সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ১০ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

চাটমোহরসহ চলনবিল অঞ্চলে পাট কাটা-ধোয়ায় ব্যস্ত কৃষক

৩:৪৯ অপরাহ্ন | রবিবার, জুলাই ১৭, ২০১৬ অর্থনীতি

আব্দুল লতিফ রঞ্জু, চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধিঃ চলতি পাট মৌসুমে চাটমোহর উপজেলা সহ চলনবিল অঞ্চলে পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও পাটকাঠি থেকে পাট ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষাণ-কৃষাণীরা। এতো কষ্ট করার পরেও অন্য বছরের তুলনায় এবার পাটের দাম অশানুরুপ কম হওয়ায় আশংকায় হতাশা দেখা দিয়েছে কৃষকদের মাঝে।

তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চলতি বছরে চলনবিলের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা পাট কেটে তা বিভিন্ন জলাশয়ে জাগ দিচ্ছেন। চাষিরা পাট কেটে নদী, নালা, খাল, বিল ও ডোবায় জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো এবং হাটে-বাজারে বিক্রিসহ সব মিলিয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবার কোথাও কোথাও দেখা গেছে, নারী-পুরুষের অংশ গ্রহণে পাট ছাড়ানোর কাজ চলছে। অনেক স্থানে খরচ বাঁচাতে রিবোন রেটিং পদ্ধতিতে আশ ছাড়ানোর জন্য কৃষি বিভাগ কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করলেও কৃষকরা তাতে আগ্রহী নয়।

কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা যায়, চলনবিল এলাকার পাবনার ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর, ফরিদপুর, নাটোরের গুরুদাশপুর, বড়াইগ্রাম, সিংড়া ও সিরাজগঞ্জের তাড়াশ রায়গঞ্জ, সলঙ্গা, উল্লাপাড়া উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম জমিতে পাট চাষ হয়েছে। পাট চাষের শুরুতে বৃষ্টিপাত কম থাকায় অনেক স্থানে চাষ কিছুটা দেরিতে শুরু হলেও ফলন ভালো হয়েছে। ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকরা খুশি হলেও অন্য বছরের তুলনায় এবার পাটের দাম অনেক কম হওয়ায় কৃষক হতাশায় পড়েছে।

pat-pabna

চাটমোহর উপজেলার রেলবাজার (অমৃতকুন্ডা) হাটসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে ভালো মানের পাটের মূল্য ১৬‘শ টাকা মণ ও নিম্ন মানের পাটের মূল্য ১২‘শ টাকা দরে বিক্রয় হচ্ছে। এতে ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তিতে পাট চাষীরা সংশয় প্রকাশ করছেন। বর্তমান বাজারে পাটের যে দাম তাতে কৃষকের পাট চাষের খরচ উঠছে না। চাটমোহর উপজেলার পাচুড়িয়া গ্রামের পাট চাষী মোঃ নওশের আলী জানান, ১০বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলাম। পাটও ভালো হয়েছে। তবে অন্য বছরের তুলনায় দাম কম হওয়ায় লোকসানে পরতে হবে।

ছাইকোলা গ্রামের পাট চাষী ফরিদুল ইসলাম বলেন, ৩ বিঘা জমিতে পাট আবাদ করছিলাম। দাম কমের কারণে না কেটে পাট জমিতেই ফেলে রেখেছি।
চাটমোহর উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ রওশন আলম বলেন, এ বছরে লক্ষমাত্রার চেয়ে অনেক কম হারে পাঠ চাষ হয়েছে। দাম না থাকায় পাট চাষে খরচ উঠছে না। এতে কৃষক পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন।