তাবেলা সিজার হত্যা মামলার চার্জশিট গ্রহণের শুনানি আগমীকাল


❏ শনিবার, জুলাই ১৬, ২০১৬ Breaking News, আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর – ইতালির নাগরিক সিজার তাবেলা হত্যা মামলায় চার্জশিট গ্রহণের শুনানির দিন আগামী ৪ আগস্ট ধার্য থাকলেও তা এগিয়ে আনায় আগমীকাল রোববার অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট নূর নবীর আদালতে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গত ২৮ জুন মামলাটিতে ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার এম এ কাইয়ুমসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় ডিবি। ওইদিন আদালত চার্জশিট সনাক্ত করে পূর্ব নির্ধারিত ধার্য তারিখ আগামী ৪ আগস্ট চার্জশিট গ্রহনের শুনানির দিন ঠিক করেন। এরপর ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু চার্জশিট গ্রহণের শুনানি এগিয়ে আসার আবেদন করলে ১৭ জুলাই চার্জশিট গ্রহণের শুনানির নতুন তারিখ ধার্য করে সিএমএম আদালত।

ডিবি পুলিশের পরিদর্শক গোলাম রাব্বানী তদন্তকৃত ওই চাজশিটের অপর ৬ জন আসামী হলেন, এম এ কাইয়ুমের ভাই আবদুল মতিন, তামজিদ আহমেদ ওরফে রুবেল ওরফে শুটার রুবেল, রাসেল চৌধুরী ওরফে চাক্কি রাসেল, মিনহাজুল আরেফিন রাসেল ওরফে ভাগনে রাসেল ও শাখাওয়াত হোসেন ওরফে শরিফ ও মো. সোহেল ওরফে ভাঙ্গরী সোহেল।

tabela-ceaser

তামজিদ, রাসেল চৌধুরী, মিনহাজুল ও শাখাওয়াত আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মতিনসহ স্বীকারোক্তিকারী চারজন কারাগারে এবয় কাইয়ুম ও সোহেল পলাতক।

স্বীকারোক্তি অনুযায়ী চার্জশিটে আসামি রাসেল চৌধুরী ও মিনহাজুলের হত্যাকা-ের নির্দেশদাতা হিসেবে এমএ মতিনের নাম বলেছেন। তবে মতিন রিমান্ডে ডিবির কাছে তাবেলা হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলেও আদালতে স্বীকারোক্তি দেননি।

চার্জশিটে বলা হয়, হামলাকারীদের লক্ষ্য ছিল একজন শ্বেতাঙ্গকে হত্যা করে দেশে-বিদেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে এই পরিকল্পনা করা হয়।

চার্জশিটে আরো বলা হয়, বাঙালি সোহেলের কাছ থেকে পিস্তল ভাড়া নিয়ে খুনিরা তাবেলাকে হত্যা করেন। মতিনের নির্দেশে ২০১৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর শাখাওয়াতের মোটরসাইকেল নিয়ে মিনহাজুল, তামজিদ, রাসেল চৌধুরী গুলশান ২ এর ৯০ নম্বর সড়কে যান। ওই সড়কের গভর্নর হাউসের সীমানা প্রাচীরের বাইরে ফুটপাতে নিরিবিলি ও অন্ধকার স্থানে তামজিদ গুলি করে সিজার তাবেলাকে (৫১) হত্যা করেন। এতে তাঁকে সহায়তা করেন রাসেল চৌধুরী ও মিনহাজুল।

মোটরসাইকেলটি চালিয়েছিলেন মিনহাজুল। মামলায় ওই মোটরসাইকেল আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।

চার্জশিটে আরও বলা হয়, বিএনপি নেতা এম এ কাইয়ুমের পরিকল্পনা ও অর্থায়নে সিজার তাবেলাকে হত্যা করা হয়। কাইয়ুম পরিকল্পনা করলেও তা বান্তবায়ন করেন তাঁর ছোট ভাই আবদুল মতিন। পিস্তল সরবরাহকারী সোহেল গ্রেপ্তার না হওয়ায় পিস্তলটি উদ্ধার না সম্ভব হয়নি। তবে পিস্তলটি না পেলেও ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।

তাবেলা নেদারল্যান্ডস-ভিত্তিক আইসিসিও কো-অপারেশন নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রুপ (প্রফিটেবল অপরচুনিটিজ ফর ফুড সিকিউরিটি) কর্মসূচির প্রকল্প ব্যবস্থাপক ছিলেন।

এদিকে এই মামলায় দলের নেতা কাইয়ুমকে ফাসানো হচ্ছে বলে দাবী করে আসছে বিএনপি। চার্জশিট গ্রহণের শুনানির দিন এগিয়ে আনার বিষয়ে এম এ কাইয়ূমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এই মামলাটিকে সাজানোর পর তরিঘড়ি করে বিচার কাজ শুরু করার অংশ হিসেবেই চার্জশিট গ্রহণের শুনানি তারিখও এগিয়ে এনেছে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন