‘প্রিয়তমা’কে আটককৃত ‘জঙ্গির’ আবেগঘন চিঠি


❏ সোমবার, জুলাই ১৮, ২০১৬ Breaking News, আলোচিত বাংলাদেশ

‘কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি – কুড়িগ্রাম শহরের একটি ছাত্রাবাস থেকে গতকাল রোববার বিকালে জঙ্গি সন্দেহে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের ৪ শিক্ষার্থীকে ধরে পিটুনির পর পুলিশে দিয়েছে একদল শিক্ষার্থী। রোববার বিকেলে পৌর এলাকার উত্তর কামারপাড়াস্থ ‘তৌহিদ ছাত্রাবাস’ থেকে জিহাদি বইসহ তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন- কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর ভাঙ্গামোড় এলাকার সৈয়দ আলীর ছেলে আজিজার রহমান আজিজ (২০), ফুলবাড়ী হাসপাতাল এলাকার হাছেন আলীর ছেলে সাহজামাল (২৫), নাগেশ্বরীর চড়ুয়াপাড়া গ্রামের আনছার আলীর ছেলে নুর আলম (২০) এবং উলিপুরের ধামশ্রেণী ইউনিয়নের আব্দুল খালেকের ছেলে রিপন মিয়া (২৬)। এরা সবাই কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের স্নাতকের ছাত্র।

এ প্রসঙ্গে কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তবারক উল্লাহ্ বলেন, বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত্ব যাচাই-বাচাই করা হচ্ছে। আটকৃতদের নিয়ে অফিসাররা অভিযান পরিচালনা করছেন।

নিজস্ব তদন্ত শেষে দ্রুততম সময়ে বিস্তারিত মিডিয়ার সামনে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে ‘জড়ালেও’ ৮ম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীর সঙ্গে আটককৃত ৪ জঙ্গির মধ্যে সাহজামাল নামে এক জঙ্গির গভীর প্রেমর সম্পর্ক সম্পর্ক ছিল। অন্যদিকে নেতার হুকুম পালনে সে বদ্ধপরিকর। এ রকম এক পরিস্থিতে সাহজামাল আবেগঘন এক চিঠি লিখেছে তার ‘প্রিয়তমা’র উদ্যেশে। আটকের পর তার পকেট থেকে ওই চিঠিটি উদ্ধার করা হয়।

আটক সাহজামাল (২৫) অনার্স হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র। ফুলবাড়ী হাসপাতাল এলাকার হাছেন আলীর ছেলে।

এ প্রসঙ্গে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান সাগর বলেন, দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে নুর আলমকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরঘুরি করতে দেখে সন্দেহ হয়। ‘ওই সময় সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে তাকে আটক করি। ওই সময় তার মোবাইল ফোনে শিবিরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট দেখতে পাই।’

ওয়াহিদুজ্জামান সাগর বলেন, নুর আলমকে সঙ্গে নিয়ে কলেজের পিছনে উত্তর কামারপাড়াস্থ তৌহিদ ছাত্রাবাসে গিয়ে বৈঠক করা অবস্থায় তার তিন সঙ্গীকে আটক করা হয়। এসময় বেশ কয়েকজন পালিয়ে যায়।

‘ওই সময় জঙ্গি সদস্য বলে জানতে পেরে স্থানীয়রা তাদের গণধোলাই দেয়। পরে কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশে দিলে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।’

ওই ছাত্রাবাস থেকে বিপুল পরিমাণ জিহাদি বই, জামায়াত নেতাদের লেখা বিভিন্ন বই এবং শিবিরের চাঁদা আদায় ও আয়ের রশিদ উদ্ধার করা হয়। নিজামী ও গোলাম আযমের বিভিন্ন বই উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ সময় সাহজামালের পকেট থেকে হাতে লেখা একটি চিঠি উদ্ধার করা হয়। যেই চিঠিতে তিনি জিহাদ করতে শহীদ হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।

jongir-cithi

চিঠিতে যা লেখা ছিল,,,‘প্রিয়তমা পত্রের শুরুতে রইল আমার সালাম আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমতুল্লাহ। আজ দৈর্ঘ্য (দীর্ঘ) দিন ধরে তোমার সাথে সম্পর্ক করে এসেছি। যদি আমার অজানাতে ভুল করে থাকি তাহলে আমাকে ক্ষমা করে দিও। আর তোমার সাথে আমার ওয়াদা ছিল তা আর রাখতে পারলাম না। কারণ আমি এমন এক সংগঠনের সাথে চুক্তি বদ্ধ হয়েছি, তা দুনিয়াতে আমার জন্য কয়েদখানা এবং পরকালে রয়েছে আল্লাহর জান্নাত, তাই এই শহিদী কাফেলার নেতার হুকুম অমান্য করতে পারিনা। শহীদ হতে কোন ভয় নেই।’ সা, (শেষে এই সাংকেতিক চিহৃ ছিল)।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন