🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বুধবার, ৭ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান, ৭৫৪ জন গ্রেফতার


❏ শনিবার, জুলাই ১৬, ২০১৬ Breaking News, আন্তর্জাতিক, ফিচার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- রক্তক্ষয়ী ও নৈরাজ্যিক রাতের পর তুরস্কে সেনা অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা সিএনএন জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপে এরদোয়ান আবার ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। সংঘর্ষে ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

অভ্যুত্থান প্রচেষ্টায় কমপক্ষে ৭৫৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত আনাদুলা নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, গ্রেফতারদের মধ্যে কমপক্ষে ৩০ জন সন্দেহভাজন সেনা কর্মকর্তা রয়েছেন।

সিএনএন জানাচ্ছে, এখন পর্যন্ত পরিষ্কার নয়, এরদোয়ান বিদ্রোহীদের পুরোপুরি দমন করতে পেরেছেন কিনা। তবে সকাল থেকে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ধীরে ধীরে কাজ শুরু করে।senaআঙ্কারায় গোলাগুলিতে ৪২ জন নিহত হয়েছেন যাদের বেশিরভাগ পুলিশ কর্মকর্তা। এছাড়া ইস্তানবুল ও আঙ্কারার হাসপাতালগুলোতে কমপক্ষে ১০০০ জন ভর্তি হয়েছে।

সিএনএন জানাচ্ছে, এখন পর্যন্ত পরিষ্কার নয়, এরদোয়ান বিদ্রোহীদের পুরোপুরি দমন করতে পেরেছেন কিনা। তবে সকাল থেকে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ধীরে ধীরে কাজ শুরু করেছে। এদিকে কয়েক ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ইস্তানবুল আতাতুর্ক বিমানবন্দর আবার খুলে দেওয়া হয়। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সম্প্রচারও শুরু হয়।

অবকাশ থেকে সকালে ফেরেন এরদোয়ান

সেনাবাহিনীর একটি অংশ তুরস্কের ক্ষমতা দখল নিয়েছে এমন ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর শনিবার সকালে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেচ তাইপে এরদোয়ান ইস্তানবুলে ফিরে আসেন। তিনি তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলের রিসোর্ট শহর বদ্রামে অবকাশ কাটাচ্ছিলেন।

ইস্তানবুল বিমানবন্দরে শনিবার সকালে তাকে তার সমর্থক পরিবেষ্টিত অবস্থায় দেখা গেছে। এরদোয়ান এ সময় বলেন, এটা বিশ্বাসঘাতকদের কাজ। এর জন্য তাদের কড়া মূল্য দিতে হবে। তিনি তার সমর্থনে সমর্থকদের রাস্তায় নেমে আসতে বলেন।

এরদোয়ান সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই অভ্যুত্থান চেষ্টার মূলে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট ধর্মপ্রচারক ফাতাউল্লাহের সমর্থকগোষ্ঠী। বিচার বিভাগ ও সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করে অনেক আগে থেকেই তারা তার সরকারকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র করছিল।

অস্বীকার গুলেনের

পেনসিলভেনিয়ায় অবস্থানরত ফাতাউল্লাহ গুলেন অভুত্থানে তার যোগসাজশের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। এক বিবৃতিতে গুলেন বলেন, তুরস্কে সেনা অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার আমি খুব কঠোর ভাষায় নিন্দা জানাচ্ছি। সরকার গঠন করতে হলে স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচনে জয়ী হয়েই করতে হবে। বলপ্রয়োগে নয়।

তিনি বলেন, গত ৫ দশক ধরে সেনাবাহিনীর হাতে যারা নির্যাতিত হয়েছেন তাদের কারো অংশ থাকতে পারে এ অভ্যুত্থানে।

ইস্তানবুল ও আঙ্কারায় বিস্ফোরণ-সংঘর্ষ

তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার সময়ই ইস্তানবুলের কেন্দ্রস্থলে দুটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। রাজধানী আঙ্কারার সংসদ ভবনের বাইরেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। আঙ্কারায় এ রকম একটি হেলিকপ্টারকে ভূপাতিত করা হয়েছে।

সেনাপ্রধান নিখোঁজ, ভারপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান নিয়োগ

