শ্রীনগরে খাল দখল করে বহুতল ভবন নির্মান করছে প্রভাবশালী

১১:২২ পূর্বাহ্ন | মঙ্গলবার, জুলাই ১৯, ২০১৬ ঢাকা, দেশের খবর

মোঃ রুবেল ইসলাম, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: উপজেলার শ্রীনগর ষোলঘর বাজারে খাল দখল করে নিয়ম বহির্ভূতভাবে বহুতল ভবন নির্মান করছে স্থানীয় প্রভাবশালী গোলাম হোসেন ওরফে কামাল ভূঁইয়া। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এই নির্মান কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

khal-dokhol

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ষোলঘর বাজারের পূর্ব দক্ষিণ পাশে কৃষি ব্যাংকের উল্টো দিকের খালপাড়ে তৈরি হচ্ছে এই বহুতল ভবন। সরকারী জায়গা দখল করে ভবন নির্মানের বিরুদ্ধে স্থানীয় সুশীল সমাজের লোক লিখিত অভিযোগ করার পরেও নির্মান কাজ রয়েছে বহাল তবিয়তে। ষোলঘর ভূমি অফিসের নাকের ডগায় অল্প কিছুদিনের ব্যবধানে যেভাবে দালান উঠে যাচ্ছে তাতে এখানে দেখার কেউ নেই বলে বলেও জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

এ ব্যাপারে ষোলঘর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ আজিজুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাই কার জমিতে কে কিভাবে দালান তুলছে তা আমার জানা নাই। যে স্থানটিতে ভবন নির্মান করা হচ্ছে সেখানে ৭ শতাংশ নামজারী থাকলেও জায়গা দখল হয়েছে প্রায় ১০-১২ শতাংশের মত। নামজারী নিয়েও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে রয়েছে সংশয়, সন্দেহ আর নানা গুঞ্জন। উপজেলা খাস জমি বন্দোবস্ত কমিটির সদস্য মোঃ আইয়ুব আলী বলেন, গোলাম হোসেন ভূঁইয়া ভুয়া কাগজপত্র আর জাল দলিল বলে সরকারী জায়গা দখল করে বহুতল ভবন নির্মান করছে বলে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ২২/০৬/২০১৬ ইং তারিখে লিখিত অভিযোগ করেছি। তিনি আরও বলেন, গোলাম হোসেন আর এস ১৯৫৬, ১৯৫৭, ১৯৬২, ১৯৬৩ ও ১৯৬৪ দাগের যে ৭ শতাংশ জায়গা নামজারী করেছেন প্রশাসন এগুলোর ভায়া দলিল চাইলে নামজারী খারিজ হয়ে যেতে পারে। আর এস রেকর্ডের তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায় ১৯৫৬, ১৯৫৭, ১৯৬২, ১৯৬৩ দাগের ৬ শতাংশ জায়গার মালিক শ্রী জয়দেব চন্দ্র সাহা ও শ্রীমতি আশা রানী সাহা। পক্ষান্তরে ১৯৬৪ দাগের ১ শতাংশের মালিক হচ্ছেন প্রাণনাথ সেন আট আনা, মাখন লাল সাহা চার আনা ও আহেতা জহির চার আনা।

উল্লেখ্য যে, ১৯৬৪ আর এস দাগের এই জায়গাটি ডাঃ মোসলেম মিয়া গংদের ১৯৭৭ সালে সরকার লিজ দিয়েছিল। যার ভিপি কেইস নং ৭৯/৭৭। এসব সম্পত্তির মালিক ও সরকারী জায়গা দখল করে বহুতল ভবন নির্মানের বৈধতা সম্পর্কে জানতে চাইলে গোলাম হোসেন ভূঁইয়া বলেন, আমার কাছে প্রশাসনের অনুমতিপত্র আছে। কিছু জানার থাকলে তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন। এ সময় বাজার কমিটির সভাপতি ইদ্রিস মিয়া উত্তেজিত হয়ে বলেন ডিস্টাব করবেন না। উনার কাজ উনাকে করতে দেন। এই বাজারে সরকারী জায়গা আর খাল দখল কইরা আরও দালান উঠছে। কই প্রশাসনতো ডিস্টাব করে না। আপনে ছবি তোলছেন কার কথায়? আমি বাজার কমিটির সভাপতি আমারে জিগাইয়া তোলছেন? এতসব দম্ভোক্তির পরও তারা বৈধ মালিকানার কোন দলিলপত্র দেখাতে পারেননি।

এ ব্যাপারে ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার হাবিবুর রহমান সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, আমি ৭ শতাংশ জায়গা মেপে দিয়ে এর বাইরে যেতে নিষেধ করেছি। শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যতন মার্মা বলেন, মনে হয় মালিকানা জায়গাতেই ভবন নির্মান হচ্ছে।

উপজেলা সহকালী কমিশনার (ভূমি) দিলরুবা শারমিন সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, আমরা সরকারী জায়গায় ভবন তুলতে নিষেধ করেছি তারা শুনে নাই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ এলাকার একজন আইনজীবী বলেন, উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট। তিনি কাজের শুরুতে যদি মোবাইল কোর্ট করে জেল জরিমানা কিংবা উচ্ছেদের ভূমিকায় যেতেন তাহলে ৯ দিনের ঈদ ছুটিতে দখলদাররা এতদূর এগুতে পারতো না।