা ময়নাকে নিউ/সি ব্লকের ১৮ নং রোডের ৩নং ৫ম তলা বাড়ির ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে স্বামী বাবুলকে দেখতে না পেয়ে ভীষণ ভয় পেয়ে চিৎকার করলে সোহাগ তার মুখ চেপে ধরে এবং তিনজন মিলে চরথাপ্পর মারে। তারা যা বলে তা না শুনলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকী দিয়ে ছাদের ছোট্ট একটা রুমে নিয়ে সোহাগ ময়নাকে উপর্যুপুরী ধর্ষণ করে।

বাকী দুইজন জোড় করে ধর্ষণ করতে গেলে সে ডাকচিৎকার শুরু করলে আসামীগণ তাকে ফেলে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। অসুস্থ্য ময়না কাপতে কাপতে ছাদ থেকে নিচে নেমে এসে দুইজন লোককে ঘটনা খুলে বলে। ঘটনা শুনে তারা ময়নাকে থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দিলে সে তাৎক্ষনিকভাবে শাহ্ আলী থানায় উপস্থিত হয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করে। শাহ্ আলী থানার মামলা নং-০১, তাং-০৩/০৭/২০১৬ইং।

dhorsokএ বিষয়ে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহ্ আলী থানার এস.আই সাহিদুল ইসলাম সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, আসামীদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (১)/৩০ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। কয়েক দফায় আসামীদের গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করলে গত বুধবার ১নং আসামী সোহাগ (২২) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। জিজ্ঞাসাবাদে সে অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছে। আসামীরা এলাকার চিহ্নিত ছিনতাইকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। ২নং আসামী জয় স্থানীয় কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী ফাতেমার ছেলে। গ্রেফতারকৃত সোহাগকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং পলাতক আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারে অভিযান অব্যহত রয়েছে।

এদিকে দূর্ধর্ষ সোহাগ গ্রেফতার হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে সোহাগ, জয় ও রুবেল নিয়মিত এলাকার গার্মেন্টসের মহিলা শ্রমিকদের আসা-যাওয়ার পথে উত্যক্ত করত। ইতিমধ্যে এরকম কয়েকটি ঘটনায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে কয়েকদফা শালিস/বিচার করে তাদেরকে সংশোধন হওয়ার সুযোগ দিলেও তারা শুধরায়নি। ধৃত আসামীসহ পলাতক আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করে উপযুক্ত শাস্তিই এখন তাদের প্রাণের দাবি। তারা আরও বলেন অপরাধীদের এমন শাস্তি হওয়া উচিৎ যা দেখে ভবিষ্যতে এমন ঘৃন্য অপরাধ করতে সাহস না পায়।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন