• আজ শুক্রবার, ১৫ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ৩০ জুলাই, ২০২১ ৷

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী


❏ মঙ্গলবার, জুলাই ১৯, ২০১৬ দেশের খবর, রংপুর

ফয়সাল শামীম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি- কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমারসহ সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যহত থাকায় ২য় দফা বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদ সীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।index২য় দফা বন্যায় পানি বন্দী হয়ে পড়েছে জেলার চিলমারী, উলিপুর, রৌমারী, রাজীবপুর ও সদর উপজেলার শতাধিক চর ও দ্বীপ চরের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। বন্যার্ত এলাকায় রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যোগযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পানিতে ডুবে গেছে পাট, সবজি, কলাসহ আমন বীজতলা। এসব এলাকার বেশিরভাগ নলকুপ পানিতে তলিয়ে থাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। চারনভুমি তলিয়ে থাকায় গবাদি পশু নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছে বন্যা কবলিতরা।

এদিকে নদ-নদী তীরবর্তী চর ও দ্বীপচরের মানুষজন ২য় দফা বন্যার কবলে পড়লেও এখন পর্যন্ত কোন ত্রান সহায়তা পায়নি।

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বলদিয়া গ্রামের মফিজন বেওয়া জানান, বাড়ীর চারদিকে পানি উঠেছে। ঘরের ভিতর পানি ঢুকতেছে। কোথাও বের হওয়া যায় না ছেলে-মেয়ে গরু-ছাগল নিয়ে বিপদে আছি। গত বন্যায় কোন সাহায্য পাই নাই। এবারো কেউ খোঁজ নিতে আসে নাই।

উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের ওসমান আলী জানান, নদীর পানি যেভাবে বাড়তেছে তাতে মনে হয় আর বাড়ীতে থাকা সম্ভব হবে না। ছেলে-মেয়ে গরু-ছাগল নিয়ে উচু কোন জায়গায় যেতে হবে।

এ ব্যাপারে যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারো যাত্রাপুর ইউনিয়নের প্রায় ৯টি ওয়ার্ডই বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। ইউনিয়নের প্রায় ২ হাজার পরিবার পানিবন্দী জীবন-যাপক করছে। পানি যেভাবে বাড়তেছে তাতে গত বন্যার চেয়ে আরো বড় বন্যার আশংকা করা হচ্ছে। ২য় দফা বন্যায় মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়লেও সরকারী ও বেসরকারী ভাবে ত্রান সহায়তা দেয়ার কোন উদ্যোগ নেই। আমি আশা করি সরকার যত দ্রুত সম্ভব বন্যার্তদের পাশে দাড়াবে।

জেলা প্রশাসনের ত্রান শাখা সুত্রে জানা গেছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য ১শ মেট্রিক টন চাউল ও ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যা বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হলে বিতরন করা হবে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাহফুজুর রহমান জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে ৫৬ সেন্টিমিটার, তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ৪ সেন্টিমিটার, দুধকুমোরের পানি নুন খাওয়া পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন