সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আশুলিয়ায় মার্ডার মামলার বাদীই যখন আসামি

৫:৪৯ অপরাহ্ন | রবিবার, জুলাই ১৭, ২০১৬ ঢাকা, দেশের খবর

সাভার প্রতিনিধি: আশুলিয়ায় চাঞ্চল্যকর এক নারী মার্ডার মামলার বাদীকেই শেষ পর্যন্ত ওই মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আশুলিয়া থানায় দায়েরকৃত ওই মামলাটির (নং-৪) বাদী জহিরুল ইসলামকে হত্যার ঘটনায় জড়িত বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। দিবাগত গভীর রাতে ভাদাইল এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার জহিরুল ইসলাম (৩৫) নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার তোলাতুলি গ্রামের মৃত আলী হোসেনের ছেলে। সে আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক বলে জানা গেছে।

muder-case

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) অভিজিৎ চৌধুরীর চৌকস তদন্তের ফলেই মামলার বাদী জহিরুলের মার্ডারের সাথে সম্পৃক্ততা থাকার প্রমাণ মেলে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, গত ১ জুন বিকেলে জিরাবো এলাকার ভাড়া বাসার তালবদ্ধ কক্ষ থেকে রুপালী বেগম (২৮) নামে এক নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। আর ঘটনার পর থেকেই নিহত ওই নারীর স্বামী বকুল পলাতক ছিলেন। এর পরদিন নিহতের স্বজনদের পক্ষ থেকে কেউ অভিযোগ না করলেও কৌতুহলী চতুর প্রতিবেশী জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এতেই খটকা লাগে তার। নিহতের স্বজনরা মামলা না করে জহির কেন করলো এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে থাকে পুলিশ। পাশাপাশি নিহতের পলাতক স্বামী রাজমিস্ত্রি বকুলকে আটকে মোবাইল ট্র্যাকিং করা হয়। এতে বকুল স্থান পরিবর্তন করলেও কললিস্টে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে একাধিকবার কথোপকথন চালাতে থাকে। অবশেষে মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে যশোর জেলার চৌগাছা নামক এলাকায় একটি বাড়িতে বকুলের অবস্থান নিশ্চিত হন তারা। পরে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে বকুলকে আটক করা হয়।

পুলিশের এস আই অভিজিৎ চৌধুরী আরো জানান, পরবর্তীতে আটক বকুল ওয়ান সিক্সটি ফোরের জবানবন্দিতে তার স্ত্রীকে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করে। এতে জহিরুল ইসলাম সহ আরো দুই জন তাকে সহযোগিতা করেছিলো বলেও জানায় সে। তবে কেন তার স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে এর প্রতি উত্তরে পারিবারিক কলহ ও অনৈতিক ব্যাপারের কথা জানা গেছে।