• আজ বৃহস্পতিবার, ৮ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

নিবরাসের খালাতো ভাই পরিচয়ে ঝিনাইদহে থাকতেন জঙ্গি আবির রহমান


❏ শনিবার, জুলাই ১৬, ২০১৬ Breaking News, আলোচিত বাংলাদেশ

আরাফাতুজ্জামান, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ গুলশান হামলায় নিহত জঙ্গি নিবরাস ইসলামের সাথে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় নিহত জঙ্গি আবির রহমানও মাস খানেক ঝিনাইদহের সোনালীপাড়ার জঙ্গি আস্তানায় ছিলেন। আবিরের ছবি দেখে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সোনালীপাড়ার বাসিন্দারা। সাঈদ নাম ধারণ করে ওই জঙ্গি আস্তানায় ছিলেন গুলশান হামলায় চিহ্নিত পাঁচ জঙ্গির একজন নিবরাস। আর নিবরাসের খালাতো ভাই পরিচয়ে ছিলেন আবির রহমান।

পরিবারের দাবি অনুযায়ী, আবির (২২) চার মাস ধরে নিখোঁজ ছিলেন। তবে তাঁর নিখোঁজ থাকার বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে রাজধানীর ভাটারা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় ৬ জুলাই। এর পরদিন ফেসবুক ও গণমাধ্যমে ছবি দেখে স্বজনেরা জানতে পারেন, শোলাকিয়ায় নিহত হয়েছেন আবির।

ঝিনাইদহ শহরে সোনালীপাড়ার ওই জঙ্গি আস্তানার লাগোয়া মসজিদের মাঠে স্থানীয় তরুণদের সঙ্গে ফুটবল খেলায় অংশ নিতেন সাঈদ নামধারী নিবরাস। ওই মাঠে খেলতেন এমন কয়েকজন স্থানীয় তরুণকে আবিরের ছবি দেখালে তাঁরা তাঁকে শনাক্ত করেন ‘সাঈদ ভাইয়ের খালাতো ভাই’ হিসেবে। জঙ্গিদের ভাড়া করা ওই বাড়িতে রান্নার কাজ করতেন যে নারী, তিনিও আবিরের ছবি দেখে শনাক্ত করেছেন।

এর আগের দিন বৃহস্পতিবার বাড়ির মালিকের স্ত্রী, গৃহকর্মী ও ফুটবল খেলার সাথীরা ছবি দেখে নিবরাসকে শনাক্ত করেন। গতকাল শুক্রবার আবার সেখানে আবিরের ছবি দেখানো হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় দুই তরুণ জানান, এই ছবি সাঈদ ওরফে নিবরাসের খালাতো ভাইয়ের। তিনি সবার সঙ্গে মিশতেন না, ফুটবলও খেলতেন না। মাঠের পাশে বসে সময় কাটাতেন। মাঝেমধ্যে মাঠের পাশে ছোট জায়গায় বাচ্চাদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতেন।

nibras_unতারা আরো জানায়, ‘ওই ভাইয়ের নাম কী জিজ্ঞাসা করলে সে জবাব দেওয়ার আগেই সাঈদ ভাই বলতেন, এটা আমার খালাতো ভাই।’ তাঁরা বলেন, আবিরের চলাফেরা কিছুটা অপ্রকৃতিস্থ ছিল। কেমন যেন হেলেদুলে হাঁটতেন।

আবিরদের মেসে তিন বেলা রান্না করে দিয়ে আসতেন স্থানীয় এক নারী। তিনি গতকাল জানান, ‘সাঈদ ভাই (নিবরাস) আর ছবির এই ভাই (আবির) একই রুমে থাকতেন। তাঁরা বেশির ভাগ সময় ঘরেই কাটাতেন।’ তিনি বলেন, সাঈদ ওরফে নিবরাস মাঝে মাঝে মোটরসাইকেলে চেপে বাইরে যেতেন, তবে আবিরকে বাইরে যেতে তিনি দেখেননি। আবির কবে মেস ছেড়ে গেছেন, তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।

সোনালীপাড়ার ওই বাড়ির মালিক সাবেক সেনাসদস্য কওছার আলী। কলেজ পড়ুয়া দুই ছেলেসহ তাঁকে এবং পাশের মসজিদের ইমাম মো. রোকনুজ্জামান ও সহকারী ইমাম সাব্বির হোসেনকে ৬ জুলাই ভোরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করে নিয়ে গেছে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে। তবে এদের আটক করার কথা স্বীকার করেনি কোনো বাহিনী। স্থানীয় পুলিশ বলছে, তারা এ ব্যাপারে কিছু জানে না।

বাড়ির মালিকের স্ত্রী বিলকিস নাহার জানান, চার মাস আগে পাশের মসজিদের ইমামের মাধ্যমে প্রথমে দুজন ও পরে আরও ছয়জন ওই বাড়িতে ভাড়ায় ওঠেন। তাঁদের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলে জানিয়ে ছিলেন ইমাম রোকনুজ্জামান, যিনি নিজেও ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।

এর মধ্যে দুজনের পরিচয় মিললেও বাকি ছয়জন কারা ছিলেন, সেটা এখনো জানা যায়নি। বিলকিস নাহার আরো জানান, ওই বাড়িতে যে আটজন থাকতেন, তাঁদের মধ্যে ছয়জন রোজার শুরুতে বাড়ি যাওয়ার কথা বলে চলে যান। বাকি দুজন গেছেন ২৮ জুন ।

আবিরের ব্যাপারে জানতে গতকাল আবার ওই বাড়িতে গেলে বিলকিস নাহার ঘরের দরজা খোলেননি। ঘরের জানালাও বন্ধ ছিল। ঘরের ভেতর থেকে একজন নারী বলেন, তাঁদের ওপর নানাভাবে চাপ এসেছে। তাঁরা আর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না। কারা চাপ দিচ্ছে, সেটা বলতে চাননি তাঁরা।

আরও পড়ুন :
mou 748541 মাদক মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেলেন মডেল মৌ

❏ বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১

mosq n324 সাঁতরে মসজিদে যাওয়া সেই ইমাম পেলেন নৌকা ও নগদ টাকা

❏ বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১

অবশেষে হাইকোর্টে জামিন পেলেন ঝুমন দাস

❏ বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন