সংবাদ শিরোনাম

পেট্রাপোল বন্দরে বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ৫ হাজার ট্রাক !ইসিকে হেয় করতে যা দরকার সবই করছেন মাহবুব তালুকদার: সিইসিআশুলিয়ায় ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত-১০ভাসমান হাসপাতাল ‘জীবন তরী’এখন ঝালকাঠির সুগন্ধা নদী তীরেস্থানীয় নির্বাচনে অনিয়মের একটা মডেল তৈরি হয়েছে: মাহবুব তালুকদারবগুড়ার শেরপুর পৌরসভায় রাস্তা-ড্রেন উন্নয়নকরণ কাজের উদ্বোধনদেবীগঞ্জে সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিতহাসপাতালের লিফটে কলেজছাত্রীর লাশ ফেলে পালাল ২ যুবকটাঙ্গাইলে জেএসডি’র জাতীয় পতাকা মিছিলমাগুরায় বিভিন্ন দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ

  • আজ ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

এবার নিখোঁজদের তালিকায় ৩ তরুণী, আশংকা জঙ্গি

৫:২২ অপরাহ্ন | সোমবার, জুলাই ১৮, ২০১৬ জাতীয়

01_120366

সময়ের কণ্ঠস্বর: পরিরারের সদস্যদের কিছু না জানিয়ে উধাও হওয়াদের তালিকায় এবার যোগ হয়েছে তিন তরুণীর নাম। গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলায় জড়িত পাঁচ তরুণই দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। ঘর থেকে পালিয়ে গিয়েই তারা জঙ্গি প্রশিক্ষণ নেন এবং এক পর্যায়ে আর্টিজানে আক্রমণ করে ২০ জনকে হত্যা করেন। এরপর জানা যায়, তাদের মত আরও তরুণ একই প্রক্রিয়ায় ঘর ছেড়েছে। তেমনি ভাবেই পরিবারের সদস্যদের কিছু না জানিয়ে উধাও হওয়াদের তালিকায় এবার যোগ হয়েছে তিন তরুণীর নাম। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন এসব তরুণীও জঙ্গি তৎপরতায় জড়িয়েছে বলে সন্দেহ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

যে তিন তরুনীর নাম জানা গেছে তাদের সবাই পাসপোর্টধারী। তারা কোথায় পড়তেন, কী করতেন, তারা কোনও সংগঠনের সঙ্গে জড়িত কি না, তাদের পরিবারের সদস্যদের অবস্থান বা অবস্থা কী-সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেনি পুলিশ। কেবল এরা কোন এলাকায় থাকতেন, সে বিষয়টি প্রকাশ করেছে বাহিনীটি।

নিখোঁজদের তিন জনই থাকতেন রাজধানীর রামপুরা এলাকায়। এদের মধ্যে নাইমা আক্তারের পাসপোর্ট নম্বর বিসি ০০০৬৯৩৭। রেজওয়ানা রোকনের পাসপোর্ট নম্বর বিসি ০০৩৫১৯৮। আর রামিতা রোকনের পাসপোর্ট নম্বর বিসি ০০৪৫৩৩৯। ধারণা করা হচ্ছে রেজওয়ানা রোকন ও রামিতা রোকন সম্পর্কে পরস্পরের বোন। তবে রেজওয়ানা ও রামিতার নামের মধ্যে মিল থাকলেও তারা স্বজন কি না-তাও জানাতে পারেননি রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘নিখোঁজদের বিষয়ে আমার থানায় কেউ কিছু জানায়নি’।

এই তিনজন দেশের বাইরে চলে গেছেন কি না- সে বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ইমিগ্রেশন) ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘কেবল এই তিন তরুণী নয়, নিখোঁজ সবার বিষয়েই ইমিগ্রেশনের একটি দল কাজ করছে। তাদের প্রতিবেদন এখনও না আসায় এদের বিষয়ে (তিন তরুণী) কিছু জানাতে পারছি না’।

এ রকম নিখোঁজ তরুণদের ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে আকুতি জানানো হচ্ছে। কিন্তু ধর্ম, মানবতা ও ইসলামের স্বার্থে ফিরে আসার এই আহ্বান পাত্তা দিচ্ছে না কেউ। প্রথমে ১০ জনকে ফিরে আসার আহ্বান সম্বলিত বার্তা প্রচার হলেও এই তালিকা এখন বড় হচ্ছে। সবশেষ যোগ হলো তিন তরুণী নাইমা আক্তার, রেজওয়ানা রোকন ও রামিতা রোকনের নাম।

নিখোঁজ বেশিরভাগ তরুণের মত তিন তরুণীর পরিবারও আর্থিক দিক থেকে স্বচ্ছল এবং তারা উচ্চশিক্ষিতও। তবে কারা এবং কোথায় এদেরকে নিয়ে গেছে, সে বিষয়ে অন্ধকারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদের বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা তৎপর থাকলেও এখন পর্যন্ত গোলকধাঁধায় পড়ে আছে তারা। এখন পর্যন্ত নাম ছাড়া এই তরুণীদের বিষয়ে তেমন কোনও তথ্য দিতে পারছে না পুলিশ। আর চার তরুণের মধ্যে একজনের বিষয়ে কিছুটা তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে এই তিন তরুণীর সঙ্গে যে চার তরুণকেও ফিরে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে তাদের ব্যপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুসন্ধানে জানা গেছে, এদের একজন সেজান রউফ ওরফে অর্ক মরক্কো থাকতেন রাজধানীল গুলশান এলাকায়। তার পাসপোর্ট নম্বর ৪৭৬১৪৫৯৯২। সেজানের প্রায় সমবয়সী রামপুরার বাসিন্দা সাদ কায়েস। তিনি থাকতেন রামপুরায়। তার পাসপোর্ট নম্বর বিএফ ০৪৮৬৬৪২। রামপুরারই আরেক বাসিন্দা চিকিৎসক রোকনুদ্দীন খন্দকারের নামও আছে নিখোঁজদের এই তালিকায়। তার পাসপোর্ট নম্বর এএফ ১০১৩০৮৮। অন্যজন হলে বনানীর তাওসীফ হোসেন পাসপোর্ট নম্বর বিই ০৩৫২৭৬১ এবং ডব্লিউ ০৫৫৯২২৭। তাওসীফের বিষয়ে জানতে চাইলে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘কয়েকজন আগেও নিখোঁজ হয়েছিল বলে শুনেছিলাম। এখন আবার নিখোঁজদের নাম পাচ্ছি। এদের নিয়ে আমরা কাজ করছি তবে কেউ এখনো ফিরে এসেছে বলে কোন তথ্য আমার কাছে নেই।

গুলশান হামলার পর গণমাধ্যমে আহ্বান জানানো হলেও নিখোঁজ ১০ তরুণের কেউ ফিরে আসেননি। এই তরুণরা হলেন ঢাকার ইব্রাহীম হাসান খান, আশরাফ মোহাম্মদ ইসলাম, ঢাকার তেজগাঁওয়ের মোহাম্মদ বাসারুজ্জামান, বাড্ডার জুনায়েদ খান, ধানমন্ডির জুবায়েদুর রহিম, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নজিবুল্লাহ আনসারী, সিলেটের তামিম আহমেদ চৌধুরী, মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ওজাকি ও জুন্নুন শিকদার এবং লক্ষ্মীপুরের এটিএম তাজউদ্দিন।

র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, নিখোঁজ কিছু তরুণের বিষয়ে তথ্য পেয়েছেন তারা। তবে তাদের কেউ এই ১০ জনের মধ্যে আছে কি না তা জানাননি তিনি।