‘পুলিশের উপস্থিতিতে বাবা মারা গেলে ছেলেরা তো জঙ্গি হবেই’


❏ শনিবার, জুলাই ১৬, ২০১৬ Breaking News, জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর- জঙ্গিবাদকে ‘এক ধরনের প্রতিবাদ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। পুলিশের অত্যাচারের কারণেই জঙ্গিবাদের মাধ্যমে এ প্রতিবাদের সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি। জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘তবে এই প্রতিবাদের ধারাটি গ্রহণযোগ্য নয়, অবিবেচনা প্রসূত। এটি ভুল পদ্ধতি। এটাকে আমরা মেনে নিতে পারি না।’147374_1শনিবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) গোলটেবিল মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন ডা. জাফরুল্লাহ। ‘সন্ত্রাস প্রতিরোধে জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘‘গত ইউনিয়ন পর্যায়ে পুলিশের উপস্থিতিতে (ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন) ১৫০ জন লোককে মেরেছে। এতবড় ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু আমরা কোনো আলাপ-আলোচনা করতে রাজি নই। ইউনিয়ন পর্যায়ে যার বাবাটা মারা গেছে, তার ছেলেটা তো জঙ্গি হবেই। তার কোনো প্রতিকারের পথ নেই। সে প্রতিকার খুঁজে বেড়ায় ক্ষোভের মাধ্যমে।’

তিনি বলেন, ‘জঙ্গিরা যা করছে সেটাও এক ধরনের প্রতিবাদ। তবে এটা ভুল পথ, এই পথ সঠিক নয়, এই পথে কিছু অর্জন করা যায় না।’

গত ১৩ জুলাই প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলায় নিহত বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাউদ্দিন আহমেদের মরণোত্তর বিচার দাবি করেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

নিহত ওসি সালাউদ্দিন আহমেদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মৃত সালাউদ্দিনের বিচার আগে হওয়া উচিত। জীবিত থাকাকালীন অবস্থায় এই সালাউদ্দিন অনেক নিরীহ মানুষকে অন্যায়ভাবে নির্যাতন করে ক্রসফায়ার দিয়েছে। তাছাড়া তিনি বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হয়ে হামলার দিন কেন গুলশান যাবেন? নিশ্চয়ই সেখানেও টাকার গন্ধ পেয়েছিলেন তিনি। আমরা তার বিচার পাইনি। প্রধানমন্ত্রী তার বিচার করেননি, কিন্তু খোদা তার বিচার করেছেন।

ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া শনিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে গুলশান হামলা বিষয়ে জাফরুল্লার এই বক্তব্যের প্রতিবাদ করে বলেন, উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যারা জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে আইনের আওতায় আনা হবে- ডিএমপি কমিশনারের এমন বক্তেব্যর প্রতিক্রিয়ায় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই সংগঠক বলেন, ডিএমপি কমিশনারের মতো আমি উর্দি (আইনের পোশাক) পরিধান করি না। তবে আমি একজন মুক্তিযুদ্ধা, তাই জীবন দিতে ও মরতে ভয় করি না।

ড্যাবের সভাপতি ডা. এ কে এম আজিজুল হকের সভাপতিত্বে সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি এমাজউদ্দীন আহমদ, প্রো-ভিসি আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, ড্যাবের মহাসচিব এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শিক্ষক কর্মচারি ঐক্য জোটের সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া প্রমুখ বক্তব্যে রাখেন।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন