মেস আর ছাত্রাবাসের শহর ঝিনাইদহ

১২:২১ অপরাহ্ন | শনিবার, জুলাই ১৬, ২০১৬ খুলনা, দেশের খবর

আরাফাতুজ্জামান, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ শহরে প্রায় দুই শতাধিক মেস আর ছাত্রাবাস রয়েছে। শহরের আরাপপুর, হাটের রাস্তা, কচাতলা, হামদহ, বাইপাস, আদর্শ পাড়া, ব্যাপারী পাড়া, চাকলা পাড়া, পবহাটি, মডার্ন পাড়া, মহিলা কলেজ পড়া, পাগলাকানাই পাড়া, ওয়্যারলেস পাড়া, সোনালী পাড়া, কালিকাপুর, উপশহর পাড়া ও হাসপাতাল পাড়া সহ আরও ১০টি পাড়ায় রয়েছে এ সকল মেস আর ছাত্রবাস। এক কথায় বলা চলে মেস আর ছাত্রাবাসের শহর ঝিনাইদহ।

mas-basa-vorti

স্থানীয়রা জানায়, বছর দুয়েক আগে এই মেসের সংখ্যা আরো বেশি ছিল। কিন্তু আস্তে আস্তে এর সংখ্যা কমতে থাকে। শহরে দুই শতাধিক মেস আর ছাত্রাবাস থাকলেও সেখানে কারা থাকে, কেন থাকে, তার কি কাজের সাথে জড়িত, ঠিকানা কি, কতজন থাকে, কত দিন আছে এসব ব্যাপারে বাড়ির মালিক সহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বিস্তারিত কোন তথ্য নেই।

কয়েক জন বাড়ির মালিক জানান, মেসে অবস্থানকারীদের বড় একটি অংশ ঝিনাইদহ জেলা সংলগ্ন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে অনেকেই মসজিদে ইমামতি, মাদ্রাসা, কিন্ডারগার্টেন, বে-সরকারি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা, টিউশনি সহ নানা পেশায় যুক্ত। এসবের পাশাপাশি অনেক ছাত্র, শিক্ষার্থী বাসা ভাড়া করে শহরে অবস্থান করছে।

সোনালীপাড়ার কাওসার হোসেনের স্ত্রী গৃহকর্ত্রী বিলকিস নাহার জানান, সাঈদ নামে নিবরাস আমাদের বাড়ির মেসে গত ৪ মাস আগে থেকে থাকতো। তাকে সহ আরেকটি ছেলে মোস্তাফিজকে তুলে দেয় বাড়ি সংলগ্ন মসজিদের ঈমাম রোকুনুজ্জামান রোকন। গত ২৮ জুন সে মেস ছেড়ে চলে য়ায়।

জানা গেছে, ঝিনাইদহ জেলা শহরের সোনালীপাড়ার মেসে অবস্থানকারী সাঈদ নামের ছদ্মবেশী জঙ্গি নিবরাস ইসলামকে কম-বেশি পাড়ার শিশু থেকে যুবক সবাই চিনতো। নিবরাস একটি লাল রঙের মোটর সাইকেলে মেস থেকে প্রায়ই শহরে যেত বলে তারা জানান। তার সঙ্গে দুই একজন থাকতো। আর প্রায়ই বিকেলের দিকে মেসের পাশে কিশোর-তরুণদের সঙ্গে ফুটবল খেলত সে। ঢাকার গুলশানে জঙ্গি হামলার পর গণমাধ্যমে ছবি দেখে কারো কারো চোখে ভেসে ওঠে তাদের পাড়ার সাঈদের সেই চেহারা।

প্রসঙ্গত, সাঈদের সাথেই তার খালাতো ভাই পরিচয়ে এই মেসে থাকতো কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় নিহত জঙ্গি আবির রহমান।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হরেন্দ্রনাথ সরকার সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, দুই একদিনের মধ্যেই এসব মেস আর ছাত্রাবাসের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত তাদের হাতে আসবে। এ ব্যাপারে পুলিশের পক্ষ থেকে কাজ শুরু হয়েছে।