• আজ ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

উলিপুরে ‘তাল’ই হলো হাওয়া নুরের কাল

৭:৪২ অপরাহ্ন | রবিবার, জুলাই ১৭, ২০১৬ দেশের খবর, মফস্বল সংবাদ, রংপুর

খালেক পারভেজ লালু, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) থেকে–  তালই খেতে গিয়ে কাল হলো ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী হাওয়া নুরের। প্রতিবেশি এক কলেজ পড়ুয়া ছাত্রীর শারিরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে হতদরিদ্র পরিবারের ঐ শিশুটি ৫ দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে, জেলার উলিপুর উপজেলার পশ্চিম নাওডাঙ্গা কানিপাড়া গ্রামে। নির্যাতিতা শিশুটির মা থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও কোন প্রতিকার না পাওয়ায় মানুষজনের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

OLYMPUS DIGITAL CAMERAজানা গেছে, গত ১৩ জুলাই বুধবার বিকেলে ঐ গ্রামের চাঁদ মিয়া নামের এক ব্যক্তির তাল গাছের তাল পাড়তে আসে তারই নিকটাত্মীয় মঞ্জিলা বেগম ও নাসিমা বেগম। এসময় এলাকার ছোট ছোট শিশুরাও সেখানে ভীড় করতে থাকে। গাছ থেকে পড়ে যাওয়া একটি পাঁকা তাল এক শিশু হাতে নেয়। এসময় প্রতিবেশি সালেহা বেগম ঐ তালটি কেটে সেখানেই সবাইকে খেতে দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয় মঞ্জিলার সাথে থাকা কলেজ পড়ুয়া নাছিমা বেগম।

এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে বচসা শুরু হলে মঞ্জিলা ও নাসিমা মিলে অতর্কিতে সালেহার উপর চড়াও হয়ে কিলঘুসি মারতে থাকে। এসময় সালেহা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার শিশুকন্যা বাকরের হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রি হাওয়া নুর মাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে। নাসিমা তখন সালেহাকে ছেড়ে দিয়ে অগ্নিমূর্তি ধারণ করে ছোট ঐ শিশুটির মাথার চুল ধরে হাওয়ার মধ্যে চর্কির মতো ঘুরাতে থাকে। হাওয়া নুর মাটিতে পড়ে গেলে নাসিমা শিশুটির বুকে চড়ে কিলঘুসি মারতে থাকলে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে। এরপর শিশুটির বাবা বাবলু অসুস্থ্য শিশুকে উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।

হতদরিদ্র পরিবারের আর্থিক সামর্থ না থাকায় একদিন পর চিকিৎসক তাকে বাড়ীতে পাঠিয়ে দেন। এরপর শিশুটি বাড়ীতে বুক ও পেটে অস্বাভাবিক ব্যাথা শুরু হলে আবারও তাকে গত শনিবার উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এব্যাপারে শিশুটির মা বাদি হয়ে ঐদিনই ৩ জনকে আসামী করে থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করে। এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত পুলিশ কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেনি।

অভিযোগ রয়েছে, নাসিমা ও তার পরিবারের সাথে থানার এস.আই জাহিদের আগে থেকেই সুসম্পর্ক থাকায় প্রাথমিক তদন্তে গিয়ে উল্টো নির্যাতনকারীদের পক্ষ নিয়ে হতদরিদ্র পরিবারটিকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে।

থানার অফিসার ইনচার্জ এস.কে আব্দুল্লা আল সাইদ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, রোগীর শরীরে কাটাছেঁড়া নাই, তাই প্রসিকিউসন মামলা নেয়া যায় কিনা দেখি এস.আই জাহিদের সাথে অভিযুক্ত পরিবারের সখ্যতার বিষয়টি জানা নেই বলে জানান তিনি।