তুরস্কের সেনাপ্রধান জেনারেল হুলুসি আকার কোথায় তা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। বিদ্রোহী সেনারা তাকে নিয়ে যায় বলে এক প্রতিবেদনে জানা গেছে। এদিকে দেশটির স্থলবাহিনীর একটি অংশ ফার্স্ট আর্মির প্রধান উমিত দুন্দারকে ভারপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান নিয়োগ দেওয়া হয়।

আতাতুর্ক বিমানবন্দর সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে বিমান চলাচল শুরু হয়েছে।

রাতে ক্ষমতা দখলের ঘোষণা সেনাবাহিনীর একাংশের

এর আগে, শুক্রবার রাতে তুরস্কের সেনাবাহিনী দেশটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে ঘোষণা দেয় সেনাবাহিনীর একটি অংশ। শনিবার এক টেলিভিশন বার্তায় তারা এই ঘোষণা দেয়। দেশে মার্শাল ল ও কার্ফ্যু জারির ঘোষণাও দেওয়া হয় এই বার্তায়।

টেলিভিশন বার্তায় বলা হয়, ‘পিস কাউন্সিল’ এখন থেকে দেশ পরিচালনার ভার নিচ্ছে।

বার্তায় আরও বলা হয়, দেশকে আইনের শাসন, মানবাধিকার ও স্বাধীনতার ভেঙে পড়া দশা থেকে মুক্ত করে সাংবিধানিক অনুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই সেনাবাহিনী দেশের প্রশাসনিক ভার নিচ্ছে। একইসাথে বলা হয় দেশটির সকল আন্তর্জাতিক চুক্তি বহাল থাকবে। বহির্বিশ্ব তুরস্কের পাশে থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয় এই বার্তায়।

এরদোয়ানের আহ্বান

অবকাশে থাকা এরদোয়ানের অনুপস্থিতিতে এই অভ্যুত্থান ঘটার পর প্রেসিডেন্টের অফিস সূত্র থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলোকে জানানো হচ্ছিল, এই বিদ্রোহে গুটিকয়েক সেনা সদস্য জড়িত, পরিস্থিতি সরকার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

রাত ৮টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ইলদিরিম এক বার্তায় জনগণকে শান্ত থেকে পরিস্থিতি মোকাবেলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একদল সৈন্য সরকার উৎখাতের চেষ্টা চালিয়েছে, তাদের বশে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে। ইস্তানবুল বিমানবন্দরে সমর্থক পরিবেষ্টিত তায়িপ এরদোয়ান

 রাত সাড়ে ৯টার দিকে এরদোয়ান এক টুইটার বার্তায় জনগণকে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার উৎখাতের এই চেষ্টা রুখে দেওয়া হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনার নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনছে সরকার।

এরপর সিএনএন-তুর্ক টেলিভিশনে এরদোয়ানের এক ভিডিও সাক্ষাৎকার প্রচারের পর দৃশ্যপট বদলে যেতে থাকে। সরকার সমর্থকরা ইস্তানবুল ও আঙ্কারা সড়কে নেমে আসে।

পুলিশও অবস্থান নেয় সড়কগুলোতে। অন্যদিকে সামরিক বিমানগুলো থেকে বিদ্রোহী সৈন্যদের হেলিকপ্টারে গুলি ছোড়া শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেওয়া সেনা সদস্যদের হাত উঁচু করে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করতে দেখা যায়। আর ট্যাংকগুলোতে জাতীয় পতাকা নিয়ে উঠে পড়ে উল্লসিত সরকার সমর্থকরা।

ইস্তানবুলে সেতুতে আত্মসমর্পণকারী সেনাসদস্যদের উপর এরদোয়ানের এ কে পার্টির সমর্থকদের হামলার খবরও প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে রয়টার্স।

এরপর ভোররাতে ইস্তানবুলে ফিরে এরদোয়ান সবাইকে আশ্বস্ত করে বলেন, “আমি পালাইনি, আমি জনগণের সঙ্গেই রয়েছি।” ইস্তানবুল বিমানবন্দরে তিনি যখন টেলিভিশনে কথা বলছিলেন, তখন তার চারপাশ ঘিরে ছিল উল্লসিত কর্মী-সমর্থকরা। “আমি ক্ষমতায় আছি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে,” বলেও জনগণকে আশ্বস্ত করেন এরদোয়ান।

আরও পড়ুন :

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন