বাধে ঠাই নিয়ে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা…

৪:৩০ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, জুলাই ১৯, ২০১৬ দেশের খবর, রংপুর

3fe311e6-acbc-49b4-a411-f77041873e65


মাজহারুল ইসলাম লিটন, নীলফামারী:

দীর্ঘ ৫৪ বছর বসবাস করার পর তিস্তার ভাঙ্গনে জমি জিরাতসহ বসতভিটা তিস্তার ভাঙ্গনে বিলিন হওয়ার পর সোমবার সন্ধ্যায় পরিবারগুলো তিস্তার ক্যাঞ্জার ড্যামে আশ্রয় নিয়েছে। একদিকে বসতভিটা ভেঙ্গে নিস্ব পরিবারগুলো বাধে আশ্রয় নেয়ার সময় বৃষ্টির কবলে পড়ে নিদারুন কষ্ঠ ভোগ করছে।

রাতেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন, খালিশা চাপানি ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরকার শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানির পটসহ প্রয়োজনীন উপকরন বিতরন করেন। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডাক্তর জেডএ ছিদ্দিকীর নেতৃত্বে একটি মেডিকেল টিম বন্যায় দুর্গম এলাকায় করছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজউিল করিম বলেন, টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ী ও টাবুর চরের ২৮১টি ও খালিশা চাপানি ইউনিয়নের খোকার চরের ২৩টি পরিবারের জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের জন্য ৬ হাজার করে টাকা ও ২ বান্ডিল ঢেউটিনের প্রস্তার মন্ত্রানালয়ে পাঠানো হয়েছে। নীলফামারীর জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ্যদের জন্য ৩৫ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।

দীর্ঘ ৫৪ বছর বসবাস করার পর সর্বনাশা তিস্তা আমাগোর জমি জিরাত সব শ্যাস কইরা দিলো, একই দিনে পথের ফকির বানায় দিলো মঙ্গলবার সকালে কথাগুলো বলেন পূর্ব খড়িবাড়ী গ্রামের মৃত আকবর আলী পুত্র বুধা মন্ডল। তিনি আরও বলেন, তিস্তা আমাগো পথের ভিখারী বানায়ে দিল। সোমবার সন্ধ্যায় তিস্তার ক্যাঞ্জার ড্যামে ৪০টি পরিবার আশ্রয় নেয়। একতার বাজার সংলগ্ন দিঘীর পাড়ের মৃত্য সয়ন আলী পুত্র মোসলেম উদ্দিন বলেন, আমার নিদারুন কষ্টে আছি। আমাগোর ভিটামাটি নিমিশেই তিস্তা বিলিন করে দিল।

একই এলাকার মৃত মইমুদ্দিনের স্ত্রী সুরতন বেওয়া (৫৫) বলেন, তিনমাস আগে পুত্রটারে বাড়ির ভিটায় করব দিছি। বন্যার তার কবরটিও লইয়া গ্যাছে, বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। ৬জনের সংসার এখন কিভাবে চলবে বলে। স্বামীটা মরার পর স্বামীর কবরের পাশে পোলাটার কবর দিছিলাম কিন্তু সোমবারের বন্যার সব শেষ হইয়া গেল। টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন বলেন, তিস্তার পানি বিপদসীমার নিচে আসার সাথে সাথে চরখড়িবাড়ী ঝিঞ্জিরপাড়া, টাবুর চর, একতার বাজারসহ সহ¯্রাধিক পরিবারের বসতভিটা ও কয়েকশত হেক্টর জমি, স্কুল পুল কালভার্ট বিলিন হয়ে যাচ্ছে।

সোমবার দুপুরে তিস্তার পানি বিপদ সীমার ২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলো জানিয়েছে ডালিয়া (পাউবো। জেলা প্রশাসক জাকীর হেসেন বলেন,বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ্য এলাকা আমি পরিদর্শন করেছি। এবং ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সার্বক্ষনিক খোজ খবর ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বলা হয়েছে। নীলফামারী-১(ডোমার/ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকার বলেন,বন্যা ওভাঙ্গনের কবলে পড়া ক্ষতিগ্রস্থ্য মানুষদের মাঝে ইতিমধ্যে সরকারীভাবে চাল শুকনো খাবার ও নগদ টাকা বিতরন করা হয়েছে। এবং সার্বক্ষনিক তাদের খোঁজ খবর নেয়ার জন্য উপজেলা আওয়ামীলীগের একটি প্রতিনিধি দল কাজ করছে।