চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা তীরে ব্যাপক ভাঙ্গন: ঘর-বাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন

৮:২৮ অপরাহ্ন | রবিবার, জুলাই ১৭, ২০১৬ দেশের খবর, রাজশাহী

জাকির হোসেন পিংকু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বাখর আলী সীমান্ত এলাকার গোয়ালডুবি থেকে রোডপাড়া পর্যন্ত পদ্মা তীরে প্রায় আড়াই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ব্যাপক ভাঙ্গন চলছে।

ভাঙ্গনে ১৫০ মিটার এলাকার অর্ধশতাধিক বাড়ি, ঘর এবং প্রায় ৫০ একর ফসলী জমি ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। ভিটে-মাটি হারিয়ে ভাঙ্গন কবলিত মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে। জরুরী ভিত্তিতে এখনই ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বিশাল অংশ নদী গর্ভে চলে যাবে।indexচরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. ঝাটু ও স্থানীয়রা জানান, পদ্মা তীরে ব্যাপক ভাঙ্গন সৃষ্টি হওয়ায় কয়েকদিনে এলাকার অনেক ফসলী জমি ও আমবাগান নদীতে নেমে গেছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে প্রায় ৫০টি পরিবারের ঘরবাড়ি, ৫০ একর ফসলী জমি ও আম বাগানসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেক পরিবার মাথা গোঁজার জায়গা টুকু পাচ্ছে না। কোনমতে অন্যের জমি বা রাস্তার পার্শ্বে ঠাই নিয়েছে। ভাঙ্গন রোধে এখনই জরুরী ব্যবস্থা না নিলে বিগত ৮ বছরে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে চরাঞ্চল এলাকার উন্নয়নে নির্মিত রাস্তা, চরবাগডাঙ্গা ইউপি কমপ্লেক্স, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, বাজার, ঈদগাহসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাবে। তাই ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া এখনই জরুরী।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ শহিদুল আলম রবিবার রাতে পদ্মায় ভাঙ্গনের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তিনি নিজেই শনিবার দিনব্যাপী চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নে পদ্মা তীরে ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ইতিপূর্বে পদ্মা বামতীর সংরক্ষন বাঁধের ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা মেরামতের জন্য দরপত্র আহবান করে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, যে এলাকায় নতুন করে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে, ঐ এলাকায় গত বছর থেকেই ভাঙ্গন চলছে। ভাঙ্গন রোধে ২ হাজার মিটার এলাকার ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোফর্মা) প্রণয়ন করে তা প্ল্যানিং কমিশন হয়ে একনেকে অনুমোদনের চেষ্টা চলছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ ২/৩শ’ মিটার অংশে ভাঙ্গন রোধে অস্থায়ীভাবে জরুরী ভিত্তিতে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকার স্থায়ী আড়াই কি.মি ভাঙ্গন রোধের কাজ করা হলে তা টেকসই হবে। সে লক্ষ্যেই চেষ্টা চলছে। এ জন্য রাজনৈতিক সহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলের সহযোগীতা দরকার। এদিকে, পদ্মাতীর ভাঙ্গন রোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এগিয়ে আসার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।