পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সতর্ক থাকুন – সৈয়দ আশরাফ

◷ ১১:২১ অপরাহ্ন ৷ মঙ্গলবার, জুলাই ১৯, ২০১৬ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –  পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের মতো মর্মান্তিক ঘটনার আর যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

soiyod

আজ মঙ্গলবার দুপুরে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের জাতীয় নির্বাহী সভা শেষে ‘জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস প্রতিরোধ’বিষয়ক এক আলোচনা সভায় এ আহ্বান জানান সৈয়দ আশরাফ।

জনপ্রশাসনমন্ত্রী এ সময় মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে বলেন, ‘সব সময়ই একটা প্রস্তুতি মনে মনে আপনার থাকা প্রয়োজন। সেটা আমি খোলামেলা বলতে চাই না, ইশারায়…। যখন ঝড় নাই, গাছের পাতাও নড়ে না, তখনই কিন্তু ভয়ের সময়, তখনই কিন্তু ঝড়টা আসে। সুতরাং আপনারা সব সময়ই সতর্ক থাকবেন।’

‘বঙ্গবন্ধুকে আমরা কিন্তু রক্ষা করতে পারি নাই। কিন্তু দ্বিতীয়বার যেন সেই এক্সিডেন্ট না হয়। সেটা কিন্তু আমরা যাঁরা মুক্তিযোদ্ধা, সেই দায়িত্ব কিন্তু আমাদেরই নিতে হবে,’ বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) হেলাল মোর্শেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া প্রমুখ বক্তব্য দেন।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র সংগঠন আখ্যা দিয়ে সরকারের লেজুড়বৃত্তি না করার পরামর্শ দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারের নেওয়া নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, এ বছর থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে। এ বছর থেকেই মুক্তিযোদ্ধারা দুটি উৎসব বোনাস পাবেন যার পরিমাণ ২০ হাজার টাকা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরই মধ্যে এ বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আরো বলেন, শিগগিরই মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাই করে সবাইকে চূড়ান্ত সনদ ও পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। পাশাপাশি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাও যাচাই-বাছাই করার কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী।

নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী যে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে, মুক্তিযোদ্ধারা সেটাকে আরো সুদৃঢ় করবেন। জাতীয় কনভেনশন করে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে এ ঐক্যকে সামনে এগিয়ে নেওয়া হবে।

আলোচনা সভা শেষে মিছিলসহ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তনে গিয়ে শপথ নেন মুক্তিযোদ্ধারা।