• আজ রবিবার, ৪ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

সুন্দরবনের কাছে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধের দাবি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী তিন সংগঠন


❏ মঙ্গলবার, জুলাই ১৯, ২০১৬ আন্তর্জাতিক, আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –  সুন্দরবনের বেশ কাছাকাছি এলাকা বাগেরহাটের রামপালে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধের দাবি জানিয়েছে বিশ্বের তিনটি প্রভাবশালী পরিবেশবাদী সংগঠন। এ বিষয়ে জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থার (ইউনেসকো) হস্তক্ষেপ চেয়েছে এসব সংগঠন।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবনের কাছে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধের দাবি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠনফ্রেন্ডস অব দ্য আর্থ, দ্য সিয়েরা ক্লাব এবং ৩৫০ডটঅর্গ।

sun

মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, এ ব্যাপারে ওই তিন সংগঠন আবেদনপত্রের মাধ্যমে জনমত গড়ে তুলেছে। আবেদনে ৫০ হাজার স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব স্বাক্ষর সংবলিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে ইউনেসকোর কাছে।

সুন্দরবনকে বিপদাপন্ন ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের তালিকায় রাখার আবেদনও করে ওই তিন সংগঠন। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে গত রোববার শেষ হয় ইউনেসকো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির সম্মেলন। এর আগেই ইউনেসকোর কাছে ওই আবেদন জমা দেওয়া হয়।

১৯৯৭ সালে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয় বিশ্বের অন্যতম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন।

‘ফ্রেন্ডস অব আর্থ’ হচ্ছে নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামভিত্তিক একটি সংস্থা। সারাবিশ্বের ৭৪টি দেশের পরিবেশবাদী সংগঠনের নেটওয়ার্ক হিসেবে কাজ করে ওই সংস্থা।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্যালিফোর্নিয়ায় ‘৩৫০ডটঅর্গ’ এর সদর দপ্তর। ২০১৩ সালে গান্ধী শান্তি পুরস্কার বিজয়ী পরিবেশবাদীকর্মী ম্যাককিবেন ওই সংস্থার পুরোধা। সংস্থাটি কাজ করে কার্বন নি:সরণ নিয়ে। বিশ্বব্যাপী কার্বন নি:সরণ নিয়ে সচেতনতাসহ পরিবেশ ইস্যুতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে সংস্থাটি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরিবেশবাদী সংগঠন ‘সিয়েরা ক্লাব’। বিশ্ব উষ্ণায়ন হ্রাস, কয়লাভিত্তিক দূষণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে নব্বইয়ের দশক থেকে কাজ করছে সিয়েরা।

‘ক্ষমতা আছে ইউনেসকোর’

সুন্দরবন ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের অবস্থা বর্ণনা করে একটি আবেদনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী জনমত গড়ে তোলে ওই তিন সংগঠন। সেখানেই মানুষ স্বাক্ষর করে সুন্দরবন বাঁচানোর পক্ষে দাঁড়ায়।

ওই আবেদনে বলা হয়, সুন্দরবনের অত্যন্ত কাছে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ভারতের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। এতে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে মানুষ ও পরিবেশের ভবিষ্যৎ অবস্থা।

আবেদনে আরো বলা হয়, রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে লাখ লাখ টন কয়লা প্রয়োজন হবে, যা যাবে নদীপথে। বিষাক্ত দূষণের শিকারের সম্ভাবনা আছে এখানে।

আরো বলা হয়, ভারত ও বাংলাদেশ সরকারকে বার্তা দেওয়ার ক্ষমতা আছে ইউনেসকোর। বিপদাপন্ন হেরিটেজের তালিকায় সুন্দরবনের নাম উল্লেখ করে এখানে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধ করার ব্যাপারে উভয় দেশকে বার্তা দিতে পারে ইউনেসকো।

যুদ্ধ, সশস্ত্র সংঘর্ষ, ভূমিকম্প, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দূষণ, অনিয়ন্ত্রিত নগরায়নের মতো বিষয় থাকলে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের তালিকাভুক্ত এলাকাকে বিপদাপন্ন বলে ঘোষণা করে ইউনেসকো। আর এসব এলাকার উন্নয়ন বা রক্ষায় বিভিন্নভাবে কাজ করে জাতিসংঘের ওই সংস্থা।

এরই মধ্যে ভূমিকম্পের কারণে ইরানের বাম সিটি, অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে ইয়েমেনের জাবিদ শহর, সশস্ত্র সংঘর্ষের কারণে আফগানিস্তানের বামিয়ান অঞ্চল, গৃহযুদ্ধের কারণে কঙ্গোর গারামবা, কাহুজি-বিয়েগার উদ্যান, সালোঙ্গা, ভিরুঙ্গা এবং অকাপি এলাকা বিপদাপন্ন ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের তালিকাভুক্ত  হয়েছে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন