সংবাদ শিরোনাম

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্তরোহিঙ্গা শিশু অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় নারীসহ দু’জন গ্রেপ্তারবেলকুচিতে দূর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ে গেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান !জামালপুরে মাদ্রাসা ছাত্রীকে রাতভর ধর্ষণ, গ্রেফতার মাদ্রাসার শিক্ষক‘করোনাকালের নারী নেতৃত্ব: গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব’বগুড়ায় শিক্ষা প্রনোদনা পেতে প্রত্যয়নের নামে টাকা নেয়ার অভিযোগজামালপুরে ধর্ষণ মামলায় ধর্ষকের যাবজ্জীবনপাবনায় অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানায় অভিযান, চারটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার-২উপজেলা আ.লীগের সভাপতিকে ‘পেটালেন’ কাদের মির্জা!কে কত বড় নেতা, সবাইকে আমি চিনি: কাদের মির্জা

  • আজ ২৪শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

তিস্তার পানি বিপদসীমার ১৭ সেঃ মিঃ ওপরে : ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি

৫:২৮ অপরাহ্ন | রবিবার, জুলাই ১৭, ২০১৬ দেশের খবর, রংপুর

মাজহারুল ইসলাম লিটন, ডিমলা প্রতিনিধি: ভারী বর্ষন ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি আবারো বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ১৭ সেঃ মিঃ ওপরে। আজ রবিবার সকাল ৬টা থেকে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমা (৫২ দশমিক ৪০ মিটার) ১৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বিকেল ৩ টায় তা ১০ সেন্টিমিটারে নেমে আসে। হটাৎ পানি বাড়ায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ আবারো পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। শনিবার থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের কারনে বন্যা ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো মহা সংকটে পড়েছে।

river

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্ভাবাস সর্তকীকরন কেন্দ্র সুত্র মতে ভারী বর্ষন ও উজানের ঢলে আজ রবিবার সকাল ৬টা থেকে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার (৫২ দশমিক ৫৭) উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এই পয়েন্টে বিপদসীমা ৫২ দশমিক ৪০ সেন্টিমিটার। এ ছাড়া ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারাজের সবকটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে দিয়েছে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

এদিকে তিস্তার বন্যায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ির গ্রামের প্রায় ২০ হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে বলে জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছে। এসব পরিবারের অধিকাংশ বাড়ীতে হাটু পানিতে তলিয়ে রয়েছে। শনিবার নীলফামারী জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেন, ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, সহকারী কমিশনার ভুমি মিল্টন চন্দ্র রায়, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নায়েমা তাবাচ্ছুম শাহ তিস্তার বন্যা ও ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেন।

শনিবার সন্ধ্যা থেকে তিস্তা নদীর বৃদ্ধি পেয়ে টেপাখড়িবাড়ীর চরখড়িবাড়ী, ঝিঞ্জির পাড়া, টাবুর চর, একতা বাজার সহ আশেপাশের আরো ১০টি গ্রামের উপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। প্রচন্ড ¯্রােত আর নদীর পানির ভয়ঙ্কর ডাকেরঁ শব্দ তিস্তারপাড় কাঁপিয়ে তুলেছে। তিস্তা হিং রূপ এলাকাবাসীকে আতংঙ্কগ্রস্থ করে তুলেছে। কি হবে কি হচ্ছে তা এলাকাবাসী ভেবে পাচ্ছে না। এলাকার একতার বাজারটি তিস্তা নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়ায় হাটের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সড়িয়ে নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ী মজনু মিয়া (৬৫) জানান, এই জীবনে তিস্তার এমন রাক্ষুসী রূপ আর কখনো দেখিনি।

টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম সাহিন জানান, তিস্তা নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের ১০টি গ্রাম এখন তিস্তা নদীতে পরিনত হয়েছে। নদী এখন এসব গ্রামের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানায়, উজানের ঢলে ও ভারী বৃষ্টি পাতের কারনে তিস্তার পানি সকাল ৬টা হতে ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও। তা বিকেল ৩ টায় ১০ সেন্টিমিটারে নেমে আসে। এদিকে গত কয়েক দিনের বন্যা ও বন্যা পরবর্তি ভাঙ্গনের ফলে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লিনিক, রাস্তাঘাট, পুল কার্লবাট, বাজার বিলীন হওয়ায় শিক্ষা ব্যবস্থা অচল ও চিকিৎসা সেবা হতে বঞ্চিত হচ্ছে বানেভাসা জণগোষ্টি। স্থানীয় সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকার বলেন, বাসভাসী মানুষদের সহযোগিতার জন্য আমি সার্বক্ষনিক খোঁজ খবর নিচ্ছি। এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।