সংবাদ শিরোনাম
এবার পাকিস্তানের মানচিত্র থেকে কাশ্মীর বাদ দিলো সৌদি আরব | আবারও ফেসবুকে ‘ইসলামবিরোধী’ পোস্ট, সেই যুবকের রিমান্ড চায় পুলিশ | শরীয়তপু‌রে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ১, আহত ২ | আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শনিবার বসবে পদ্মা সেতুর ৩৫তম স্প্যান | তুরস্কে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ৬, আহত দুই শতাধিক | ‘মানুষের মন থেকে পুলিশভীতি দূর করতে হবে’- রাষ্ট্রপতি | ফ্রান্স ইস্যুতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন ওজিল | যশোরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩ | নোয়াখালীর হাতিয়ায় বিধবাকে ধর্ষণ, কিশোরীকে ধর্ষণ চেষ্টায় ৩ জন গ্রেফতার | বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো শেরপুরের তীর্থ উৎসব |
  • আজ ১৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ডিমলায় সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বন্যা

৩:৩২ অপরাহ্ন | সোমবার, জুলাই ১৮, ২০১৬ দেশের খবর, রংপুর

মাজহারুল ইসলাম লিটন, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি- ভারী বর্ষন ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি আবারো বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার রবিবার সকাল ৬টা থেকে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমা (৫২ দশমিক ৪০ মিটার) ২৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বিকেল ৩ টায় তা ১২সেন্টিমিটারে নিচে নেমে আসে। হটাৎ পানি বাড়ায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ আবারো পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। শনিবার থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের কারনে বন্যা ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো মহা সংকটে পড়েছে।indexডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্ভাবাস সর্তকীকরন কেন্দ্র সুত্র মতে ভারী বর্ষন ও উজানের ঢলে সোমবার সকাল ৬টা থেকে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার (৫২ দশমিক ৫৭) উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এই পয়েন্টে বিপদসীমা ৫২ দশমিক ৪০ সেন্টিমিটার। এ ছাড়া ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারাজের সবকটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে দিয়েছে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

এদিকে তিস্তার বন্যায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ির গ্রামের প্রায় ২০ হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে বলে জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছে। এসব পরিবারের অধিকাংশ বাড়ীতে হাটু পানিতে তলিয়ে রয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যা থেকে তিস্তা নদীর বৃদ্ধি পেয়ে টেপাখড়িবাড়ীর চরখড়িবাড়ী, ঝিঞ্জির পাড়া, টাবুর চর, একতা বাজারসহ আশেপাশের আরো ১০টি গ্রামের উপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। প্রচন্ড ¯্রােত আর নদীর পানির ভয়ঙ্কর ডাকেরঁ শব্দ তিস্তারপাড় কাঁপিয়ে তুলেছে। তিস্তা হিং¯্ররূপ এলাকাবাসীকে আতংঙ্কগ্রস্থ করে তুলেছে। কি হবে কি হচ্ছে তা এলাকাবাসী ভেবে পাচ্ছে না। এলাকার একতার বাজারটি তিস্তা নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়ায় হাটের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সড়িয়ে নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ী মজনু মিয়া (৬৫) জানান, এই জীবনে তিস্তার এমন রাক্ষুসী রূপ আর কখনো দেখিনি। জিঞ্জির পাড়ার রোস্তম আলী(৭৫) বলেন, জীবনে অনেক বন্যার সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে আছি। এমন বন্যা আমার জীবনে কখনোই দেখিনি।

গত কয়েক দিনের বন্যা ও বন্যা পরবর্তি ভাঙ্গনের ফলে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,ক্লিনিক,রাস্তাঘাট,পুল কার্লবাট,বাজার বিলীন হওয়ায় শিক্ষা ব্যবস্থা অচল ও চিকিৎসা সেবা হতে বঞ্চিত হচ্ছে বানেভাসা জণগোষ্টি।

স্থানীয় সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকার বলেন, বাসভাসী মানুষের পাশে দাড়ানোর জন্য আওয়ামীলীগের একটি প্রতিনিধি দল সার্বক্ষনিক কাজ করে যাচ্ছে। এবং আমি নিজেই সব সময় খোঁজ খবর নিচ্ছি। তিস্তার বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিতে এলাকায় চলছে শোকের মাতম। বাড়ী ঘর ভিটেমাটি চোখের সামনেই দুমরে মুচরেচোখের সামনেই ভেঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে সর্বনাসী চিস্তা। নিরব দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করার নেই। শুধু চারিদিকে কান্না আর কান্নার শব্দে ভারী হয়ে আসছে পরিবেশ।