• আজ সোমবার, ২ কার্তিক, ১৪২৮ ৷ ১৮ অক্টোবর, ২০২১ ৷

সহযোদ্ধাদের দেয়ালে দেয়ালে ‘মিতিল আপা’ স্মরণ আর তার মুক্তিযোদ্ধা হয়ে ওঠার গল্প


❏ শুক্রবার, জুলাই ২২, ২০১৬ স্পট লাইট

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –   মুক্তিযোদ্ধা ও নারীনেত্রী শিরিন বানু মিতিল সবার ‘মিতিল আপা’ আর নেই! কিন্তু দিনব্যাপী ফেসবুকে সহযোদ্ধাদের মনে স্মরণে বিচরণ করেছেন তিনি। বুধবার মধ্যরাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে যাওয়ার পর থেকে সহযোদ্ধাদের দেয়ালে দেয়ালে ‘মিতিল আপা’ স্মরণ আর তার মুক্তিযোদ্ধা হয়ে ওঠার গল্প।
.

৭১-এ তাকে নিয়ে ”The shy girl with a gun” শিরোনামে প্রতিবেদন করে স্টেটসম্যান, যা সে সময় শুধু তাকে নয়, পুরো মুক্তিসংগ্রামকে দিয়েছিল নতুন পরিচয়। মিতিলের অবশ্য, ওই প্রতিবেদনটি নিয়ে আক্ষেপ ছিল। কেননা, এরপরই মূলত মুক্তিসেনা ক্যাম্পে তার আসল পরিচয় জানার কারণে চুল ছোট করে, শার্ট-প্যান্ট পরে ভাইদের সাথে সে যাত্রায় রণাঙ্গনে যাওয়া হয় না তার। অপেক্ষা করতে হয়, আরো কয়েক মাস।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক কাবেরী গায়েন তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, বৃত্ত্বা রায় দীপাদির ফেসবুক থেকে জানলাম, মুক্তিযোদ্ধা শিরিন বানু মিতিল আর নেই। অবিশ্বাস্য! বড় অসময়ে এই চলে যাওয়া। সাহসী, সরল, মায়াবী, স্নেহপ্রবণ, ঋজু এই মুক্তিযোদ্ধার প্রতি অশেষ ভালোবাসা। শ্রদ্ধা। তিনি আজীবন মুক্তিযোদ্ধাই থেকেছেন।

অ্যাক্টিভিস্ট শাকিল অরণ্য লিখেছেন, পাবনা জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি, বামপন্থী নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা শিরিন বানু মিতিল আর নেই। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে থ্রিনটথ্রি হাতে শহীদ বীরকন্যা প্রীতিলতাকে অনুসরণ করে পুরুষের পোশাক পরিধান করে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেওয়া বীরযোদ্ধা এই নারী বুধবার মধ্যরাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৬৫ বছর। মুক্তিযোদ্ধা শিরিন বানু মিতিল তাঁর সাহসিকতার জন্যই আজীবন বাঙালির হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবেন। মহান এই নারীকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

.

শাকিল অরণ্যের ফেসবুক স্ট্যাটাসবৃত্বা রায় দ্বীপা লিখেছেন, শিরিন বানু মিতিল, অমার মিতিলদি- গতকাল রাতে আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে গেছে না-ফেরার দেশে! রাত একটা পাঁচে অঞ্জনের ফোনে এই অবিশ্বাস্য দু:সংবাদ পেলাম। চলে গেল আমার পরম আত্মীয়।শোকাতুর নির্ঘুম রাত কাটলো।

খুব ছোটবেলা থেকেই মিতিলদি আমার এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। ১৯৭১ সালে পাবনা যখন অবরুদ্ধ, মিতিলদি প্রত্যক্ষ সমরে অংশ নিয়ে মুক্ত করেছিল পাবনা। পাবনাস্থ টেলিফোন- অফিস সম্মুখ সমর, ডাববাগানের যুদ্ধ, সেসময়ের এক একটা মাইল ফলক। বামপন্থী বিশ্বাস লালন করতেন, ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের একনিষ্ঠ কর্মী। মুক্তিযুদ্ধে অস্ত্র হাতে অংশ নিতে ছেলেদের পোশাক পরে চুল কেটে ভিড়ে গিয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের কাতারে। সেই রোগা পাতলা মিতিলদিকে দেখে তখন নাকি দলের অনেক মুক্তিযোদ্ধাই প্রশ্ন করতো- তুমি কি মিতিলের ছোটভাই? টানা চার মাসেও সহযোদ্ধারা তাঁকে চিনতেই পারেননি।

মিতিলের মরদেহ বারডেমের হিমঘরে রাখা হয়েছে।শুক্রবার সকাল ১০টায় তাঁর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নেওয়া হবে।তাঁর মৃত্যুতে সহযোদ্ধাদের পাশাপাশি শোকপ্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।
১৯৫০ সালের ২ সেপ্টেম্বর পাবনায় খোন্দকার শাহজাহান মোহাম্মদ ও মা সেলিনা বানু দম্পতির ঘরে জন্ম নেন শিরিন বানু মিতিল।মা সেলিনা বানু পাবনা জেলার ন্যাপ সভানেত্রী এবং ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট সরকারের এমপি ছিলেন। বাবা ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন