পাবনায় কলেজ জাতীয়করন না হওয়ায় রাস্তায় গাছের গুড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ

৮:২৮ অপরাহ্ন | শনিবার, জুলাই ১৬, ২০১৬ দেশের খবর, রাজশাহী

আব্দুল লতিফ রঞ্জু, পাবনা প্রতিনিধি- পাবনার সুজানগর উপজেলার ডা: জহুরুল কামাল ডিগ্রী কলেজ জাতীয়করণ থেকে বাদ পড়ায় এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ অনৈতিক ভাবে অর্থ সংগ্রহ করার পরও জাতীয়করণ থেকে বাদ পড়ার অভিযোগে পাবনা-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র শিক্ষক ও এলাকাবাসী।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত টানা দুই ঘন্টা ঢাকা-পাবনা মহাসড়কে গাছের গুড়ি ও টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করা হয়।pabnaস্থানীয়রা জানান, সুজানগর উপজেলার পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের দুলাই নামক স্থানে এই অবরোধ গড়ে তোলা হলে ঈদের পর ঢাকা ফিরতি শতশত বাসসহ মালবাহী ট্রাক আটকা পড়ে। এতে করে যাত্রীদের পড়তে হয় চরম দুর্ভোগে। ফলে রাস্তার উভয়দিকে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। একই অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার ডা. জহুরুল কামাল ডিগ্রী কলেজের ছাত্র শিক্ষকরা অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ ও তার অনুসারী কতিপয় শিক্ষকদের কার্যালয়ে অবরুদ্ধসহ কলেজের কেচি গেট তালাবদ্ধ অবস্থায় রাখে। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।

আন্দোলনরত শিক্ষকরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বেসরকারি স্কুল-কলেজ জাতীয়করণের সরকারি ঘোষণা আসার পরপরই ডা. জহুরুল কামাল ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ ও তার অনুসারী কতিপয় শিক্ষকরা তাদের কাছ জাতীয়করণের অজুহাতে অনৈতিক ভাবে মোটা অংকের টাকা সংগ্রহ করেন। কিন্তু কলেজ জাতীয়করণ না করে অনৈতিক ভাবে সংগৃহিত টাকা অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ তসরুপ করেছেন বলে আন্দোলনরত শিক্ষকদের অভিযোগ।

শিক্ষকরা আরও বলেন, তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে কলেজ জাতীয়করন করে দেয়ার শর্তে বিপুল অংকের টাকা জমা নিয়েছে অধ্যক্ষ। যে টাকা অধ্যক্ষ কিছু অসাধু শিক্ষকের যোগসাজসে ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়ে সম্পুর্ণ আতœসাৎ করেছেন। কিন্তু যে উদ্দেশ্যে নিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন তিনি করতে পারেননি অজ্ঞাত কারণে।

জাতীয়করণের নামে টাকা সংগ্রহের অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. জহুরুল কামাল ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ জানান, জাতীয়করণের নামে টাকা সংগ্রহের অভিযোগটি অসত্য, ভিত্তিহীন। জাতীয়করণ করতে গেলে উপর মহলে কিছু খরচের বিষয় থাকে। সেই ব্যয়ই করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার তাকেসহ তার অনুসারী কিছু শিক্ষককে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় এমন প্রশ্নের তিনি কোন সদ্যুত্তর দিতে পারেননি। শনিবারের লম্বা সময় ধরে অবরোধের বিষয়ে তিনি বলেন, দুষ্ট ছেলেরা অতি উৎসাহী হয়ে কলেজ জাতীয়করণ থেকে বাদ পড়ার ছুঁতা দিয়ে পাবনা-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে কলেজ ও কলেজ সংশ্লিষ্টদের সুনাম ক্ষুন্ন করেছেন।

সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুর ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে লম্বা সময় ধরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হই। দীর্ঘ দুই ঘন্টার অবরোধে আটকে পড়া শতাধিক যানবাহন যানজট থেকে নিরসন করা হয়। আন্দোলনকারীদের শান্ত করে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের অবরোধ তুলে দেয়া হয়।

সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেন বলেন, কলেজ জাতীয়করণ তালিকা থেকে বাদ পড়ায় স্থানীয় এলাকাবাসীরা পাবনা-ঢাকা মহাসড়ক দুই ঘন্টা অবরোধ করে রাখে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।