জাতীয় করন বাঞ্চালের প্রতিবাদে চতুর্থ বারের মানববন্ধন : কাল থেকে অনির্দিষ্ট কালের আন্দোলনের ঘোষণা

৪:০৭ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, জুলাই ২১, ২০১৬ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

মোঃ ইমাম উদ্দীন সুমন, নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর সুবর্নচর উপজেলার এক মাত্র ঐতিহ্যবাহী চর জব্বার ডিগ্রী কলেজ জাতীয় করনের অনুমোদন দেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তার কিছুদিন পর শিক্ষা ডক কম নামের একটি অনলাইন নিউজে “চর জব্বার ডিগ্রী কলেজ” জাতীয় করন থেকে বাদ দিয়ে একই উপজেলার সৈকত ডিগ্রী কলেজের নাম তালিকা প্রকাশ করে বলে একটি সংবাদ প্রকাশ করে। সংবাদ প্রকাশের পর ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে উপজেলা বাসি।

noyakhali

আগের সিধান্ত বহাল রেখে কলেজটিকে জাতীয় করনের দাবীতে গত ৪ দিন ধরে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, সড়ক অবরোধ করে আসছে জাতীয় করন থেকে বাদ পড়া চর জব্বার ডিগ্রী কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, অভিবাবক ও এলাকাবাসী একই দাবীতে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মানববন্ধন ও কলেজের সামনে মিছিল করে কলেজের ছাত্র সহ এলাকাবাসী। মানববন্ধনে অনির্দিষ্ট কালের আন্দোলন এবং মানববন্ধনের ঘোষনা দেন ছাত্র- ছাত্রীরা। এদিকে গতকাল বুধবার সকাল ১০ টায় সুবর্ণচর উপজেলার প্রাণকেন্দ্র হারিছ চৌধুরী বাজার হাসপাতাল মোড় সহ বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে কলেজ প্রাঙ্গনে এসে শেষ হয়। পরে দুই ঘন্টা ব্যাপি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে এলাকাবাসীর সতষ্ফুর্ত অংশ গ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মত।

বক্তারা অতি দ্রুত ঐতিহ্যবাহী চরজব্বর ডিগ্রি কলেজটি জাতিয়করণের সিদ্ধান্ত পুনর্বহাল রেখে দ্রুত কাজ চালিয়ে যেতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, নোয়াখালী ৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য একরামুল করীম চৌধুরী সহ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। অন্যথায় অনির্দিষ্ট কালের বৃহৎ আন্দোলনের হুমকি দেন বক্তারা। একই দাবিতে গত সোমবার দিনব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল, সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন পালিত হয়।

সরকারী কলেজ বিহীন ৩২৫ টি কলেজ সরকারী করণের জন্য নির্ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে প্রেরণ করেন। তা থেকে প্রথম পর্যায়ে ১৯৯ টি কলেজের তালিকা প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন করে। প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করেন, তার মধ্যে উপজেলা প্রাণকেন্দ্র হিসেবে ও উপজেলা প্রশাসনিক নীতিমালা অনুযায়ী চরজব্বার ডিগ্রী কলেজটি সরকারী করণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। ইতিমধ্যে শিক্ষামন্ত্রনালয়ে উক্ত কলেজ সমুহের যাবতীয় স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের উপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারী করেন। এদিকে ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি দীর্ঘ ২৩ বছর সুনামের সাথে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে এবং এর পরিক্ষার ফলাফল সন্তোস জনক। বিগত ৭ বছর যাবৎ নোয়াখালী ৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

বিগত ৯ জুলাই ১৫ তারিখে চর জব্বার ডিগ্রী কলেজকে উপজেলা হেড়কোয়াটার কলেজ হিসেবে জাতীয় করণ/ সরকারী করণের জন্য সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী অগ্রাধীকার ভিত্তিতে সদয় বিবেচনার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী বরাবরে একটি উপ-আনুষ্ঠানিক পত্র (ডিউ লেটার) প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী দপ্তর কতৃক ১১ জুলাই ২০১৫ গ্রহন করেন। পরবর্তিতে মাউশী কর্তৃক উপজেলা সদরের স্কুল, কলেজের তালিকা সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক তালিকা প্রেরনের নিদের্শে জেলা শিক্ষা অফিসার (মাধ্যমিক) যাবতীয় তথ্য উপাত্ত সহ সুবর্ণচর উপজেলার চর জব্বার ডিগ্রী কলেজ ও সৈকত ডিগ্রী কলেজ এর তালিকা প্রেরন করেন। উক্ত তালিকা মাউশী কর্তৃক প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর হয়ে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে প্রেরণ করেন।

স্থানীয় সুত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে পিছনে রেখে বেশ কয়েক দিন ধরে এক শ্রেনীর সুবিধাভোগী কর্মকর্তা অসৎ পথ অবলম্বন করে উপজেলা থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া অঙ্গনে পিছিয়ে থাকা সৈকত ডিগ্রী কলেজকে জাতীয় করণ করার লক্ষে উঠে পড়ে লেগেছে। গত ১৭ জুলাই ১৬ শিক্ষাডটকম নামে একটি ওয়েব সাইডে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের উধ্বর্তন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক চর জব্বার ডিগ্রী কলেজের স্থলে, উপজেলা প্রসাশনিক নীতিমালা পরিপন্থী ও উপজেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরত্বে মেঘনা নদীর কাছাকাছি সৈকত ডিগ্রী কলেজের নাম প্রকাশ করে এতে ক্ষোভে ফুঁসে উঠে চরজব্বার ডিগ্রী কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, অভিবাবক মহল ও সুধীজন ও এলাকাবাসী। মানববন্ধনে বক্তারা চর জব্বার ডিগ্রী কলেজটি জাতীয় করণ সিদ্ধান্ত বহাল রাখা ও দ্রুত কার্যক্রম চালিয়ে যেতে প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রনালয়, নোয়াখালী ৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী এমপি সহ সংশ্লিষ্ঠ সকলের সদয় দৃষ্টি আর্কষন করছেন।

