• আজ ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নাটোরের ১৬টি নদ-নদী দখল-দূষণের কবলে যেন নদী নয়, কচুরিপানার ভাগাড়!


130920a2-2647-4d29-b111-0a62fb133146


তাপস কুমার, নাটোর:

নাটোরের নন্দকুজাসহ ১৬টি নদ-নদী দখল-দূষণ ও জমাট বেঁধে কচুরিপানার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। সরজমিনে দেখা গেছে, গুরুদাসপুর উপজেলার নন্দকুজা, সদরের নারদ নদ, হুজা ও গদাই নদীসহ কয়েকটি নদী ও খাল কচুরিপানায় ভরে গেছে। কোথাও যেন তিল ধারনের জায়গা নেই।

কচুরিপানার ভাগারে পরিণত হওয়ায় সহসায় নদীতে নামতে পারছেন না নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষ। নদীকে জীবিকা করে খাওয়া মানুষগুলো হয়ে পড়েছেন বেকার। স্থবিরতা নেমেছে ব্যবসা-বাণিজ্যে। স্থানীয় ব্যবসায়ী সামছুল হক শেখ, আয়নাল হক তালুকদার বাংলানিউজকে বলেন, তারা এক সময় নৌকায় করে ধান, পাট, গম সরিষাসহ চলনবিলের সকল কৃষিজাত পণ্য ঢাকা, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে নিয়ে যেতেন। আবার সেসব মোকাম থেকে নানা পণ্য এখানে এনে পাইকারি বিক্রি করতেন। কম খরচে মালামাল পরিবহন করা হতো। কিন্তু এখন বিভিন্ন মালামাল ঢাকায় নিয়ে যেতে ও আসতে অনেক খরচ হয়। মনে হচ্ছে এ নদীগুলো দেখার কেউ নেই।

ব্যবসায়ী ওমর আলী শেখ বলেন, এক সময় এসব নদীতে বছর জুড়েই পানি থাকতো। নদীতে চলাচল করতো ছোট-বড় নৌকা। নদী আর নৌকাকে ঘিরে বিলের গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড়, নাজিরপুর, সিংড়ার, বড়াইগ্রামের আহম্মেদপুর, তাড়াশের ধামাইচ, নাদোসৈয়দপুর, চাটমোহরের ছাইকোলা, অষ্টমনিষা, মির্জাপুর ভাঙ্গুড়ায় গড়ে উঠেছিল বড় নৌবন্দর। চলত রমরমা ব্যবসা-বাণিজ্য। কালের আবর্তে সেসব এখন শুধুই ইতিহাস। চলনবিল উন্নয়ন কমিটির পরিসংখ্যান সূত্র জানায়, চলনবিলে ৪ হাজার ২৮৬ হেক্টর আয়তন বিশিষ্ট ১৬টি নদী এবং ১২০ বর্গ কি. মি. আয়তন বিশিষ্ট ২২টি খাল রয়েছে। এরমধ্যে প্রধান নদী ৯টি, ২০টি খালসহ ছোট বড় বিভিন্ন বিলও রয়েছে।

নদীগুলোর মধ্যে আত্রাই, নন্দকুঁজা, গুমানী, গুড়, করতোয়া, বড়াল, তুলসিগঙ্গা, চেঁচিয়া, ভাদাই, চিকনাই ও বানগঙ্গা উল্লেখযোগ্য। যার বেশির ভাগই দখল, দুষণ আর জমাটবাধা কচুরিপানায় যার নিজস্ব গতি হারিয়ে ফেলছে। চলনবিল রক্ষা আন্দোলন কমিটির গুরুদাসপুর উপজেলা সভাপতি অধ্যাপক আতহার হোসেন বলেন, চলনবিলের বিভিন্ন খাল, বিল, নদী, নালা রক্ষা করে কৃষি উৎপাদনের মাধ্যমে চলনবিলকে শষ্যভান্ডারে পরিণত করা সম্ভব। কিন্তু প্রভাবশালীরা দখল করে সকল স্বপ্নকে ব্যর্থ করে দিয়েছেন। এ ব্যাপারে সরকারি হস্তক্ষেপ জরুরি ভাবে কামনা করছি।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার বলেন, আমরা এই উপজেলার নদ-নদী ও খাল-বিল রক্ষা ছাড়াও বিধিগত ভাবে আবাদী ও আবাসিক জমিজমা রক্ষার জন্য যথেষ্ট ভূমিকা পালন করছি।

◷ ৮:২৬ অপরাহ্ন ৷ রবিবার, জুলাই ১৭, ২০১৬ দেশের খবর, রাজশাহী