‘গুলি করেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে তিন রাজাকারের’


রবিউল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট- একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামালপুরের আট ‘রাজাকারের’ বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও অন্য পাঁচ আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। ফাঁসিতে ঝুলিয়ে বা গুলি করে এই তিন জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ রায় দেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারদী।

juddoporad_somoyerkonthosorফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মো. আশরাফ হোসেন, আব্দুল হান্নান ও মো. আব্দুল বারী। এরা তিনজনই পলাতক আছেন।

আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ প্রাপ্তরা হলেন- অ্যাডভোকেট শামসুল আলম, এসএম ইউসুফ আলী, অধ্যাপক শরীফ আহমেদ ওরফে শরীফ হোসেন, মো. হারুন ও মো. আবুল কাসেম। এ পাঁচজনের মধ্যে কেবল শামসুল হক এবং এসএম ইউসুফ আলী কারাগারে আছেন। বাকিরা পলাতক।

এর আগে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে আট আসামির বিরুদ্ধে রায় পড়া শুরু করেন বিচারপতিরা। মোট ২৮৯ পৃষ্ঠার রায়ের মূল অংশের প্রথমাংশ পাঠ করছেন বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারদী। রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় ছিলেন রাজাকার অ্যাডভোকেট শামসুল হক এবং এস এম ইউসুফ আলী।

মামলার আট আসামির মধ্যে অ্যাডভোকেট শামসুল হক এবং এস এম ইউসুফ আলী কারাগারে আছেন। তাদেরকে সকাল ৯টার দিকে পুলিশি প্রহরায় ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসা হয়েছে।

পলাতক রয়েছেন ছয়জন। এরা হলেন- আলবদর বাহিনীর উদ্যোক্তা মো. আশরাফ হোসেন, ইসলামী ব্যাংকের প্রাক্তন পরিচালক অধ্যাপক শরীফ আহমেদ ওরফে শরীফ হোসেন, মো. আব্দুল হান্নান, মো. আব্দুল বারী, মো. হারুন ও মো. আবুল কাসেম।

ট্রাইব্যুনালের এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ও তাপস কান্তি বল। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ মিজানুর রহমান, ব্যারিস্টার এহসান সিদ্দিকী ও অ্যাডভোকেট এন এইচ তামিম। পলাতক ছয়জনের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আবদুস সুবহান তরফদার।

এর আগে রোববার এই আট আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল। গত ১৯ জুন উভয়পক্ষের শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষামাণ রাখা হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধিতায় হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, লুটপাট ও গুমের মত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে এই আট আসামির বিরুদ্ধে। যুদ্ধাপরাধের পাঁচ অভিযোগে গত বছরের ২৬ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই আটজনের বিচার শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল।

যুক্তিতর্কের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আরজি জানায়। অন্যদিকে আসামিপক্ষ অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন করে। চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল এই আট আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

গত ২ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর পুলিশ শামসুল হক ও ইউসুফ আলীকে গ্রেপ্তার করে। নিয়ম অনুযায়ী বাকিদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও তারা তা করেননি।

গ্রেপ্তার শামসুল হক জামালপুর জেলা জামায়াতের প্রাক্তন আমির এবং সিংহজানি স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ইউসুফও একসময় জামায়াতের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। এই দুজন একাত্তরে রাজাকার বাহিনীতে এবং বাকি ছয়জন আলবদর বাহিনীতে ছিলেন বলে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা থেকে জানা যায়।

◷ ২:৩০ অপরাহ্ন ৷ সোমবার, জুলাই ১৮, ২০১৬ আলোচিত বাংলাদেশ, জাতীয়