জানা যায়, নতুন প্রশাসনিক উপজেলা স্থাপনের উদ্দেশ্যে প্রসাশনিক পুনবিনাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি নিকারে ৮৬ তম সভায় নতুন প্রসাশনিক উপজেলা সংক্রান্ত উপজেলা স্থাপনের বিষয়ে নিম্ন লিখিত প্রসাশনিক উপজেলা নীতিমালা প্রনায়ন করা হয়। সে মোতাবেক (ঘ) অনুচ্ছেদে উপজেলা সদরের প্রাল কেন্দ্র হতে জেলা সদরের সাথে সুষ্ঠ যোগাযোগ ব্যবস্থা বজায় থাকবে। সে অনুযায়ী ২০০৫ সালের ৪ ঠা এপ্রিল রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে গন প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় স্থানীয় সরকার বিভাগ উপশাখা তারিখ ২ এপ্রিল ২০০৫ নবসৃষ্ঠ সুবর্ণচর উপজেলা সদও দপ্তর হইতে চর জুবলী ইউনিয়নের চর জুবলী মৌজার নামক স্থানে সে অনুযায়ী উপজেলা পরিষদ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রসাশনিক নীতিমালা (গ) অনুচ্ছেদ মোতাবেক নদী ভাঙ্গন মুক্ত এলাকা হইবে। (চ) অনুচ্ছেদ উপজেলা কমপ্লেক্স ও থানা কাছাকাছি হওয়া বাঞ্চনীয়। (ছ) অনুচ্ছেদ প্রস্তাবিত স্থানে হাট/ বাজার বা ব্যবসা কেন্দ্র পোষ্ট অফিস, স্কুল, কলেজ, স্বাস্থ কেন্দ্র, সেবা প্রদান কারী প্রতিষ্ঠান, থানা, ব্যাংক, মাদ্রাসা, সরকারী, বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ইতিবাচক হিসেবে গন্য হইবে বর্তমানে সব কিছু বিদ্যমান সে উদ্দেশ্যে চরজুবলী ইউনিয়নের প্রাণ কেন্দ্রে উপজেলা সদরের ১ কিলো পশ্চিমে সোনাপুর, চরজব্বার, স্টিমার ঘাট, আঞ্চলীক সড়কের উত্তর পার্শে ৩ একর ভূমির উপর মনোরম পরিবেশে চরজব্বার ডিগ্রী কলেজটি ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটি দীর্ঘ ২৩ বছর সুনামের সাথে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।

নোয়াখালী ৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী অগ্রাধীকার ভিত্তিতে বিবেচনার জন্য চর জব্বার ডিগ্রী কলেজ জাতীয়করণ করার লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি উপ আনুষ্ঠানিক পত্র (ডিও লেটার) পাঠান। তারই পরিপেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী ২০১৫ সালের ১১ জুন একটি স্বারকে কলেজটি যাচাই বাচাইয়ের জন্য নির্দেশ দেন। যাহা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরকতৃক উপজেলা প্রসাশনিক নীতিমালা (ঞ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে উপজেলা সদরদপ্তরের নির্দিষ্ট এলাকা সহ আসপাশের এলাকা লইয়া উপজেলা মাষ্টার প্লান তৈরি করতে হবে, যাতে এলাকাটি ভবিষ্যতে একটি পরিকল্পিত উপজেলা শহর হিসেবে গড়িয়ে উঠতে পারে। স্থানীয় সরকার বিভাগ গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রনালয়ের সহযোগিতায় সর্ব বিষয়ে প্রয়োজনিয় উদ্দেগ্য গ্রহন করিবে। উপজেলা নীতিমালা অনুযায়ী মাস্টার প্লানে ৫ মাইল দুরত্বে কখনো গ্রহন যোগ্য নয় ।

উল্লেখ্য যে, গত বছরের ৯ অক্টোবর, সুবর্ণচর উপজেলা সদরের দেড় কিলোমিটার কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও চর জাব্বার ডিগ্রি কলেজকে তিন নম্বরে ও ৬ কিলোমিটার দূরে হওয়ার পরও সৈকত ডিগ্রি কলেজকে তালিকার এক নম্বরে স্থানে রাখা হয়েছে। ফলে প্রশাসনের দেওয়া দূরত্বসীমার ভুল তথ্যের কারণে সরকারিকরণে বঞ্চিত হচ্ছিল চর জাব্বার ডিগ্রি কলেজ। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রেরিত সূবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের স্বারক নম্বর ৪২১-এর মাধ্যমে উপজেলার এমপিওভূক্ত কলেজ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তথ্য প্রেরণের ছকে হাতিয়া উপজেলা সীমানা সংলগ্ন এবং উপজেলা পরিষদ থেকে সৈকত ডিগ্রি কলেজের দূরত্ব ৬ কিলোমিটারের স্থলে তিন কিলোমিটার উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, চরজাব্বার ডিগ্রি কলেজের দূরত্ব দুই কিলোমিটার দেখানো হয়।

এসিল্যান্ডের যোগদান সালথায় নবাগত এসিল্যান্ডের যোগদান

সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২০