• আজ বৃহস্পতিবার, ৫ কার্তিক, ১৪২৮ ৷ ২১ অক্টোবর, ২০২১ ৷

এরদোয়ানের জ​নপ্রিয়তার তিন কারণ…


❏ বৃহস্পতিবার, জুলাই ২১, ২০১৬ আন্তর্জাতিক

news_picture_34925_ardhoan1


আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

শুধু নিজের স্মার্টফোনে ধারণ করা একটা ভিডিও বার্তার মাধ্যমেই তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান গত শুক্রবার রাতে বিদ্রোহী সেনাসদস্যদের অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। বিশ্লেষকদের মতে, অত্যন্ত জনপ্রিয় না হলে এভাবে জান্তার ট্যাংক থামিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। ওই ঘটনার পর থেকেই এরদোয়ানের ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তার কারণ অনুসন্ধান শুরু করেছেন অনেকে।

ইস্তাম্বুলের সিটি হলের সামনের সড়কে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অন্যদের মতো এরসিল কোর্কমাজও (২৯) গিয়েছিলেন প্রেসিডেন্টের সমর্থনে র‍্যালিতে অংশ নিতে। সরকারি চাকরিজীবী এই ব্যক্তির সঙ্গে ছিল তার ছোট ছোট দুই মেয়েও। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রেসিডেন্টকে খুবই ভালোবাসি। বিজেতা মেহমেতের পর তিনিই আমাদের সেরা নেতা।’ বিজেতা মেহমেত ছিলেন ১৪৫৩ সালে কনস্ট্যানটিনোপল জয় করা অটোমান সুলতান।

এরদোয়ান ও তার রাজনৈতিক দল একে পার্টির জনপ্রিয়তার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সমর্থকেরা প্রায়ই তিনটি কারণের কথা উল্লেখ করেন। প্রথমত, এরদোয়ান নিজেকে ‘জনগণের একজন’ বলে মনে করেন এবং তার কাজেকর্মেও এর প্রতিফলন দেখা যায়। সমাজের নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষেরা তুর্কি এই প্রেসিডেন্টের ক্ষমতায় আসার আগে ছিল উপেক্ষিত।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিভাগে তুরস্কবিষয়ক বিশ্লেষক আসলি আয়দিনতাসবাস বলেন, ‘সমাজ ও রাষ্ট্রের ক্ষমতা কুক্ষিগত করা উঁচু শ্রেণির মানুষের কাছ থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়েছে একে পার্টি। আগে রাষ্ট্রযন্ত্রের সবগুলো অঙ্গের কার্যক্রমই ছিল জনগণবিমুখ। কিন্তু এখনকার প্রশাসন জনগণের প্রশাসন।’

এরদোয়ানের জনপ্রিয়তার আরেকটি কারণ ধর্মীয় ইস্যু। ১৯২০ সালে মুস্তফা কামাল আতাতুর্ক আধুনিক তুরস্কের গোড়াপত্তন করার পর থেকেই দেশটির সমাজব্যবস্থায় ইসলাম ধর্ম গুরুত্ব হারাতে শুরু করে। কিন্তু ধর্মীয় রক্ষণশীল একে পার্টি ক্ষমতায় আসার পর আবারও সমাজের মূলধারায় ফিরেছে ইসলাম। এ ব্যাপারে শোভাযাত্রায় যোগ দেওয়া সরকারি কর্মকর্তা এরসিল কোর্কমাজ তুরস্কের পতাকা নাড়তে নাড়তে বলেন, ‘এরদোয়ানের আগে মানুষ দুর্নীতিগ্রস্ত আর পথভ্রষ্ট হয়ে পড়েছিল।’

এরদোয়ানের সমর্থকদের মতে, তার জনপ্রিয়তার তৃতীয় কারণ অর্থনীতি। ২০০৩ সালে ক্ষমতায় আসার পর এরদোয়ানের সরকার দেশের অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নতি সাধন করেছে। এর মধ্যে অনেকগুলো সেতু নির্মাণ, সড়ক সংস্কার ও নির্মাণ এবং মেট্রোরেল উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা খাতেও উন্নতি সাধন করেছে এই সরকার। আঙ্কায়া নামের এক ব্যক্তি সরকারি হাসপাতালে কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত তার মায়ের চিকিৎসা করানোর সুযোগ পাওয়ায় এরদোয়ানকেই ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

প্রেসিডেন্টের সমর্থনে শোভাযাত্রায় যোগ দেওয়ার সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এরদোয়ানের নির্বাচনের আগে আমার মায়ের চিকিৎসাই করাতে পারছিলাম না। কিন্তু ক্ষমতায় এসে তিনি স্বাস্থ্যসেবা খাতে সংস্কার করার পর সরকারি হাসপাতালে সপ্তাহে তিনবার করে বিনা মূল্যে মায়ের ডায়ালাইসিস করাতে পেরেছি।’

তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এরদোয়ান দেশের স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগব্যবস্থায় উন্নতি সাধন, বয়স্ক ভাতার প্রচলন ঘটিয়ে এবং মুদ্রাস্ফীতি ঠেকিয়ে জনগণকে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভাবার সুযোগ করে দিয়েছেন।’ – দ্যা গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণে প্রথম আলো’র প্রতিবেদন।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন